দেশে বাণিজ্যিকভাবে শৈবাল চাষের দ্বার উন্মোচন

0
31

কৃষি ডেস্ক: ছোটো পরিসরে শৈবাল চাষে আলোর মুখ দেখায় দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা এটি বাণিজ্যিকভাবে বড়ো পরিসরে চাষের সম্ভাবনা দেখছেন। বর্তমানে দেশে প্রায় চার শতাধিক কৃষক শৈবাল চাষ করছেন। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার সঙ্গে ওষুধ ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে শৈবালের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তাই উদ্যোক্তারা চাইলে সমুদ্র উপকূলের এই অর্থকরী ফসলটি চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এখন উদ্যোক্তারা শৈবাল চাষে গেলে যেমন লাভবান হবেন, ঠিক তেমনি শৈবালের চাষও বিস্তৃত হবে। এতে করে অর্থনীতিতে দেশ এগিয়ে যাবে।


বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, শুরুতে বাংলাদেশে ১০২ গ্রুপের ২১৫ প্রজাতির শৈবালের মধ্য থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও তার নিকটতম অঞ্চল থেকে ১২ প্রজাতি শৈবাল সংগ্রহ করা হয়। আবার এরমধ্যে ৮ প্রজাতি থেকে সফলতা পাওয়া যায়। এ ৮ জাতের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দেশীয় ব্র্যসেলিয় ও সবুজ রঙের শৈবাল চাষে বেশি সফলতা পাওয়া গেছে। তবে বাকি ৬ প্রজাতি শৈবালও চাষ করা সম্ভব।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) তত্ত্বাবধানে Capacity Building for Conducting Adaptive Trials on Seaweed Cultivation in Coastal Areas নামে একটি প্রকল্পের অধীনে সমুদ্রের উপকূলে শৈবাল চাষ ও গবেষণা শুরু হয়। মূলত এখান থেকেই দেশে শৈবাল চাষ নিয়ে বড়ো সফলতা দেখা মিলতে থাকে।


এ বিষয়ে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএআরআই এর কক্সবাজার অফিস প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরফুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ২০১৬ সাল থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও সদর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের সাগর পাড়ের জলাশয়গুলোতে গবেষণার মাধ্যমে শৈবাল চাষ শুরু হয়।


এই গবেষণা কার্যক্রমে অন্তত ২০ জন বিজ্ঞানী, ১০ জন বৈজ্ঞানিক সহকারী, ১৫ জন সম্প্রসারণ কর্মী, আগ্রহী উদ্যোক্তা এবং ৪০০ জনের অধিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গত দুই বছর ধরে এসব কৃষকরা বছরে প্রায় আড়াইশো মেট্রিক টন শৈবাল উৎপাদন করছেন। প্রতি হেক্টরে দেশীয় ব্র্যসেলিয় জাতের শৈবাল উৎপাদন হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ মেট্রিক টন। সবুজ রঙের ২০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। কেজি ভেদে গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে শৈবাল।


দীর্ঘ কয়েক বছরের শৈবাল চাষ ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় এ কৃষি বিজ্ঞানী বলেন, আমরা এখন উদ্যোক্তাদের অপেক্ষায় আছি। চাইলে যেকোনো উদ্যোক্তা বড়ো পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে শৈবাল চাষ করতে পারেন। মূলত সামুদ্রিক পরিবেশ ও পানি দরকার হয় এসব জাতের শৈবাল চাষ করতে। তাই এ জাতের শৈবাল চাষ করতে হলে সামুদ্রিক উপকূল এলাকায় আসতে হবে। অবশ্য আমরা বাসা বাড়ির শৈবাল চাষ নিয়েও গবেষণা করছি।


তিনি জানান, উদ্ভাবিত ওই প্রজাতিগুলো চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত সময় (অক্টোবর-এপ্রিল) ও পরিবেশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও জাপানি একটি সামুদ্রিক শৈবাল প্রজাতিকে (উলভা ল্যাকটুকা বা সামুদ্রিক লেটুস) বাংলাদেশের উপকূলে চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।


কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, শৈবাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি। কসমেটিকসহ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here