দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ: জাতিসংঘ মহাসচিব

0
507
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ।

অনলাইন ডেস্ক
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হলো এই মহামারি। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যে ধরনের আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, সে রকমটা সম্ভবত নিকট অতীতে দেখা যায়নি। আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর করোনা প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি এসব কথা বলেছেন। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রেই ১ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে মহাসচিব গুতেরেস বলেন, নতুন করোনা ভাইরাস সমাজগুলোর মূলে আঘাত করছে, মানুষের জীবন ও জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশে দেশে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা বিশ্বে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারে। বিশ্বে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

গুতেরেস বলেন, ‘জাতিসংঘ গঠনের পর আমাদের সামনে সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা হিসেবে এসেছে কোভিড-১৯।’ মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও এর সমাপ্তি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে অতিসত্বর সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশকে সহায়তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে বিশ্বব্যাংক করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো ধাক্কার ব্যাপারে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, করোনার কারণে অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তাতে সব দেশই তাৎপর্যপূর্ণভাবে আক্রান্ত হবে। থাইল্যান্ডের পর্যটন খাত এবং ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনার প্রভাব পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here