দ. এশিয়ায় ভয়াবহ দারিদ্র্যের শঙ্কা ইউনিসেফের

0
156

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ায় গত কয়েক দশকে শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কোভিড-১৯ মহামারির আঘাতে এই অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার আবারও দারিদ্র্যে ডুবে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ।

বিশেষ করে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যার আবাস এই অঞ্চলে মহামারি দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়তে থাকায় ৬০ কোটি শিশুর ওপর তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করে জাতিসংঘের সংস্থাটি
মঙ্গলবার ইউনিসেফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘লাইভস আপএন্ডেড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাসের প্রভাব তুলে ধরে এ অঞ্চলের সরকারগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে টিকাদান, পুষ্টি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা পরবর্তী ছয় মাসে চার লাখ ৫৯ হাজার শিশু ও মায়ের জীবন হুমকির মুখে ফেলেছে।

এতে আরও বলা হয়, লকডাউনের সময় বাংলাদেশে টিকাদান পরিষেবা পাওয়ার সীমিত সুযোগ এবং অভিভাবকদের সংক্রমণের আশঙ্কার কারণে এপ্রিল মাসে কেবলমাত্র অর্ধেক শিশু নিয়মিত টিকা নিতে পেরেছে।

ইউনিসেফ সারাদেশে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে অপুষ্টির চিকিৎসায় ব্যবহৃত থেরাপিউটিক দুধ সরবরাহ করলেও তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সেবা গ্রহণের হার জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যবর্তী সময়ে ৭৫ শতাংশ কমেছে।

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বস্নুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের প্রকাশিত একটি জরিপের বরাত দিয়ে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির পরোক্ষ প্রভাবে আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি ২৮ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক জ্যাঁ গফ বলেন, ‘লকডাউন এবং অন্যান্য পদক্ষেপসহ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মহামারির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নানাভাবে শিশুদের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তবে শিশুদের ওপর অর্থনৈতিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হবে সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন মাত্রায়। এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিলে কোভিড-১৯ পুরো একটি প্রজন্মের আশা ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমু হোজুমি বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশেও এর ক্রমবর্ধমান ক্ষতির প্রেক্ষাপটে শিশুদের ওপর এর প্রভাবে ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। জীবন রক্ষাকারী টিকাদান কার্যক্রম এবং পুষ্টিজনিত সেবা অব্যাহত রাখতে হবে এবং যেহেতু বাবা-মায়েরা এসব সেবা অনুসন্ধান করে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দেন, তাই তারা যাতে নিরাপদে থাকে সেটাও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। স্কুলগুলোকেও যত দ্রম্নত সম্ভব নিরাপদে পুনরায় চালু করতে হবে এবং শিশুদের জন্য হেল্পলাইনগুলোকেও চালু রাখতে হবে। ইউনিসেফ এই সবক্ষেত্রেই সরকারকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here