ধনীদের উপর যাকাত ফরজের কারণ

1
217


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন-“ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। যথা- (১) আল্লাহ ছাড়া উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, এ কথার সাক্ষ্য দান; (২) নামাজ কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, (৪) হজ করা, এবং (৫) রমজান মাসে রোজা রাখা।” (বোখারী শরীফ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬)


ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। ইমান ও নামাজের পরেই যাকাতের স্থান। ওহির বাণী আল কুরআনের অনেক আয়াতে মহান আল্লাহ নামাজের সাথে সাথে যাকাতের কথা উল্লেখ করে স্বীয় বান্দাদের যাকাতের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন- “তোমরা নামাজ কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো। তোমরা নিজেদের জন্য উত্তম কাজের যা কিছু পূর্বে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছুই করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবই দেখেন।” (সূরা আল বাকারাহ ২: আয়াত ১১০)


যাকাত আরবি শব্দ। এর অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া ও পবিত্রতা। যাকাত ধনীদের উপর ফরজ। এটি আদায় করা হলে শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কতক ধনী ব্যক্তির হাতে ধনসম্পদ পুঞ্জীভূত না থেকে তা গরিবদের মধ্যেও বণ্টন হয়ে থাকে। আল্লাহ বলেন- “যাকাত তো শুধু তাদের হক, যারা গরিব, মিসকিন, যারা যাকাত আদায়ের কাজে নিযুক্ত, যাদের অন্তর (ইসলামের দিকে) আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য; এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি মহাবিজ্ঞানী।” (সূরা আত তাওবাহ ৯: আয়াত ৬০)
মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশিত পথে যাকাত আদায় হলে, সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন তথা উন্নতি হয়। এজন্য যাকাতের অর্থ ‘বৃদ্ধি পাওয়া’ বলা হয়েছে। অপরদিকে ধনীদের সম্পদের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা গরিবদের জন্য একটা অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটি তাদের হক বা ন্যায্য পাওনা। আল্লাহ বলেন-“আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক বা অধিকার।” (সূরা আয যারিয়াত ৫১: আয়াত ১৯)


ধনীরা যদি গরিবের এই হক বা অধিকার যথাযথভাবে আদায় করে দেয়, তবে গরিবদের আর্থিক সমস্যা অনেকটা লাঘব হয় এবং ধনীদের অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। এদিক বিবেচনা করেই যাকাতের অর্থ ‘পবিত্রতা’ বলা হয়। সুতরাং যাকাত গরিবদের প্রতি ধনীর অনুগ্রহ নয়, বরং তাদের প্রাপ্য অধিকার। আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ থেকে, আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় করবে এই উদ্দেশ্যেই ধনীর উপর যাকাত ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন- “মানুষের ধনসম্পদে তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এ আশায় তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে তা ধনসম্পদ বৃদ্ধি করে না। পক্ষান্তরে আল্লাহর চেহারা মোবারকের সন্তুষ্ট লাভের জন্য তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক, তাই বৃদ্ধি পায়। আর যাকাত প্রদানকারীরাই সমৃদ্ধশালী।” (সূরা আর রূম ৩০: আয়াত ৩৯)
প্রকৃতপক্ষে ধনীদের পার্থিব সম্পদের প্রতি আসক্তি হ্রাস করার অনুশীলনই যাকাত আদায়ের মূল উদ্দেশ্য।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here