ধর্ম মানুষকে চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা দেয়- সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী

0
264

বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, তরিকত জগত হচ্ছে আল্লাহর সাথে যোগাযোগের জগত। এই তরিকত জগতের মাধ্যমে নবি-রাসুলগণ মোরাকাবা করে আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছেন। আল্লাহর সাথে তাঁদের যোগাযোগ হয়েছে, কথোপকথন হয়েছে। আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাঁর নবি-রাসুলদের কাছে নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই নির্দেশ মোতাবেক তাঁরা জাতিকে ধর্ম শিক্ষা দিয়েছেন। এখনও পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। যদিও বিভিন্ন ধর্ম বিভিন্ন রকমের, সেটা সময়ের পার্থক্যে হয়েছে। আসলে ধর্ম মানুষকে মুক্তির শিক্ষা দেয়, চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা দেয়, আশেকে রাসুল হওয়ার শিক্ষা দেয়। যারা সঠিকভাবে ধর্ম পালন করে, তারাই আলোকিত মানুষ হয়, চরিত্রবান মানুষ হয়। মৃত্যুর পরেও তাঁরা অমর থেকে যায়।

তিনি গত ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ‘আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’’ উপলক্ষ্যে মাসিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমরা এখন যে অনুষ্ঠানটি পালন করছি, এই অনুষ্ঠানটা আগে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে সরাসরি করতাম। কিন্তু দেশের এই মহামারির কারণে সরকার যেই নিয়ম বলে দিয়েছে, সেই নিয়মের মধ্যে আমাদেরকে চলতে হয়। তাই আমি বলে দিয়েছি, আপনার যার যার এলাকায় খানকাহ শরীফে অনুষ্ঠান পালন করবেন। যদি এই মহামারি বিদায় হয়, তাহলে আবার আল্লাহ দয়া করে আমাদেরকে একত্র হওয়ার সুযোগ করে দিবেন। আমাদের ১১টা দরবার শরীফ এবং শতাধিক খানকাহ শরীফও আছে। এগুলোতে নিয়মিত তরিকার শিক্ষা ও তালিম দেওয়া হয়।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমি চাই মানুষ যেন চরিত্রবান হয়ে আল্লাহ এবং রাসুল (সা.)-কে পেতে পারে। আমার এখানে শতাধিক পির এসেছেন, যাদের শত শত মুরিদ আছে। ঐ পিরেরাও আমার নিকট থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন। এই শিক্ষার মাধ্যমে সবাই তরিকার কাজ করছেন। ফলে আমাদের এই তরিকার আমল পছন্দ করেন তারা এবং প্রচার করছে সেটা। এই দেখে একটা দল হিংসা করে এবং ফেতনা করার চেষ্টা করে। আমি যখন আমার মোর্শেদের দরবারে যাই, আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার জন্য। যাওয়ার পরে প্রথম তারিখেই আমার মহান মোর্শেদ আমাকে জিজ্ঞাস করলেন, আপনার নাম কী? আমি বললাম, মাহবুব-এ-খোদা। মোর্শেদ বললেন, আচ্ছা নাম তো। অর্থাৎ, মোর্শেদের এই নাম খুব পছন্দ হয়েছে। কথা হওয়ার পরে আলোচনা করে বলছিলেন, আপনি আমার সাথে দেখা না করে যাবেন না। আমি চাচ্ছিলাম সারাটা সময় মোর্শেদের সামনে কীভাবে থাকা যায়। আল্লাহ সুযোগ করে দিলেন। আমাদের এক জাকের ভাই এসে বললেন, আপনি কি নিরাপত্তার ডিউটি করবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। কী করতে হবে? তখন আমাকে একটা আনসারের টুপি দিলেন। টুপিটা আগ্রহ নিয়ে মাথায় পড়লাম। তাই সব জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হলো। মোর্শেদ যখন হুজরা শরীফ থেকে বের হতেন, ওনার সাথে সাথে আমি থাকতাম। এভাবে ডিউটির পরে মোর্শেদের দয়া হলো। এরই মধ্যে ঢাকার লঞ্চ ছাড়বে মাইকে ঘোষণা দিয়েছে, আমি অপেক্ষা করছিলাম। তখন মোর্শেদের সাথে দেখা হলো। রাত ১২টার সময় মোর্শেদ যখন বাইরে আসলেন, তখন আমি বললাম, বাবাজান! আমাদের তো বিদায় হয়ে গেছে। আপনি বলছিলেন, আপনার সাথে দেখা করে যেতে। তখন উনি আমাকে দাঁড়াতে বললেন এবং জানালেন, আমার তরিকার নিয়ম কাছে থেকে শিখতে হয়। দরবার শরীফে এসে কিছুদিন থাকেন। আর বললেন, আপনি মানুষকে তরিকা দিবেন, ক্বালব দেখাবেন, পারবেন? আমি বললাম, জি না, পারব না। মোর্শেদ বললেন, আপনি পারবেন। দ্বিতীয় বারও বললাম আমি পারব না। উনি আবার বললেন, আপনি পারবেন। আমি তখন বললাম, আপনি নির্দেশ দিলে আমাকে তো তরিকা দিতেই হবে।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মোর্শেদের এই নির্দেশের পর থেকে তরিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আজ পর্যন্ত কত লোককে যে তরিকা দিলাম আল্লাহই ভালো জানেন। মাহফিলে, গ্রামে-গঞ্জে, দেশে-বিদেশে সব জায়গায় তরিকা দিচ্ছি। আপনারা জানেন, তরিকা যারা দেয় তারা ক্বালব দেখিয়ে তরিকা দেয়, কিন্তু এক সময় আমার এখানে লোকের এত বেশি চাপ পড়লো, আমার পক্ষে ক্বালব দেখানো সম্ভব ছিল না। তখন মাইক দিয়ে বলে দিতাম, আপনারা যার যার শাহাদাত অঙ্গুলি দিয়ে ক্বালবে হাত দেন। হাত দেওয়ার পরে বলতাম, দেখেন আপনাদের ক্বালবে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ জি¦কির হচ্ছে, খেয়াল করেন। জাকেরেরা বলত যে, জি¦কির হচ্ছে। হাজার হাজার লোকদের এভাবে ক্বালব চালু করে দেওয়া হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে তরিকা নিতে চাচ্ছে, আমি তাদেরকে মোবাইলে তওবা পড়িয়ে তাদেরকে ক্বালবে সবক দিয়ে থাকি। ঐভাবেই তাদের ক্বালব চালু হয়েছে। এভাবে আমাদের তরিকাটা বিস্তার হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যে তরিকা দিলাম এটার নাম ‘মোহাম্মদী ইসলাম’। হযরত মোহাম্মদ (সা.) হলেন আল্লাহর রাসুল। সুতরাং আমরা রাসুলের ধর্ম প্রচার করছি। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতের মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর ধর্ম জগত থেকে বিদায় হয়ে গেছে। হযরত রাসুল (সা.) স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তাঁর গদিতে উমাইয়াদের কতগুলো বানর এক দিক দিয়ে লাফিয়ে উঠছে, আরেক দিক দিয়ে নামছে। এই স্বপ্ন দেখে হযরত রাসুল (সা.) দুঃখ পেলেন। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে স্বপ্নের বিষয়টি জানালেন। হযরত রাসুল (স.)-কে আল্লাহ বললেন, আমিতো আপনাকে পুরষ্কৃত করেছি। আমিতো আপনাকে উচ্চ স্থান দিয়েছি।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। আপনারা আলোর পথে আসেন, আর নিয়মিত তরিকার কাজ করেন। তরিকার কাজ করলে অবশ্যই আপনারা উপকৃত হবেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর যারা অনুসারী, তারাতো রাসুল (সা.)-কে পাবেই, পেতেই হবে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মের লোক আমার কাছে আসে, এসে ক্বালবে জি¦কির খেয়াল করে আশেকে রাসুল হয়, হযরত রাসুল (সা.)-কে দেখে থাকে। হযরত রাসুল (সা.)-কে দেখার আগ্রহ তাদের মধ্যে জাগে, তখন তারা হযরত রাসুল (সা.)-কে দেখতে পায়। আপনারও নিয়মিত ওয়াজিফার আমল করবেন, তরিকা পালন করবেন এবং নিয়মিত জলসায় সামিল হবেন। সিরাতুল মোস্তাকিমে বহু বাধা, অসংখ্য বাধা এবং এত ঝড়, চিন্তাও করতে পারবেন না। হযরত রাসুল (সা.)-কে জীবনে ৮০টি যুদ্ধ করতে হয়েছে। কোনো কোনো যুদ্ধ নিজে, আবার কোনো যুদ্ধ সাহাবিদেরকে দিয়ে পরিচালনা করেছেন।


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মহব্বতের সাথে নিয়মিত আমল করবেন, দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ রাখলে, কখন কী হয় আপনারা জানতে পারবেন। আমাদের তরিকায় যারা বিপথগামী এদেরকে তাড়িয়ে দেই। আমার এখানে দেখা যায় দলে দলে লোক আসে, কিন্তু চরিত্র সংশোধন না হলে দলে দলে বের করে দেই। যার চরিত্র নাই, তার কোনো ধর্ম নাই। চরিত্রহারা লোককে আমি স্থান দেই না। আমি বলেছি আমার এখানে কোনো পির হবে না। আমার এটা কোনো তরিকা নয়। এটি হযরত রাসুল (সা.)-এর ইসলাম, যা হযরত রাসুল (সা.) হেরা গুহায় মোরাকাবা করে আল্লাহর সাথে যে পদ্ধতিতে যোগাযোগ করেছিলেন, তা কোনো কিতাব ছিলো না, তিনি মোরাকাবা করে ওহির মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করেছেন, আর সেটাকে মোহাম্মদী ইসলাম বলে। কিন্তু উমাইয়ারা ক্ষমতায় এসে এটাকে বানিয়েছে দ্বীন ইসলাম। এখন আমরা জানি দ্বীন ইসলাম। দ্বীন ইসলাম মানে ইসলাম ধর্ম। এই ইসলামটা কার ইসলাম? যার ইসলাম তাঁর নাম কি থাকবে না? আমি রাসুল (সা.)-এর ইসলামকে মোহাম্মদী ইসলাম বলেছি, এটি প্রকাশ করেছি। এখন আমি দেশে-বিদেশে মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করছি।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমরা নিয়মিত মোহাম্মদী ইসামের ওয়াজিফার আমল করি, করতে বলি, শিক্ষা দিয়ে থাকি। আপনারা দেশ ও বিদেশে যারা থাকেন, তারা বিদেশ থেকেই সব সময় যোগাযোগ করবেন। অনেক সময় আমল করলে কারো কারো কাশফ খুলে যায়। অন্তর চক্ষু দিয়ে স্বপ্নে ভালো ভালো বিষয় দেখে। তারা হযরত রাসুল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখে। ঐ রকম স্বপ্ন যদি দেখেন, আপনারা মোর্শেদ ছাড়া অন্যদের কাছে বলবেন না, বললে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এখানে টেলিফোনে যোগযোগ করবেন, যে নাম্বার আছে সেই নাম্বারে যোগাযোগ করবেন, তখন আমি শুনে ব্যাখা দিয়ে দিবো। এই সহজ পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য আমরা এই ব্যবস্থা চালু করেছি। আমাদের জাকেরতো বেশি, লোকসংখ্যা অনেক ফলে আমাদের সামলানো কষ্ট হয়। এই কারণেই এগারোটা দরবার প্রতিষ্ঠা করেছি।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আপনারা নিয়মিত যোগযোগ করবেন। আমার সন্তানেরা সবাই অনার্স ও মাস্টার্স-এ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার পর, তাঁরা সবাই পিএইচ.ডি করেছে। এরা কয়েকজন ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে। তাঁরা আবার যেভাবে পারে তরিকা প্রচারে সময় দিচ্ছে। আমি আমার চার ছেলের উপরে দায়িত্ব দিয়েছি যে, তোমরা মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করো। তাঁরা প্রচারের কাজ করছে। দায়িত্ব দিলাম মেজো হুজুরকে, সে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর বাকীরা তাকে সহযোগিতা করছে। তাঁদের সাথে যোগাযোগ করবেন। কারণ আমাদের ধর্ম সঠিকভাবে শিখতে হবে। ধর্ম শিক্ষা করে ধর্ম করলে শান্তি পাওয়া যায়। মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করবেন। আমার এখানে যারা উল্টা পাল্টা করে আমি এদেরকে দরবার থেকে বের করে দেই। তাড়িয়ে দেওয়ার কারণগুলো আমি আগেও আপনাদেরকে বলেছি। যেমন আপনাদের সাথে যারা পড়াশুনা করে মেট্রিক পাস করেছে, পরে তাদের অনেকেই মাস্টার্স পর্যন্ত যেতে পারেনি। তরিকতেও আপনার সাথের লোক যারা ছিল, দেখা যায় এখন এরা আর নেই। এরা পিছিয়ে গেছে। সুতরাং এই তরিকতে মঞ্জিলে মকসুদে পৌছতে পারবে এরকম লোকের সংখ্যা কম। আমরা চেষ্টা করি আপনি যেন আল্লাহকে পান। এখন আপনি যদি রিপুর তাড়নায় আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন, এজন্যতো আমি দায়ী নই।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, ইদানিং একটা সমস্যা হয়েছে, যেটা আপনাদেরকে জানাতে হয়। আমার স্ত্রী কুতুবুল আকতাব ছিলেন। আমি একবার আমার মোর্শেদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাবাজান! আমাদের জাকের ভাই-বোনদের মধ্যে কোনো কুতুব নেই? তখন উনি বললেন, আপনার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, তার দলে কতজন আছে? তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, তার ছবক ছিল ক্বালবে। এরপরে আমি তাকে পর্যায়ক্রমে অনেকগুলা ছবক দিয়েছি। সে ছবকগুলো আমল করেছে। করার পরে আমিই তাকে কুতুবুল আকতাব বানিয়েছি। কুতুবুল আকতাব হচ্ছে দেশরক্ষক অলীদের প্রধান। তখন সে কুতুবুল আকতাব হিসেবে যথেষ্ট কাজ করেছে।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমাদের এখানে মহিলাদেরকেও ক্বালব দেখানোর নিয়ম রয়েছে। আমি পুরুষদের ক্বলব দেখিয়ে দেই। আর মহিলাদেরকে ক্বলব দেখিয়ে দিতো আমার স্ত্রী। আমার স্ত্রীর অবর্তমানে আমার মেয়েকে তখন বলেছি, তুমি মহিলাদেরকে ক্বলব দেখিয়ে দাও। আর তাকে বলেছি এই নিয়ম মেনে চললে তুমি কুতুবুল আকতাব থাকবে। সে দীর্ঘদিন এই নিয়মে কাজ করেছে। এখন তার স্বামীর প্ররোচনায় পড়ে সে কুতুবুল আকতাবের শর্ত ভঙ্গ করেছে। তাই তার স্বামীর সাথে তাকেও আমি বিপথগামী বলেছি। কিন্তু সে যখন মহিলাদেরকে তরিকা দিয়েছে, আমার নাম বলেই তরিকা দিয়েছে। অন্য কারো নামেতো তরিকা দেয় নাই। তারা আমার কথা বলেই তরিকা দিয়েছে। আপনারা যারা দেশে-বিদেশে আশেকে রাসুল মহিলারা আছেন, আপনাদের চিন্তার কোনো কারণ নাই। ছবকতো আমার নামেই দিয়েছে। আপনারাতো আমার মুরিদ। সুতরাং এই নিয়ম মেনে চলবেন। তরিকার কাজ করবেন। বিভ্রান্তিতে তারা যাক। আমিতো তাদেরে বিপথগামী বলে দিয়েছি। যারা বিপথগামী, এদের কথা শুনলে উপকার হবে না।


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করেন। এটা হলো আল্লাহর দয়া। আসলে আমাকে প্রথমে মোজাদ্দেদের (সংস্কারক) দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরে আরো কাজ করার পরে আমাকে ইমামতের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আরো কাজ করার পরে আমাকে মোহাম্মদী ইসলামের পুর্নজীবনদানকারী খেতাব দিয়েছেন। আরো কাজ করার পরে আমাকে আম্বিয়ায়ে কেরামের বেলায়েত দান করা হয়েছে। আরো কাজ করার পরে আমাকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখানো হয়েছে, এটাই আমার শেষ লকব। পূর্ণিমার চাঁদে দেখানোর পরে সারাদেশ থেকে আশেকে রাসুলরা দলে দলে মিছিল করে আসতে থাকে। তখন আমি জিজ্ঞাস করেছি যে, আসলেই কি আপনারা দেখেছেন? অনেকে শপথ করে বলেছে যে, আল্লাহর কসম করে বলছি- আমরা আপনাকে দেখেছি এবং আপনাকে চিনেছি। আপনাকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখেছি। ঐ সময় বিদেশের পত্রিকায়ও, ইতালির বার্তা সংস্থা ও ক্যালেন্ডারে ছবি দিয়ে লিখেছে পূর্ণিমার চাঁদে একজন মহামানবকে দেখা যায়। ইতালির সেই ক্যালেন্ডার আমাদের এখানে সংরক্ষিত আছে।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আশেকে রাসুলরাতো প্রতি মাসেই পূর্ণিমার চাঁদে দেখে থাকেন। আমি তাদের বলেছি যে, আপনারা সবাইকে জানান চাঁদে যে দেখা যায়। কারণ এটা হলো আমার শেষ প্রমোশন। এ বিষয়ে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার পরে রাব্বুল আলামিন বলেছেন, আমি উনাকে আকাশের চাঁদে দেখিয়েছি উনি আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু, তা প্রচার করার জন্য।
তিনি বলেন, এতো বড়ো ঝড় আমার বিরুদ্ধে গেছে, সকল ঝড়ে আশেকে রাসুল হিসেবে হযরত রাসুল (সা.)-এর দয়ায় রাব্বুল আলামিন আমাকে সাহায্য করেছেন। আপনারা নিয়মিত তরিকার কাজ করেন। বিপদে পড়লে আপনিও সাহায্য পাবেন। বিপদ-আপদে পড়লে আমি জাকেরদেরকে পরামর্শ দেই মানত করতে। মানত করলে আল্লাহর সাহায্যটা পাওয়া যায় সহজে এবং উপকার হয়। মানতের পরিমাণ মোরাকাবা করে ঠিক করতে হয়। আর মানতের টাকা দরবার শরীফে আদায় করতে হয়। আমাদের দরবারের অ্যাকাউন্ট আছে, এই অ্যাকাউন্টে মানতের টাকা আদায় করবেন। অনেক টাউট বাটপার আছে মানতের টাকা আত্মসাৎ করে, কিন্তু যে মানত করে তারতো মানত আদায় হয় না। ফলে আবার বিপদ চাপে। সুতরাং ঐ টাউটগুলোর কাছে মানতের টাকা দিবেন না। সরাসরি দরবারে দিবেন এবং দরবারের অ্যাকাউন্ট আছে যোগাযোগ করে দিবেন। যেভাবে পরামর্শ দেই সেভাবে আদায় করে দিবেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) আমাদের কাছে চলে এসেছে। আমি আপনাদেরকে আগেই বলে দিচ্ছি আগামী ঈদে মিল্লাদুন্নবীতে আল্লাহ যদি আমাদেরকে সাহায্য করেন, আমরা তা উদযাপন করব। এর জন্য আপনারা যার যার এলকায় এখন থেকে দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। প্রচার শুরু করেন। ঈদে মিল্লাদুন্নবীতে সবাই শরিক হন। যদি করোনা থাকে, তবে আমরা আশুরার অনুষ্ঠানের মতো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান করব।


বাদ জুমা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ‘আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’ উপলক্ষ্যে মাসিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে সমস্ত আশেকে রাসুলদের পক্ষ থেকে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন- মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা ও সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here