নগরায়ণে বাড়ছে রোগবালাই

0
327

অনলাইন ডেস্ক: দিন দিন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সারা পৃথিবীতেই বেড়েছে নগরায়ণ। বাড়তি মানুষের অন্ন-বস্ত্রের জোগান দিতে, বাসস্থান গড়ে তুলতে কেটে ফেলা হচ্ছে গাছপালা। জঙ্গল কেটে ফেলায় আবাসস্থল হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। মানুষের শরীরে রোগ সংক্রমণ ছড়াতে পারে-এমন প্রাণীরা চলে আসছে মানুষের সংস্পর্শে।
এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক বনভূমি উজাড় করার ফলে বন্য পশুপাখি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আর তাদের জায়গায় আসে এমন সব প্রাণী যার থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে অজানা সব রোগবালাই। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক ভূমি বিনষ্ট করার ফলে ছোঁয়াচে রোগ বহনকারী প্রাণীদেরই বেশি সুবিধা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, নতুন আবিষ্কার হওয়া প্রতি চারটি সংক্রামক ব্যাধির মধ্যে তিনটিরই উৎপত্তি এ ধরনের প্রাণী। চীনের যে বাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি হয় সেখানে বাদুড়, প্যাঙ্গোলিনের মতো এমন কিছু প্রাণী কেনাবেচা হয় যা কি না, করোনা ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।
অনেক গবেষক মনে করছেন, করোনা ভাইরাসও হয়তো এমনই নগরায়ণের কুফল। তারা বলেন, আমরা যখন বন-জঙ্গল কেটে সাফ করে সেখানে ফসলের খেত তৈরি করি, গোচারণভূমি তৈরি করি কিংবা জনপদ গড়ে তুলি তখন প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের গবেষক রোরি গিবস বলেন, আমাদের গবেষণা থেকে জানতে পেরেছি, যেসব প্রাণী মানুষের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকে, তাদের মধ্য থেকে মানুষের শরীরে রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, গন্ডারের মতো দীর্ঘজীবী প্রাণী, যাদের বসবাসের জন্য বিশেষ ধরনের পরিবেশের প্রয়োজন হয়, বনভূমি ধ্বংস করা হলে তাদের জায়গায় এমন সব প্রাণীর বংশবৃদ্ধির সুযোগ বেড়ে যায় যারা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ইঁদুর জাতীয় অনেক প্রাণী বেশ কয়েক ধরনের রোগের জীবাণু বহন করে। এক গবেষণায় ৭ হাজার প্রজাতির ওপর ১৮৪টি গবেষণার উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এদের মধ্যে ৩৭৬টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here