নতুন নিরাপত্তা ফিচার এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ

0
235

প্রযুক্তি ডেস্ক : কোভিড-১৯- মানুষকে যতটা বন্ধুবান্ধব ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে টেক দুনিয়ার দাপুটে পন্যগুলো ততটাই মানুষকে খুব কাছে এনে দিতে ব্যস্ত রয়েছে। এখন যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠেছে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডাক্তার, শিক্ষক ও দূরবর্তী প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ সময়ে ব্যবহারকারীদের সব বার্তা এবং কলগুলোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত বছর একাধিকবার ফরোয়ার্ড করা হয়েছে- এমন মেসেজ নির্দেশ করতে ‘ডাবল অ্যারো’ চিহ্নটি হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। এই চিহ্নের অর্থ মেসেজটি যে পাঠিয়েছে তার নিজের লেখা নয়; বরং অন্য কারও কাছ থেকে আসা মেসেজ। কার্যত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সাধারণ বার্তাগুলোর তুলনায় এই বার্তাগুলো কম ব্যক্তিগত। এ সময়ে হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা এখন একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে এই বার্তাগুলো একবারে শুধু একটি চ্যাটেই ফরোয়ার্ড করা যায়।

ব্যক্তিগত মেসেজিং সার্ভিস হিসেবে চ্যাটগুলোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। উদাহরণস্বরূপ, মেসেজগুলো ভুল মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজগুলোর জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করার ফলে বিশ্বব্যাপী অনাকাঙ্খিত মেসেজ ফরোয়ার্ড হ্রাস পেয়েছে ২৫ শতাংশ।

কিন্তু সব ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজ ভুয়া নয়। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, মজার ভিডিও, মিম এবং যে দোয়াগুলো তাদের কাছে অর্থবোধক বলে মনে হয় সেগুলো ফরোয়ার্ড করেন। সম্প্রতি ব্যবহারকারীরা ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে জনসমর্থন পাওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে। তবে ফরোয়ার্ডিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে কখনও কখনও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভুল তথ্য ছড়াতে ভূমিকা রাখছে। হোয়াটসঅ্যাপের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই মেসেজগুলো ছড়ানোর গতি কমানোর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এই পরিবর্তন ছাড়াও মানুষ যাতে সঠিক তথ্য পেতে পারে সেজন্য এনজিও এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে এমন ২০টিরও বেশি জাতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই বিশ্বস্ত মাধ্যমগুলো সেই আগ্রহী ব্যবহারকারীদের সরাসরি তথ্য ও পরামর্শ সংবলিত মেসেজ প্রেরণ করেছে। কিভাবে ভুয়া তথ্য ও গুজব করোনা ভাইরাস ইনফরমেশন হাবের ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলোর কাছে রিপোর্ট করতে হবে সে সম্পর্কেও জানতে পারে এই পরিস্থিতিতে মানুষের একে অন্যের সঙ্গে আগের চেয়েও বেশি সংযুক্ত থাকা প্রয়োজন। এই বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ যাতে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের যোগাযোগে ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য সংস্থাটির টিম কঠোর পরিশ্রম করছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া শুনে সে অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে থাকবে সংস্থাটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here