নবিজির দুই ফুল ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.)

0
441

প্রিয় নবির প্রিয় দৌহিত্র, নয়নমণি, জান্নাতের ফুল হোসাইন (রা.)। তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি শারীরিক গঠনে অনেকটা হযরত রাসুল (সা.)-এর মতো ছিলেন। এ ব্যাপারে হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, লোকদের মাঝে দৈহিক কাঠামোয় হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হাসান ইবনে আলীর তুলনায় বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিল না। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৭৬)
পৃথিবীতে তিনি ছিলেন হযরত রাসুল (সা.)-এর সুগন্ধময় ফুল। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হাসান ও হোসাইন দুজন এই পৃথিবীতে আমার দুটি সুগন্ধময় ফুল। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৭০)
যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতায় ফুলকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। প্রিয় নবি হযরত রাসুল (সা.) তাঁর দুই দৌহিত্রকে ফুলের উপমা দিয়ে আমাদের বুঝিয়েছেন যে তিনি তাঁদের কতটা ভালোবাসতেন। আর হোসাইন (রা.) ছিলেন সেই দুই সৌভাগ্যবানের একজন। হযরত রাসুল (সা.)-এর ভাষ্য মতে, তিনি হবেন জান্নাতি যুবকদের সর্দারদের একজন। হযরত রাসুল (সা.) বলেছেন, হাসান ও হোসাইন প্রত্যেকেই জান্নাতি যুবকদের সর্দার। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৬৮)।
তাঁদের প্রতি রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে অবসরে তাঁদের দুজনকে বুকে জড়িয়ে রাখতেন এবং যারা তাঁদের ভালোবাসবে তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক রাতে আমার কোনো প্রয়োজনে নবি (সা.)-এর কাছে গেলাম। অতএব হযরত রাসুল (সা.) এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে একটা কিছু তাঁর পিঠে জড়ানো ছিল, যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার প্রয়োজন সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কী? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উন্মুক্ত করলে দেখা গেল তাঁর দুই কোলে হাসান ও হোসাইন (রা.)। তিনি বলেন, এরা দুজন আমার পুত্র (দৌহিত্র) এবং আমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দুজনকে ভালোবাসি। সুতরাং তুমি তাদের ভালোবাসো এবং যে ব্যক্তি এদের ভালোবাসবে, তুমি তাদেরও ভালোবাসো। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৬৯)
ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি হযরত রাসুল (সা.)-এর অকৃত্রিম ভালোবাসার মাত্রা কতটুকু, তা আরেকটি ঘটনা দ্বারা আরো বেশি উপলব্ধি করা যায়। একদিন হোসাইন (রা.) গলির মধ্যে খেলছিলেন। হযরত রাসুল (সা.) সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি লোকদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে দিলেন। বালকটি এদিক-ওদিক পালাতে থাকল। কিন্তু রাসুল (সা.) তাকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখলেন এবং অন্য হাত তার মাথার তালুতে রাখলেন। তিনি তাকে চুমু দিলেন এবং বলেন, ‘হোসাইন আমার থেকে এবং আমি হোসাইন থেকে। যে ব্যক্তি হোসাইনকে ভালোবাসে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবাসেন। হোসাইন আমার নাতিদের একজন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৪)
অতএব, আমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাই, আমাদের অবশ্যই হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা স্থাপন করতে হবে। তিনি যাদের ভালোবাসতেন তাদের ভালোবাসতে হবে। হোসাইন (রা.) ও হাসান (রা.)-কেও আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে হবে।
সংকলিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here