নিরাপদ রাখুন অনলাইন অ্যাকাউন্ট

1
265

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হবার খবর এখন প্রায়ই শোনা যায়। হ্যাকারদের কবলে পরে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য, ছবির নিরাপত্তা দিতে পারছেন না। অনেক স্পর্শকাতর বিষয় আছে যা হ্যাকারদের হাতে পৌঁছলে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে টাকাসহ অনেক মূল্যবান কিছু হারাতে হয়। তবে প্রযুক্তি ঝুঁকি যেমন আছে তেমনই এর থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়ও আছে। সামান্য সচেতনতা ও ব্যবহারবিধি জানলেই নিজের মূল্যবান ফেসবুক বা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখা সম্ভব।

প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে সেটিংস-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

পাসওয়ার্ড নির্বাচন
আপনি যখন ই-মেইল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলবেন তখনই কিছু ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড যেন কিছুতেই জানাশোনা কিছুর নাম বা নাম্বার না হয়। যদি কারো নাম বা নামের কিছু অংশ কিংবা মোবাইল নাম্বার বা নাম্বারের কিছু অংশ দিয়ে থাকেন তবে এটা একটা দুর্বলতা হিসেবে কাজ করবে। কারণ আপনার পরিচিত অনেকেই আপনার নাম বা পরিবারের সকলের নাম ও মোবাইল নাম্বার জানে। তাই পাসওয়ার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আকারে বড়, অক্ষরের ভিন্নতা, আপার কেসলোয়ার কেস মেনটেইন করা, বিভিন্ন বিশেষ চিহ্নের সম্মিলিত ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে যে পাসওয়ার্ডই দেবেন তা মনে রাখতে হবে। ভুলে গেলেই আবার সেটা চেঞ্জ করার ঝামেলা পোহাতে হবে। পাসওয়ার্ড এমন কোনো জায়গায় লিখে রাখা যাবেনা যেটা অনেকেরই হাতের নাগালে থাকে।

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন
পাসওয়ার্ড একটি মামুলি ব্যাপার হয়ে গেছে। এখন পাসওয়ার্ড কাউকে দিলেও সে আপনার আইডিতে লগইন করতে পারবেনা। এখন টেক সংস্থাগুলো সেই ব্যবস্থাও রেখেছে। আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা দিতে আছে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন।

এটি এমন একটি সিস্টেম যেটা চালু করে রাখলে আপনার পাসওয়ার্ড জানার পরেও কেউ আপনাকে ছাড়া আপনার অ্যাকাউন্ট-এ লগইন করতে পারবেনা। আপনার নিজের ডিভাইস ছাড়া অন্য কেউ অন্যকোনো ডিভাইসে আপনার কোনো অ্যাকাউন্টে লগইন করতে গেলে আপনার ডিভাইসে সতর্ক বার্তা আসবে ও একটি গোপন কোড নাম্বার আসবে। যদি ঐ নাম্বারটি কেউ না জানে তবে কখনোই সে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবেনা। এমনকি আপনিও ঐ গোপন নাম্বার ছাড়া নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবেন না। এই গোপন নাম্বারটি আপনার মোবাইল বা অথেন্টিকেশন এপ এ চলে যাবে যা দিয়ে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টটিকে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন করেছেন। যদি আপনি মোবাইল নাম্বার দিয়ে ভেরিফাই করেন তবে অনেকসময় মোবাইলে গোপন নাম্বারের এসএমএস আসতে বেশ দেরি হয়। টেক জগতের সাথে যারা জড়িত তাদের পরামর্শ থাকে ব্যবহারকারীরা যেন গুগল অথেন্টিকেশন এপ ব্যবহার করে।

গুগল অথেন্টিকেটরের সুবিধা
এটি সকল ব্যবহারকারীর জন্য ইউনিক কোড জেনারেট করে অর্থাৎ সাড়া বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ এই এপস ব্যবহার করলেও প্রতি জনের জন্য আলাদা কোড পাঠায়। এতে একজন আরেকজনের কোড পেয়ে যাবার কোনো সম্ভাবনা থাকেনা।

প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর এই ইউনিক কোডটি চেঞ্জ হয়। যা এই কোড অন্যের কাছে বেহাত হবার সকল সম্ভাবনা দূর করে। এটি আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও কোড জেনারেট করবে। এটি প্লেস্টোরে পাওয়া যায়। গুগলের নিজস্ব এপ। কোন থার্ড পার্টি এপ নয়। তাই নিরাপত্তার ব্যপারে শতভাগ নিশ্চিত হতেই পারেন ।

মাইক্রোসফট অথেন্টিকেটর
অনেকেই মাইক্রোসফটের ইমেইল সার্ভিস আউটলুক ব্যবহার করে। সেইসাথে আউটলুক আইডি ফেসবুকের প্রাইমারী ইমেইল হিসেবে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে আপনার উল্লিখিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেতে গুগল অথেন্টিকেটরের জায়গায় ব্যবহার করতে হবে মাইক্রোসফট অথেন্টিকেটর। এই এপ এর কাজও গুগল অথেন্টিকেটর এপ এর হুবহু ।

ফেসবুকের নিরাপত্তায়ও কেন প্রয়োজন এই অথেন্টিকেটর অ্যাপ?
ফেসবুকের টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন আপনি ইমেইল ও মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে করতে পারেন। আপনি যেটি সিলেক্ট করবেন সেটিতেই লগইন এর সময় মেসেজ আকারে একটি কোড যাবে। আপনি ফেসবুকে লগইন করার সময় আপনার মোবাইল বা মেইলে যে কোড আসবে তা ফেসবুকে লিখে দিলেই লগইন করতে পারবেন। এখন কথা হলো এতসবের পরেও কেন গুগল বা মাইক্রোসফট অথেন্টিকেটর ব্যবহার করতে হবে? এর কারণ হলো আমরা ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য একটি প্রাইমারী ইমেইল ব্যবহার করি পাশাপাশি মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করি। এখন হ্যাকার কোনোভাবে যদি ইমেইলের দুর্বলার সুযোগ নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া ইমেইলে লগইন করে ফেলে তবে পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে সে ফেসবুক আইডি দখল করে নিতে পারবে। তাই ফেসবুকের পাশাপাশি যে ইমেইল দিয়ে ফেসবুক খোলা হয়েছে সেটিও শতভাগ নিরাপদ রাখতে হবে।

ফেসবুকে নিরাপদ থাকতে যে সাধারণ নিয়মগুলো মনে মানতে হয় –

  • ফেসবুকে ব্যক্তিগত তখ্য সবসময় অনলি মি রাখতে হবে। বিশেষ করে জন্মতারিখ।
  • ট্রাস্টেড কনটাক্ট লিস্টে কমপক্ষে ৩জন বিশ্বস্ত বন্ধুকে এড রাখতে হবে। কখনো আপনার অ্যাকাউন্ট লক হলে তাদের প্রয়োজন হবে।
  • এক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্ট-এ অন্য কেউ লগইন করার চেষ্টা করলে আপনার কাছে নোটিফিকেশন চলে আসবে।
  • মেসেঞ্জারে অপরিচিত ব্যক্তি হতে আসা কোনো অপ্রয়োজনীয় লিংক-এ ক্লিক করবেন না।
  • ফেসবুকের লোকেশন শেয়ার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • ফেসবুকে ব্যবহার করা প্রাইমারী ইমেইল ও ফোন নাম্বার অনলি মি করে রাখতে হবে।
  • সিকিউরিটি এন্ড লগইন সেটিংস অপশনে গিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট কোনো ডিভাইস থেকে লগইন করা আছে ও সাম্প্রতিককালে করা হয়েছে তা দেখুন। আপনার ডিভাইস ছাড়া অন্যকোনো ডিভাইস থেকে লগইন শো করলে বুঝতে হবে অন্য কেউ আপনার আইডি ব্যবহার করছে। এমনটি হলে লগ আউট অল সেশন এ ক্লিক করবেন।
  • টাইম লাইন আন্ড ট্যাগিং অপশন অন রাখবেন যেন আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ আপনার টাইম লাইনে কিছু লিখতে বা শেয়ার করতে না পারে।
  • সেটিংস এ গিয়ে ফেইস রিকগনিশন এনাবল করে রাখুন। এতে করে আপনার ফটো ও ভিডিও কেউ অন্যকোথাও ব্যবহার করলে আপনার কাছে নোটিফিকেশন চলে আসবে।
  • প্রতিনয়ত অনলাইন সিকিউরিটি এপডেট জেনে রাখুন। কারন হ্যাকাররা প্রতিনয়তই নিত্যনতুন পন্থায় ধোকা দেয়ার জন্য জাল বিছিয়ে রাখে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here