নিরাপদ রাখুন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস

0
293

প্রযুক্তি ডেস্ক: বাংলাদেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের ৮০% অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত স্মার্টফোন ব্যবহার করেন । প্রাত্যহিক ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজও স্মার্টফোন কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৮৭% অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসই নিরাপত্তাহীন । কম্পিউটার ব্যবহারকারীগণ তথ্যের নিরাপত্তায় অত্যন্ত আগ্রহ ও সাবধানতা থেকে বিভিন্ন এন্টিভাইরাস ইন্সটল করেন ও নানাধরনের সাবধানতা অবলম্বন করেন, অন্যদিকে স্মার্টফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক ব্যবহারকারীই যথেষ্ট সচেতন নয়। কোনো ডিভাইস যখন ইন্টারনেটে যুক্ত হয় তখন সেটিকে নিরাপদ রাখা দূরুহ হয়ে পড়ে । দিনদিন নিরাপত্তা ত্রুটি ও ঝুঁকি বাড়তে থাকায় বিভিন্ন নিরাপত্তা অ্যাপস বেশ প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের নিরাপত্তায় কয়েকটি সেরা অ্যাপস:
১। ৩৬০ সিকিউরিটি
এটি এমন একটি অ্যাপস যা একাধারে ডিভাইসের নিরাপত্তা প্রদান, গতি বড়ানো এমনকি জাঙ্ক ফাইল পরিষ্কার করে থাকে । এটি ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার এর বিরুদ্ধেও প্রবল কার্যকর । বর্তমানে ২০০ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তায় এটি ব্যবহার করছেন । অ্যাপসটি ডিভাইসে ইন্সটল করা সকল অ্যাপস, ডিভাইস মেমোরি, কনটেন্টগুলোকে নিজে নিজেই স্ক্যান করে ভাইরাস, এডওয়্যার, ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় । এটি ওয়াইফাই এর সিকিউরিটির ব্যবস্থাও করে থাকে । ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট সহ অন্যান্য সাইটের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে ।

২। এভাস্ট মোবাইল সিকিউরিটি
কম্পিউটারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্যও এভাস্ট বেশ সফলতার সাথে সুরক্ষা অ্যাপস তৈরী করে যাচ্ছে । এই অ্যাপসের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে এটির ভাইরাস ডিটেকশনের সফলতার হার ৯৯.৯% আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা বিনষ্টকারী যেকোনো স্পাইওয়্যার, এডওয়্যার, ভাইরাস এর উপস্থিতি টের পেলে বা ইন্সটল হতে চাইলে এই এপস আপনাকে দ্রুত এলার্ট পাঠাবে । উল্লেখ্য, কোনো ব্যবহারকারীর জন্য ম্যালওয়্যার আর ইন্টারনেটে নিরাপদ ব্রাউজিং নিশ্চিত করার জন্য এই অ্যাপসটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ।

৩। সিগন্যাল প্রাইভেট মেসেজ
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য অসংখ্য নিরাপদ মেসেঞ্জার অ্যাপস রয়েছে । বেশিরভাগ মেসেঞ্জার অ্যাপসগুলোই কেবলমাত্র অপরপাশের যোগাযোগকারীর একই অ্যাপস থাকলে মেসেজ আদান প্রদান করার ব্যবস্থা করে দেয় । এই অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যবহারকারী একই অ্যাপস ব্যাবহার করেও ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে মেসেজ আদান প্রদান করতে পারে । এটি ওপেন হুইস্পার সিস্টেম হিসেবে ডেভেলপ করা । এটি একটি অপেন সোর্স অ্যাপস অর্থাৎ এর জন্য ব্যবহারকারীকে অর্থ ব্যায় করতে হয়না। এপসের নিজস্ব সার্ভারে কিছুই সংরক্ষিত থাকেনা । যেহেতু এটি অন্য মেসেঞ্জারের সাথে ব্যবহার করা যায় সেক্ষেত্রে এটি মেসেজ আদান প্রদানের সময় এনক্রিপশন মেথড ব্যাবহার করে । যারা মেসেজ আদান প্রদানে এনক্রিপশন পদ্ধতি চান তাদের জন্য এই অ্যাপসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই অ্যাপসটিকে বর্তমানের সেরা মেসেজিং অ্যাপস হিসেবে গণ্য করা হয় ।

৪। সিকিউর কল
ফোনে আড়িপাতা নিয়ে আমরা কম বেশি দুর্ভাবনায় থাকি । এতে ব্যাক্তিগত বা পেশাগত নানান তথ্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ফাঁস হবার সম্ভাবনাও থাকে । যারা কথা বলার সময় অন্যের আড়িপাতা বন্ধ করতে চায় তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ অ্যাপস ‘সিকিউর কল’ । এই অ্যাপসটি ডাটা এনক্রিপশনের মাধ্যমে ফোন কলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে । এই এনক্রিপশনের ফলে ইন্ট্রুডাররা ফোন কলে কোনোভাবেই আড়িপাততে পারেনা । অ্যাপসটি কল আদান প্রদানে ডিভাইসের ডিফল্ট ফোন অ্যাপস ব্যবহার করে থাকে । এটির রয়েছে পিয়ার টু পিয়ার আর্কিটেকচার, সাথে আছে ব্যবহারকারী থেকে ব্যবহারকারী এনক্রিপশন ।

৫। লাস্ট পাস
এটি মূলত একটি পাসওয়ার্র্ড ম্যানেজার যা আপনার অসংখ্য আইডির পাসওয়ার্ড মনে রাখে । আপনাকে মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র এই অ্যাপসের একটি পাসওয়ার্ড । বর্তমানে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে ইমেইল, ফেইসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রামসহ নানান সাইটে প্রতিদিন অসংখ্যবার লগইন (প্রবেশ) করে থাকেন । নিরাপত্তার জন্য সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন সাইটের বা আইডির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ও খুব শক্তিশালী, বেশি সংখ্যক ডিজিটের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয় । ফলে পাসওয়ার্ড মনে রাখা একটি দুরুহ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে । এই ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে ‘লাস্ট পাস’ এপস নিয়ে এসেছে সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি । এটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ও ব্ল্যাকবেরিতে কাজ করে । এই ম্যানেজার ব্যবহারকারীর একাধিক পাসওয়ার্ড মনে রাখবে, প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড জেনারেট করবে । আর ব্যবহারকারী মনে রাখবে এই অ্যাপসের পাসওয়ার্ডটি ।

লাস্ট পাস থেকে লগ অফ করলেই শত চেষ্টা করলেও কেউ আর খুঁজে পাবেনা ব্যবহারকারীর পাসোয়ার্ডগুলো । এটি ভিন্ন ভিন্ন সাইটের বা একাউন্টের জন্য ব্যতিক্রমী শক্তিশালী পাসওয়ার্ড জেনারেট করে দেয় । এনক্রিপশন মেথড ব্যবহার করে সার্ভারে তথ্য রাখার কারনে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার হবার কোনো সম্ভাবনাও নেই ।

৬। ফাইন্ড মাই ডিভাইস
এটি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার। হারিয়ে গেলে যদি কেউ দূর থেকে নিজের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার করতে চায় তবে অ্যাপসটি ইন্সটল করে নিতে পারে । যা আপনার ডিভাইসকে বহুদূর থেকে খুঁজে বের করা, রিং করা ও লক করতে সক্ষম । যদি ডিভাইসটিকে একেবারেই হারিয়ে ফেলার ভয় থাকে তবে এই অ্যাপসের মাধ্যমে ডিভাইসের সকল তথ্য মুছে ফেলা বা সরিয়ে নেওয়া যায় । অন্যান্য জায়ান্ট কোম্পানিগুলোরও একই ধরনের অ্যাপস রয়েছে । তবে গুগলের এই অ্যাপসটি সবচেয়ে সহজে ব্যবহার করা যায়।

৭। অ্যাপস লক
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ইন্সটল করা অ্যাপসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেতে ‘অ্যাপস লক’ ব্যবহার করা হয় । কোনো অ্যাপস ব্যবহার করার আগে পিন বা প্যাটার্ন ম্যাচ করে সেই অ্যাপস ব্যবহারের অনুমতি নিতে হয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here