নির্দিষ্ট সময়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বিশৃঙ্খলার কারণ ও প্রতিকার

0
281

বর্তমানে বাংলাদেশ-সহ মুসলিম বিশ্ব নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ব্যাপারে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। মোহাম্মদী ইসলামে হজ, আশুরা, ঈদ, ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.), শবে মিরাজ, শবে বরাত, শবে কদরসহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বান্দার পাপমুক্তি ও বরকত লাভের জন্য মহান রাব্বুল আলামিন দানস্বরূপ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এইসব দিনে ইবাদত করলে মহান আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য হয়। সন্দেহযুক্ত অনুষ্ঠান বা ইবাদত বন্দেগি অশুদ্ধ, যা আল্লাহর নিকট কবুল হয় না।

উদাহরণস্বরূপ রোজার কথাই ধরা যাক- আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে চাঁদ দেখে রোজা রাখা বা চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব হয় না। অথচ আমরা জানি ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে আমরা যদি ঈদের দিন রোজা রাখি, তাহলে আমরা হারাম কাজ করছি বলে প্রতীয়মান হবে। যতদিন পর্যন্ত এই মুসলিম জাতি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া এই চন্দ্র হিসাব অর্থাৎ অষ্টবর্ষ চন্দ্র ক্যালেন্ডার (পঞ্জিকা) অনুসরণ করে ধর্ম পালন করেছিল; ততদিন পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামে কোনো প্রকার বিশৃংখলা ছিল না।


উল্লিখিত অনুষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট দিনে উদযাপন করে সবাই অফুরন্ত ফায়েজ, রহমত ও বরকত পেত। বিধর্মীদের চক্রান্ত ও মুসলমানদের অজ্ঞতায় কালের পরিক্রমায় এই মোহাম্মদী ইসলাম দ্বিন ইসলামে পরিণত হয়। সেই সাথে হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া চন্দ্র পঞ্জিকাও হারিয়ে যায়। ফলে, যে মুসলিম জাতি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও আদর্শ জাতি হিসেবে এই জগতের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই জাতি সঠিক সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন না করার কারণে আল্লাহর গজবে পতিত হয়ে বর্তমানে অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও পর মুখাপেক্ষি জাতিতে পরিণত হয়েছে।


মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) পবিত্র কুরআন, হাদিস ও ইতিহাস পর্যালোচনা করে, অষ্টবর্ষ পঞ্জিকা প্রণয়নপূর্বক ১৯৭৮ সালে ‘ঈদ সমস্যার সমাধান’ নামক একটি অমূল্য কিতাব প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও তাঁরই প্রচেষ্টায় সমগ্র বিশ্বের মুসলমানরা যেন একই দিনে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে পারে, এই বিষয়টি ইসলামি সম্মেলন সংস্থা OIC (Organisation of Islamic Cooperation)-তে উপস্থাপন করা হয় এবং সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হয়। তথাপি আজ অবধি সমগ্র মুসলিম জাহান একই দিনে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে পারছে না।


উল্লেখ্য যে, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান এই সমস্যার সমাধানের জন্য ১৯৭৮ সালে চান্দ্রপঞ্জিকা প্রণয়নের একটি মডেল মুসলিম বিশ্বের সরকার প্রধানগণের কাছে উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবটি ওআইসি-এর সেমিনারে আলোচিত হলে সদস্যভুক্ত ৫০টি দেশের প্রতিনিধিগণ এর ভুয়সী প্রশংসা করেন। অতঃপর ওআইস তার সদস্যভুক্ত দেশসমূহকে সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদসহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার প্রস্তাবনা দিয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ বিবেচনাধীন রয়েছে।


মহান আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.) কর্তৃক প্রণীত ও মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজান কর্তৃক লিখিত অষ্টবর্ষ পঞ্জিকা অনুসরণে একই দিনে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলো পালন করতে পারলে, মুসলিম জাহান আবার আল্লাহর অফুরন্ত ফায়েজ, রহমত ও বরকত লাভ করে বিশ্বে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হতে পারবে।


[তথ্য সূত্র: ‘ঈদ সমস্যার সমাধান’- মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here