পবিত্র আশুরার সম্মেলনে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী : অলী-আল্লাহদের সান্নিধ্যে গিয়ে আল্লাহকে পাওয়ার বিদ্যা শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়

2
279

বিশেষ প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে গত ৩০ আগস্ট, রবিবার পবিত্র আশুরা ও দেওয়ানবাগ শরীফের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম এবং ফেসবুকের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন।
এই অনুষ্ঠানটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেওয়ানবাগ শরীফের আঞ্চলিক দরবারসমূহ, খানকা শরীফ, আশেকে রাসুল মজলিস ও আশেকে রাসুল জাকেরদের নিজ নিজ বাসায় এবং বিশ্বের ৩৫টি দেশে অবস্থিত বিশ্ব আশেকে রাসুল সংস্থা ও হাজার হাজার আশেকে রাসুলগণ সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে যোগদান করেন।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অতঃপর হামদ, নাতে রাসুল (সা.), শানে মোর্শেদ ও আশুরার গজল পরিবেশন করা হয়। সম্মেলনে সম্মানীত সুধীজন ও ওলামায়ে কেরাম আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

সম্মেলনের আহ্বায়ক মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, এক সময় আমরা মনে করতাম আশুরা মুসলমানদের অনুষ্ঠান নয়, এটি শিয়াদের অনুষ্ঠান। আমরা যখন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি, ধারণাটা এই রকমই ছিল। পরে মোর্শেদের দরবারে সাধনা করে বুঝতে পারলাম মূলত আশুরা আল্লাহর অভিষেকের দিন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কারণে আমরা চক্রান্তের শিকার হয়ে সেই বড়ো নিয়ামতের দিনটা হারিয়ে ফেলেছি। এরপরে মোর্শেদের অপার দয়ায় আমি যখন আশুরার উপরে লেখালেখি শুরু করেছি, তখন পবিত্র কুরআন হাদিসের দলিল দিয়ে প্রমাণিত করলাম যে, অসংখ্য নবি-রাসুলকে এই দিনের বরকতে আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। আমরা কেন ক্ষমা পাব না? আমরা যদি ওনাদের মত ও পথে চলি, অবশ্যই আল্লাহর দয়া পাওয়ার কথা।
তিনি গত ৩০ আগস্ট, রবিবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত পবিত্র আশুরা ও দেওয়ানবাগ শরীফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম ও ফেসবুকের মাধ্যমে আয়োজিত আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমাদের হুজুরদের ধারণা ছিল আল্লাহকে দুনিয়াতে দেখা যায় না। আল্লাহ নিরাকার, আপনারাও তাই শুনেছেন। সবাই বলে- আল্লাহ নিরাকার। আল্লাহকে দুনিয়াতে দেখা যায় না। তাহলে মৃত্যুর সময় যখন ইমানি পরীক্ষায় প্রশ্ন করবে- মার রাব্বুকা, ওয়ামা দিনুকা, ওয়ামান নাবিউকা; তখন এই ৩টা প্রশ্নের জবাব আমরা কীভাবে দেব? তোমার প্রভু কে? তোমার ধর্ম কী? তোমার নবি কে? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া কি সম্ভব হবে? কিন্তু হুজুরদের শিক্ষা পেয়ে আমরাতো বুঝেছি দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা যায় না। আল্লাহ নিরাকার। মোর্শেদের দরবারে গিয়ে গোলামির পরে বুঝতে পারলাম যে, আসলে এই শিক্ষাটাই ভুল। আল্লাহর আকার আছে, আল্লাহকে দেখা যায়। আল্লাহ দয়া করে আমাকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এরপর থেকে চিন্তা করেছি আল্লাহ যে নিরাকার, এই ধারণাটি যে ভুল তা সমাজে প্রমাণিত করব। এই বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে কী দলিল আছে, তাতো জানি না। আমি আল্লাহকে যে রূপে দেখেছি, সেটার রূপ দিতে গিয়ে কুরআন থেকে আয়াত খুঁজে বের করলাম। বের করে প্রমাণ করলাম, আল্লাহর নুরের রূপ আছে, তিনি নিরাকার নন। হুজুরেরা ওয়াজের মধ্যে বলে, হযরত রাসুল (সা.) গরিব ছিলেন। ৭০ তালি জামা পরতেন। আমি প্রমাণ করলাম হযরত রাসুল (সা.) ধনী ছিলেন, এবং তিনি যে ধনী ছিলেন তার দলিল আমি আপনাদেরকে পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করে দেখিয়েছি। হযরত রাসুল (সা.)-এর ব্যবহৃত জামা, ব্যবহৃত কাপড় এবং যে প্লেটে তিনি খেতেন, সেই প্লেটটাও স্বর্ণের ছিল। তার ছবি ও ক্যাসেটের মাধ্যমে আপনাদেরকে আমি দেখিয়েছি।

সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, একজন ধনী, যিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন, সেই রাসুল (সা.)-কে যদি আমরা বলি, ৭০ তালিওয়ালা, এটা কি অপমান করা হয় না? হযরত রাসুল (সা.)-কে অপমান করে আমরা রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত কি পেতে পারি? এভাবেই আমাদেরকে মূল ধর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমাজের ধর্ম যেটা, সেই ধর্ম ঠিক নয়। হযরত রাসুল (সা.) হেরা গুহায় ১৫ বছর ধ্যান বা মোরাকাবা করে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, আল্লাহর সাথে কথাবার্তা বলতেন। আমরা যেটা বলি সেটা হলো, দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব না। হযরত মুসা (আ.) দুনিয়াতেই তো আল্লাহকে দেখেছেন। আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। হযরত আদম (আ.) দুনিয়াতেই আল্লাহকে দেখেছেন। আল্লাহর সাথে কথাবার্তা বলেছেন। সকল নবি-রাসুল যাঁরা আল্লাহকে দেখেছেন, তাঁরা জীবদ্দশায় থাকতেই আল্লাহকে দেখেছেন। আমরা যদি ওনারা যে বিদ্যার দ্বারা আল্লাহকে দেখেছিলেন সেটা শিক্ষা না করি, তাহলে কীভাবে দেখব? সেটাই ক্বালবের বিদ্যা। সেই বিদ্যা দিয়ে আল্লাহকে দেখা যায়, আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে জানা যায়।

ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পবিত্র আশুরার অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এক দল ভণ্ড প্রতারক এই অপপ্রচার করে আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-থেকে মানুষকে দূরে সরিয়েছে। আমরা কি এটা মেনে নেব? সুতরাং আমরা আমাদের বিশ্বাস ও বাস্তবতা দিয়ে এই সত্যটাকে প্রকাশ করব। আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান ছিল, এখন দেখা যায় আশুরা ছিল আল্লাহর অভিষেকের দিন। অর্থাৎ আল্লাহ যে আমাদের প্রভু। সকল মানুষের রূহ সামনে হাজির করে আল্লাহ আরশে বসে প্রশ্ন করছিলেন- আলাসতুবি রাব্বিকুম? অর্থাৎ- আমি কি তোমাদের প্রভু নই? সবাই বলেছিল- কালু বালা, অর্থাৎ নিশ্চয়ই! নিশ্চয়ই! আমরা জগতে আসার আগেইতো আল্লাহকে দেখেছি এবং আল্লাহর সাথে কথা বলেছি। কিন্তু দুনিয়াতে এসে প্রতারকদের পাল্লায় পড়ে, আল্লাহকে দুনিয়াতে দেখা যায় না, এই যে অপপ্রচার, এই ভুল ধর্ম শিক্ষা করে আল্লাহকে পাওয়া যাবে কি? যিনি আল্লাহকে পেয়েছেন এমন একজন মহামানবের সান্নিধ্যে যান। তাঁর নিকট গিয়ে দেখেন, আল্লাহকে দেখা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়। হযরত রাসুল (সা.)-কে দেখা যায়, রাসুল (সা.)-কে পাওয়া যায়। এই প্রতারকদের পাল্লায় গিয়ে শুধু শুনবেন, মহামানবরা যা করেছে সবই বেদআত। বাংলা-ভারত উপমহাদেশে হযরত রাসুল (সা.) আসেননি। বাংলা-ভারত উপমহাদেশে আমরা যারা মুসলমান হয়েছি, আমাদের বাপ-দাদারা ইসলাম শিক্ষা করেছেন অলী-আল্লাহদের কাছ থেকে। অলী-আল্লাহদের শিক্ষা নিয়েই তারা ইমানদার হয়েছে। এখন এই প্রতারকরা বলে, অলী-আল্লাহর কাছে যাওয়া শিরক। পিরের কাছে যাওয়া শিরক। কুরআন-হাদিসে পির নেই। এইগুলো ভ্রান্ত কথা। সুতরাং, এদের কথায় কান না দিয়ে আপনারা বাস্তবের দিকে আগান। আপনাকে দুনিয়াতে থেকেই আল্লাহকেও পেতে হবে, হযরত রাসুল (সা.)-কে পেতে হবে। আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে না পেয়ে আপনি কী জবাব দিবেন?
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার জন্য কামেল অলী-আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক ছাড়া যেমন লেখা-পড়া করা যায় না। কামেল মোর্শেদ ছাড়া অর্থাৎ- যিনি আল্লাহকে পেয়েছেন এমন মোর্শেদ ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যায় না। সুতরাং, অলী-আল্লাহদের কাছে গিয়ে আমাদের আল্লাহকে জানা, আল্লাহকে পাওয়ার বিদ্যা শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমার মোর্শেদ পীরানে পীর দস্তগীর, সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া-মোজাদ্দাদিয়া তরিকার ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহাম্মদ (রহ.)-এর দরবারে আমি যাওয়ার পরে উনি আমাকে বলেছিলেন, আপনি ধর্মের সংস্কার করে কিতাব লেখেন। আমি বললাম, আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার পক্ষে সম্ভব নয়। উনি আবার কাগজ-কলম হাতে উঠিয়ে দিয়ে বললেন, কাগজ-কলম নেন, আপনি ধর্মের সংস্কার করে কিতাব লেখেন। আমি বললাম, আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ আমি জানি মাদ্রাসায় যে পড়া পড়েছি, এই পড়া দিয়ে ধর্মের সংস্কার করা কিছুতেই সম্ভব নয়। উনি ৩ বার বললেন, আপনি পারবেন। আল্লাহ আপনাকে সেই যোগ্যতা দিয়েছেন। উনি দেখছেন যোগ্যতা দিয়েছেন, আমি দেখছি কিছুতেই সম্ভব নয়। এরপরে পর্যায়ক্রমে আরো ২ বার বললেন। পরে যখন আমি এই কাজ করিনি, তখন উনি আমাকে ধমক দিয়েছিলেন।

বক্তব্য রাখেন ইমাম ড. নূর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মোর্শেদ আমাকে বলেছিলেন যে, কামেল পির ইচ্ছা করলে কলা গাছ দিয়ে দেশ হেদায়েত করতে পারেন। আমরা মাদ্রাসায় পড়েছিতো, আমাদের বিশ্বাসটা পিরের প্রতি ছিল না। মোর্শেদের কাছে গিয়েছি কিন্তু বিশ্বাস আসে না। মোর্শেদের সান্নিধ্যে থেকে আস্তে আস্তে যখন বিশ্বাস এসেছে, তখন বুঝতে পেরেছি যে, মোর্শেদ কি জিনিস! মোর্শেদের সান্নিধ্যে থেকে এই তরিকার নিয়ম শিক্ষা করে বুঝতে পেরেছি, অলী-আল্লাহর সান্নিধ্যে ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। এরপরে আমার দায়িত্বই হয়ে গেল অলী-আল্লাহদের পক্ষে আলোচনা করার। বিভিন্ন মাহফিলে গিয়ে ওয়াজ-নসিহত করে অলী-আল্লাহদের পক্ষে আমি কথা বলতাম। তখন আলেমরা দল ভারি করে আমার সাথে বাহাস করতে আসতেন। আমি আলোচনা করার পরে তখন তাদের আর কথা থাকত না। তরিকা নিতে হয়েছে। কারণ এই সত্যটা তুলে ধরতে না পারলে এটিতো জগত থেকে বিদায় হয়ে যেত।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মোর্শেদের নেক দয়ায়, আমরা এই তরিকা শিক্ষা করতে পেরেছি এবং জটিল সমস্যা হলে আমি মোর্শেদকে প্রশ্ন করতাম। এটা কী? উনি বলতেন, এত মানুষের সামনে নয়, অন্য সময় বলবো। তখনতো আমি বুঝতে পারিনি অন্য সময়টা কবে আসবে। জীবদ্দশায় উনার এই অন্য সময় আর আসে নাই। মোর্শেদ পর্দা করার পরে আরো ১ বছর দরবার চালানোর দায়িত্ব পালন করেছি এবং তাঁর মুরিদদের দেখাশোনা করেছি। তাঁর পরিবারবর্গকে দেখাশোনা করেছি। ১ বছর পরে আমি ঐ দরবার থেকে চলে এসেছি। ঢাকায় এসে আমি ধর্মের ভুল সংস্কারে আত্মনিয়োগ করে। ধর্মের অসংখ্য সংস্কার করেছি এবং মানব জাতির জন্য এটি বড়ো নিয়ামত। দেখেন আমাদের দেশে আপনি যদি একটা মসজিদ বানাতে যান, হুজুরেরা বলবে, জায়গাটা ওয়াকফ করে দেন। আল্লাহর নামে ওয়াকফ না করলে নামাজ হবে না। এখন এ জমির মালিক কে? আল্লাহতো আসমান- জমিনের মালিক। আল্লাহ মালিক, আমি কে আল্লাহর নামে ওয়াকফ করার? এটাতো একটা প্রতারণার শামিল। এভাবে দেখলে বুঝবেন ধর্মের প্রতিটা ধাপেই ভুল। এই ভুল যে কে বা কারা ঢুকিয়েছে বুঝা কঠিন। আমরাও মাদ্রাসায় এগুলোই পড়েছি, কিন্তু মোর্শেদের দরবারে যাওয়ার পরে ভুল ভেঙেছে। তখন থেকে চেষ্টা করছি সত্যটা প্রকাশ করতে। আমি আল্লাহর আকার প্রমাণ করার জন্য পবিত্র কুরআনের তাফসীর লিখেছি। বাংলাতে তাফসীর লিখেছি ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ এবং হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রকৃত পরিচয় আমি তুলে ধরে কিতাব লিখেছি। আপনারা আমার লেখা কিতাব পড়লে বুঝতে পারবেন এটি বাস্তব না অবাস্তব। সুতরাং, এই বিষয়গুলো জেনে মন-দিল দিয়ে তরিকার কাজ করেন।

বক্তব্য রাখেন ইমাম ড. মঞ্জুর এ খোদা (মা. আ.) হুজুর


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমার মোর্শেদ ইমাম হুজুরকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাবা! আপনার মুরিদের মধ্যে কেউ অলী-কুতুব নাই? উনি বলেছিলেন, আপনার স্ত্রীতো একজন কুতুব। তাঁকে জিজ্ঞেস করেন। তখন আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছি; মোর্শেদের কথায় আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার স্ত্রী কুতুব। এর প্রমাণও আমি পেয়েছি। পরবর্তীতে আরও ছবক বাড়িয়ে আমি আমার স্ত্রীকে কুতুবুল আকতাব বানিয়েছি। কুতুবুল আকতাব হলো দেশরক্ষক অলীদের প্রধান। আমি মহিলাদেরকেতো ক্বালব দেখাতে পারব না, কিন্তু আমাদের তরিকায় ক্বালব দেখাবার নিয়ম আছে। তখন আমার স্ত্রীকে সবক বাড়িয়ে দিয়ে তাঁকে দিয়ে মহিলাদের ক্বালবটা দেখিয়ে দিতাম, কিন্তু তিনি আমার নামেই তওবাহ পড়াতেন। আমাকে মোর্শেদ মেনে আমার নামে তওবা পড়াতেন। আমিই তাঁকে কুতুবুল আকতাম বানালাম। শর্ত দিয়ে বানিয়েছিলাম যে, আমার এই এই শর্ত মেনে কাজ করতে হবে। সে তো কাজ করে গেছে। পরবর্তীতে আমার স্ত্রীর ইন্তেকালের পরে আমার এখানে যেসকল জাকের মহিলারা আসে, তাদেরকে কীভাবে ক্বালব দেখাব? আমার সামনেতো মহিলাদের আসা নিষেধ। তখন অনেক মহিলারা এসে বলেছে যে, হযরত রাসুল (সা.) তো মেয়েদেরকে তাঁর সামনে যেতে দিতেন, আপনি দিবেন না কেন? আমি বলেছি, রাসুল (সা.)-এর জামানায় তিনি দিয়েছেন, আর আমার জামানায় আমি এটা দিতে চাই না। কারণ বর্তমান সমাজটা বিভ্রান্ত, তাহলে আমি ধর্ম প্রচার করতে পারব না। তখন মহিলাদের ক্বালব দেখাবার জন্য আমার বড়ো মেয়েকে বলেছিলাম, তুমি মহিলাদের ক্বালবটা দেখিয়ে দাও। এই কারণে মহিলা যারা তরিকা নিতে আসতেন, তাদেরকে আমার মেয়ে ক্বালব দেখাত। এভাবে, অসংখ্য মাহিলারা আমার মেয়ের দ্বারা ক্বালব দেখিয়ে নিয়েছে। এই ক্বালব দেখিয়ে নেওয়ার পরে এদেরকে এখন ওরা বুঝাতে শুরু করেছে যে, আপনারাতো তাদের মুরিদ। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, এরা আপনার মোর্শেদ নয়। সাইদুর আপনাদের মোর্শেদ নয়। আমি সাইদুরকে ক্বালব দেখাবার হুকুমও দেইনি। সে যা করেছে সব নিজে নিজে করেছে, যত প্রকার ধোকাবাজি আছে সব এখন ধরা পড়েছে। ধরা পড়ার পরে আমি তাকে বের করে দিয়েছি। দরবার থেকেও বের করে দিয়েছি, তরিকা থেকেও বের করে দিয়েছি। সে মনে করেছিল, তার স্ত্রী কুতুবুল আকতাব, তাকে সামনে রেখে সে এগিয়ে যাবে। কমপিটিশন? আরে একে তো কুতুবুল আকতাব আমিই বানিয়েছি, আবার আমিই তাকে বাদ দিয়ে দিয়েছি। এখন আর সে কুতুবুল আকতাবের দায়িত্বে নেই। সুতরাং সাইদুরের স্ত্রীকেও তরিকা থেকে বহিষ্কার করেছি এবং সাইদুরকেও তরিকা থেকে বহিষ্কার করেছি। আপনারা যারা তাদের কাছে তরিকা নিয়েছেন, এটি আমারই তরিকা ছিল। এখন তারা বিপথগামী। আপনারা তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন না। যদি করেন এটা আপনাদের ইচ্ছা, তাহলে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমরা কোনো প্রোগ্রাম করতে পারি না, দেশে মহামারির কারণে পরিস্থিতি খারাপ। বিভিন্ন কারণে আমাদের কয়েকটা অনুষ্ঠান বাদও পড়েছে। কিন্তু এবার আমি বলেছি যে, আশুরার অনুষ্ঠান আমরা করব। তখন মেজো হুজুররে বলেছি, তুমি ব্যবস্থা করো, কীভাবে সারা দেশে আমরা এই আশুরার সম্মেলনটা করতে পারি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমরা অনুষ্ঠানটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করছি। আশেকে রাসুলেরা আমাকে দেখার জন্য কান্নাকাটি করে, কিন্তু আমারওতো কষ্ট হয়, আমি আশেকে রাসুলদেরকে দেখতে পারছি না। সুতরাং এই ব্যবস্থা করেছি যে, আমরা এভাবে ফেইসবুকের মাধ্যমে, জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠান পালন করব, এতে আপনারাও দেখতে পারবেন, আমিও আপনাদেরকে দেখতে পারব। আর আমি সরাসরি বলে দিলে তখন আর বিভ্রান্তি থাকবে না। বিপথগামীরা বলে, ছেলেরা জোর করে আমাকে দিয়ে করাচ্ছে। দেখেন আমি যে কথা বলছি আমার ছেলেরা কি বন্দুক ধরেছে আমাকে? আমাকে ভয় দেখায়? মিথ্যা, বাটপারি, জুয়াচুরি দিয়ে কী মানুষ মুক্তি পেতে পারে? বরং সাঈদুর চুরি করে আমাদের কোটি কোটি টাকা নিয়েছে এবং সে আমার খরিদ করা জমি তাকে দরবার চালাতে দিয়েছি, আর সে এই জমিন জালিয়াতি করে আরেকজনের নাম দিয়ে তার নামে রেজিস্ট্রি করেছে, এটা কি তার জমি হয়ে গেছে? আমরা এর আইনগত ব্যবস্থা নিব। কারণ খাতির করে লাভ নেই। মিথ্যুক ধোঁকাবাজের সাথে কোনো আপস নেই।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আপনারা কেউ বিশ্বাস করবে না যে, তারাই আপনাদেরকে ক্বালব দেখিয়েছে। তারা কি ক্বালব বুঝে? এখন বলে অলী-আল্লাহ হয়ে গেছে। আমি বলেছি যে, আমার দরবারে কেউ পির বা মোর্শেদ হবে না। আমার দরবারে ইমাম হবে। হযরত রাসুল (সা.)-এর পরে যেমন খোলাফায়ে রাশেদিন ওনারা ইমাম হিসেবে রাসুল (সা.)-এর ধর্মটাকে এগিয়ে নিয়েছেন। আমাদের এটি যেহেতু মোহাম্মদী ইসলাম, আমাদের এখানে কেউ পির হবে না। পির হলে এটি মোহাম্মদী ইসলাম থাকবে না। আপনারা সবসময় দরবারের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। আমি আমার ৪ ছেলেকে দায়িত্ব দিয়েছি মোহাম্মদী ইসলামটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমার ছেলে-মেয়ে সবাই ডক্টরেট করা। আমি এদেরকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি, পিএইচ.ডি করিয়েছি। এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। সুতরাং মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করবেন আর দরবারের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। আসুন, রাব্বুল আলামিনের সাহায্য চাই, তিনি যেন আমাদেরকে দয়া করেন।
বাদ যোহর সম্মেলনের আহ্বায়ক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বাবে রহমতের হুজরা শরীফে তশরীফ নেন। সকল আশেকে রাসুলদের পক্ষ থেকে তাঁকে পুষ্পমাল্য প্রদান করেন জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. নূর-এ-খোদা আল আজহারী (মা. আ.) ও কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.)।
এরপর অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান তাঁর মহামূল্যবান বাণী মোবারক প্রদান করে বিশ্ববাসির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. নূর-এ-খোদা আল আজহারী (মা. আ.) হুজুর, মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর ও কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর। সম্মেলনের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা ইমাড ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে এই বিশেষ সম্মেলন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আশেকে রাসুল প্রফেসর ড. ফিরোজ ইকবাল ফারুকী, আশেকে রাসুল ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল, আশেকে রাসুল হযরত এম. মুহিউদ্দীন খান ফারুকী, আশেকে রাসুল ড. সৈয়দ মেহেদী হাসান, আশেকে রাসুল হযরত ফজলে রাব্বি মো. ফরহাদ, আশেকে রাসুল সাব্বির আহমেদ ওসমানী ও আশেকে রাসুল তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন, আশেকে রাসুল আমিরুল ইসলাম ও হামদ পরিবেশ করেন, আশেকে রাসুল শেখ মো. আবদুল মতিন। এছাড়া নাতে রাসুল ও আশুরার গজল পরিবেশন করেন, আশেকে রাসুল ওয়ালিউল্লাহ মাষ্টার, আশেকে রাসুল আবদুল মতিন, আশকে রাসুল আল মামুন, আশেকে রাসুল চঞ্চল মাহমুদ, আশেকে রাসুল এমরান হোসাইন মাজহারী, আশেকে রাসুল জসিম খান ও শানে মোর্শেদ সমাপনি গজল পরিবেশন করেন, আশেকে রাসুল মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন, আশেকে রাসুল অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান মিয়া ও আশেকে রাসুল এমরান হোসাইন মাজহারী।
এমন স্বর্গীয় ও বরকতময় অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পেরে, আপন মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের চেহারা মোবারক দেখতে পেয়ে এবং তাঁর মধুমাখা কণ্ঠে বক্তব্য শুনতে পেয়ে আশেকে রাসুলগণ যারপর নেই আনন্দিত হয়েছেন।

2 COMMENTS

  1. আলহামদুলিল্লাহ, মহান রাব্বুল আলামিনের নূরানীময় কদম মোবারকে শত কোটি শুকরিয়া,,যে আজ মহান মোর্শেদের বাণী মোবারক পড়তে, বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারলাম।
    মহান মোর্শেদ নিজ গুণে সুস্থ থাকুক এই আমাদের প্রার্থনা,,, আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here