পবিত্র আশুরা আল্লাহর অভিষেকের দিন

0
264

গত ২৮ আগস্ট, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ শুক্রবার দেওয়ানবাগ শরীফর বাবে রহমতে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) হুজুর কেবলাজান আশেকে রাসুল ও মুক্তিকামী মানুষের উদ্দেশে যে বাণী মোবারক প্রদান করেন, তা পাঠকদের অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হলো।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লিয়ালা রাসুলিহিল কারিম।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আপনারা আমার সালাম গ্রহণ করুন। দীর্ঘদিন থেকেই করোনার কারণে, সরকারি নিয়ম-কানুনের কারণে আমরা সামনা সামনি দেখা করতে পারি না এবং করার সুযোগও নাই। এই বিষয়টা চিন্তা করেই আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছি, যেন আপনাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, আমরা কথা বলতে পারি, আপনাদের সুখ-দুঃখগুলো জানতে পারি। এতে কি আপনারা খুশি হয়েছেন? এতে কি আপনাদের সমস্যার সমাধান হয়েছে? অর্থাৎ আমরা যখন যে অবস্থায় থাকি চেষ্টা করব আপনাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে। আপনাদের যেমন আমাকে দেখার আকাক্সক্ষা, কথা শোনার আকাক্সক্ষা, আমারও আপনাদেরকে দেখার আকাক্সক্ষা আছে, কথা শোনারও আকাক্সক্ষা আছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমি প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারে আপনাদের সামনে আলোচনা করতাম। আমার যা পরামর্শ, তা শুক্রবারে বলে দিতাম। প্রতি শুক্রবারে আপনাদের নিকট আমার পরামর্শ জানিয়ে দেই, যেমন- আপনাদের মধ্যে যে সকল নারীরা তরিকা নিয়েছেন, আপনাদেরকে আমি তরিকাভুক্ত করেছি সাইদুরের স্ত্রীকে দিয়ে। আর যেখানে আমাদের কোনো সিনিয়র জাকের মহিলা নেই, সেখানে যার যার স্বামীকে বলতাম, নিজে নিজেদের স্ত্রীকে ক্বালব দেখিয়ে দেন। আর যে পুরুষরা মাহফিলে আসতো, বেশি লোকের কারণে তাদেরকে আমি বলে দিতাম, আপনারা যার যার ক্বালবে ডান হাতের শাহাদাত অঙ্গুলি দিয়ে ধরেন, ধরার পরে বলে দিতাম, খেয়াল করেন আমার নির্দেশেই আপনাদের ক্বালবে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ জ্বিকির চালু হচ্ছে। দেখা গেছে এতেই জাকেরদের ক্বালব আল্লাহ দয়া করে চালু করে দিতেন। আমার সামনে মহিলাদের আসা নিষেধ। হযরত রাসুল (সা.)-এর সামনে মহিলারা যেতেন। তাদের জন্য একদিন হযরত রাসুল (সা.) জলসা বা পরামর্শ মাহফিল করতেন। মহিলারা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে শুনতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিতে পিরের নামে কিছু ভণ্ড দরবেশ উল্টা-পাল্টা কাজ করে মানুষের ইমান ধ্বংস করে। তারা ইমানদার বানাবে কী, মানুষকে ইমানহারা করে দেয়। সুতরাং এই কারণেই আমি পরামর্শ দিয়েছি মহিলারা আমার সামনে আসবেন না। মহিলারা পর্দার আড়ালে থেকেই আমার দেওয়া ওয়াজিফা পালন করলে যথেষ্ট ফায়েজ, বরকত, রহমত পাবেন। আশেকে রাসুল মহিলারা আমার এই পরামর্শ মোতাবেক ওয়াজিফা আমল করে অনেকই হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার পেয়েছে, আশেকে রাসুল হয়েছে, হযরত মা ফাতেমা (রা.)-এর দিদার পেয়েছে। মহিলা আশেকা রাসুলেরা মনে রাখবেন, আপনাদের মোর্শেদ কিন্তু আমি। ক্বালব যেই আপনাদের দেখান না কেন মোর্শেদ কিন্তু আমি-ই। সুতরাং আমার কাজের সুবিধার্থে আমি একেক সময় একেক জনকে একেক দায়িত্ব দিয়ে থাকি। কারণ আমি প্রচার করছি হযরত রাসুল (সা.)-এর হেরা গুহার ইসলাম। হযরত রাসুল (সা.) হেরা গুহায় ১৫ বছর ধ্যান সাধনা করার পরে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ হয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে ওহির মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান দিতেন। এই হেরার ইসলামটা বর্তমান বিশ্বে নেই, এজিদি শাসনামলে ইমাম হোসাইন (রা.)-কে শহিদের মাধ্যমে হেরার ইসলামকে ধ্বংস করে দিয়ে এরা দ্বীন ইসলাম চালু করেছে। দ্বীন ইসলাম অর্থ ইসলামের ধর্ম। হযরত রাসুল (সা.) যেই ইসলাম দিয়ে গেলেন এই ইসলামে হযরত রাসুল (সা.)-এর পরিচয়ের দরকার আছে। হযরত মুসা (আ.) যেই ইসলাম দিয়েছেন, তা মুসায়ি ইসলাম, হযরত ঈসা (আ.) যে ইসলাম দিয়ে গেছেন, তা ঈসায়ি ইসলাম। হযরত ইব্রাহিম (আ.) যে ইসলাম দিয়ে গেছেন, তা ইব্রাহিমি ইসলাম। হযরত রাসুল (সা.)-এর বাণী মোবারক সাহাবিগণ এবং পরবর্তীতে সাহাবিদের কাছ থেকে শুনে যারা হাদিস লিখেছেন সেই হাদিসের কিতাবের নাম বুখারি শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ শরীফ। অর্থাৎ যে হাদিস সংকলন করেছেন, তার নামে কিতাবের নাম হয়েছে। আর যিনি জগতবাসীর জন্য মুক্তির ধর্ম দিয়ে গেলেন সেই ধর্মে তাঁর নাম থাকবে না, এটি হতে পারে না। মূলত চক্রান্তকারীরা হযরত রাসুল (সা.)-এর নাম বাদ দিয়ে দ্বীন ইসলাম চালু করেছে। এখনও বহির্বিশ্বে যারা থাকেন তারা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, কোর্টে যে বিচার হয় একে ‘মোহাম্মেডান ল’ বলে, অর্থাৎ মোহাম্মদের আইন। সুতরাং এটি সারা বিশ্বে আছে। কিন্তু মোহাম্মদী ইসলাম কোথাও নাম গন্ধ নেই। আমরা জানি দ্বীন ইসলাম।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
বিলম্ব হলেও আমরা মোহাম্মদী ইসলাম চালু করেছি এবং চেষ্টা করি মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করতে। আমরা আপনাদেরকে শিক্ষা দেই, বেশি বেশি মোরাকাবা করেন। মোরাকাবার মাধ্যমে হযরত রাসুল (সা.)-কে পাওয়া যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়। যে হুজুররা ধর্ম প্রচার করে, এরা কি কেউ মোরাকাবা করে? ইসলামে মোরাকাবা আছে। কিন্তু এরা বলে, হাদিসে নেই। হাদিস কোরআন কাউকে হেদায়েত দেয়? কোরআন তো নিজেই চলতে পারে না। কোরআনকে আপনে যদি পড়েন, তখন কোরআনের বাণীটা জানতে পারবেন। কোরআন কি কথা বলতে পারে? এটি তো লিখিত ছাপানো কাগজ। আল্লাহ লিখিত কাগজ হযরত রাসুল (সা.)-এর কাছে পাঠাননি। আল্লাহ ক্বালবের মাধ্যমে কোরআনের ওহি নাজিল করেছেন। সেই ওহি পড়েই, সেই ওহি জেনেই রাসুল (সা.) রাসুল হয়েছেন, সকল নবি-রাসুল আল্লাহর মনোনীত হয়েছেন। আল্লাহকে পেতে হলে নবি-রাসুল এবং আউলিয়ায়ে কেরামের পথে চলতে হবে। আউলিয়ায়ে কেরামের পথ ছাড়া আল্লাহকে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। লেখাপড়া করে পণ্ডিত, মুফতি, মুফাচ্ছের এবং জ্ঞানী-গুণী হওয়া যায়, কিন্তু সেটা কিতাবের জ্ঞান, ক্বালবের জ্ঞান নয়।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
এই যে জগতে মহামারি শুরু হয়েছে এটার কোনো সমাধান তথাকথিত নায়েবে রাসুলরা দিতে পেরেছে কি? তারা কাউকে সাহায্য করতে পারছে? হযরত রাসুল (সা.)-এর যুগে সমস্যা আসলে তখন মানুষ রাসুলের (সা.) পরামর্শ নিয়েছেন। এতে মসিবত দূর হয়ে গেছে। আমিও শুরু থেকেই আপনাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি যে, এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আপনারা যার যার বাসায়, যে যেখানে থাকেন সকাল-বিকাল মিলাদ পড়েন, আর মানত করে রাখেন। হযরত রাসুল (সা.) জগতের রহমত। হযরত রাসুল (সা.)-এর সময়ও তাঁর দাদা রাসুল (সা.)-এর কোনো বিপদ আসলে মানত করতেন এবং উপকার হলে মানত আদায় করতেন। আমাদের দরবারেরও আমরা সেই মানত শুরু করেছি এবং এই মানতের মাধ্যমে আল্লাহ মসিবত দূর করে দেন, মিলাদের মাধ্যমে রহমত নাজিল করেন। রহমত আর গজব এক জিনিস না। যেখানে রহমত থাকে, সেখানে গজব থাকতে পারে না। সুতরাং সকাল সন্ধ্যা নিয়মিত মিলাদ পড়লে, আর মানত করে রাখলে নিশ্চয়ই আপনারা নিরাপদে থাকবেন। এই নিয়ম অনুসরণের ফলে আমাদের যত জাকের আছে, তাদের মধ্যে আতঙ্ক, ভয় আছে বলে আমার জানা নেই। তাহলে বুঝা যায় যে, আপনারা আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আছেন।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আল্লাহর সাহায্যের জন্য যার সাথে আল্লাহর যোগাযোগ আছে, তাঁর পরামর্শ নিতে হয়। হুজুররা অর্থাৎ- যারা মুফতি, মুফাচ্ছের বড়ো বড়ো আলেম ওলামা এদের সাথে কি আল্লাহর যোগাযোগ আছে? এরা তো বলে যে, আল্লাহ নিরাকার। দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা যায় না। অথচ মৃত্যুর পূর্বে যে ইমানি পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেখানে তিনটা প্রশ্ন করা হবে; হযরত রাসুল (সা.) বলেছেন- প্রশ্নগুলো হলো, মার রাব্বুকা, ওয়ামা দ্বীনুকা, ওয়ামান নাবিউকা? এই প্রশ্নের জবাবগুলো কীভাবে দিবে? যদি জিজ্ঞাস করে, তোমার প্রভু কে? তোমার ধর্ম কী? তোমার নবি কে? কী জবাব দিবে? জবাব শিখতে হলে আপনাকে ক্বালবের বিদ্যায় বিদ্বান অলী-আল্লাহর কাছে গিয়ে শিখতে হবে। এটাকে আধ্যাত্মিক বিদ্যা বলে। এটাকেই এলমে মারেফত বলে। এটাকেই সুফিবাদ বলে। যে যে নামেই ডাকুক এটা শিখার জন্য আপনার ভিতরের রূহু বা আত্মা আছে। রূহু বা আত্মার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে এই জ্ঞানটা আপনার কাছে প্রকাশ পাবে। আপনারা প্রমাণ পান যেমন, যারা বিদেশে থাকেন, তারা স্বপ্নে দেশের বাড়িতে আসেন। মাঝে মধ্যে আসেন, এই আসার অর্থই হইলো স্বপ্নের মাধ্যমে দেশে আব্বা-আম্মাকে দেখেন, কথা-বার্তা বলেন। সজাগ হলে মনে থাকে কী দেখেছেন, কী অবস্থায় দেখেছেন। মনে থাকে, না থাকে না? আপনি যখন বিদেশে ঘুমিয়ে থাকেন, বাংলাদেশে এসে আব্বা-আম্মার সাথে কথা বলেন, দেখেন কোন চোখ দিয়ে? ঘুমানো অবস্থায়তো আপনার এই চক্ষু বন্ধ থাকে। এতে বুঝা যায় আপনার ভিতরে আরো দুটি চক্ষু আছে। এই দুটি চক্ষু আপনার বন্ধ। সাধনা করে যদি এই দুটি চক্ষুকে খুলতে পারেন, তখন জাগ্রত অবস্থায়ও দেখতে পারবেন কোথায় কী হচ্ছে, কী জানতে চান। এই শিক্ষাটা অর্জনের জন্য কিতাব পড়ে হবে না। ক্বালবের শিক্ষা নিতে হবে। ক্বালবের শিক্ষার দ্বারা এটা চালু হবে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
মুখোশধারীরা বলে থাকে পির প্রথা বিদআত। আসলে এরাই বিদআত। হযরত রাসুল (সা.) একজন মোর্শেদ ছিলেন। মোর্শেদ আরবি শব্দ, এর অর্থ পথ প্রদর্শক। আরবি ভাষায় পির নেই, মোর্শেদ আছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে- “ওয়া মাই ইয়ু্যুদলিল ফালান তাজিদা লাহূ ওয়ালিয়াম মুরশিদা”। আল্লাহ বলেন, “আমি যাকে বিপথগামী করেছি, তার ভাগ্যে কোনো মোর্শেদ নাই।” এই ফরজ বিদ্যাটা ছেড়ে দিয়ে কিতাবি বিদ্যা শিক্ষা করে মুফতি, মুফাচ্ছের হয়ে আমিত্ব অর্জন হয়। কিন্তু মুফতি মুফাচ্ছেররা কী কারো সমাধান দিতে পারে? কারো কোনো সাহায্য করতে পারে? আমরা ছাত্র জীবনেও দেখেছি এবং শুরুতে দেখেছি যে, আগে পাকিস্তান আমলে যারা হুজুর ছিলেন তাদেরকে দাওয়াত করে, মুরগী জবাই করে, পোলাও-কোরমা পাক করে খাওয়াইতেন, আবার টাকাও দিতেন। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সব হুজুররা উল্টা পথে গিয়ে ফতোয়া দিয়েছে যে, মুক্তিযোদ্ধা যারা তারা মুসলমান না। এই নির্বোধ হুজুররাতো জানে না ৯ মাস পরে তাদের কী অবস্থা হবে। ৯ মাস পর তো এদের জেলখানায় ঢুকানো হয়েছে। সত্য নয় কী? আর এদের নেতা যারা ছিল তাদের তো ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আগামীকাল কী হবে এটাই যদি বলতে না পারে, তাহলে সে চলবে কিভাবে? সুতরাং, এই বিদ্যাটাকে ক্বালবের বিদ্যা বলে। এটা অর্জন করার জন্য অলী-আল্লাহর কাছে যেতে হয়। অলী-আল্লাহরা এই বিষয়টাকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আগে যখন হুজুর ছিলাম, তখনতো আমিও পিরের বিরোধিতা করেছি। মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও পিরদের বিপক্ষে বলছি, কিন্তু মোর্শেদের দরবারে যাওয়ার পরে আমার জীবনের ভুল ভেঙ্গেছে এবং আমি সেখানে গিয়ে সাধনা করে আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-কে পেয়েছি। মোর্শেদ আমাকে বলেছিলেন- আপনি ধর্মের সংস্কার করেন। আমি ক্ষমা চেয়েছি। আমাকে মাফ করেন। ধর্ম সংস্কার করার জ্ঞান আমার নেই। মোর্শেদ বলছেন, আল্লাহ আপনাকে এই জ্ঞান দিয়েছেন। আপনি এটা করেন। আমি ক্ষমা চেয়েছি। মোর্শেদ পর্দা করার পরে দেখলাম বাস্তবিকই সেই জ্ঞান আছে। আমি ধর্মের সংস্কার শুরু করেছি।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আগে আশুরা পালিত হতো শিয়াদের অনুষ্ঠান হিসেবে। আমরাও জানতাম এটা শিয়াদের অনুষ্ঠান। একবার আশুরার মিছিলে আমি দাঁড়িয়ে দেখলাম, এরা কী করে। তখনতো আশুরা পছন্দ করতাম না। আল্লাহ দয়া করে আমার ভুল ভেঙ্গেছে। আমি বুঝতে পেরেছি আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান নয়, এটি আল্লাহর অভিষেকের অনুষ্ঠান। এরপর থেকে আমি লক্ষ লক্ষ লিফলেট ছেড়ে প্রচার করেছি আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান নয়, আল্লাহর অভিষেকের অনুষ্ঠান। পর্যায়ক্রমে সরকারের কাছে প্রস্তাব করে এই আশুরা চালু করলাম এবং সারাদেশে প্রকাশ করলাম। তখন হুজুররা বলছে আমি শিয়া হয়ে গেছি। আমি কী শিয়া? বরং তোমরা যাদেরকে শিয়া বলো তারাই আশেকে রাসুল। তারাই রাসুল প্রেমিক। তারাই রাসুলের আশেক। পর্যায়ক্রমে আমি একের পর এক ধর্মের সংশোধন করে সরকারকে দিয়েছি, সরকার এগুলো বাস্তবায়ন করেছে। ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) ছিল না, আমি এটা প্রমাণ দিয়ে সরকারকে বুঝিয়েছি ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) মুসলমানদের সবচেয়ে বড়ো ঈদ। এরপরে জাতির কাছে এটা প্রমাণ করেছি। এখন ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) সরকারও ধূমধামের সাথে পালন করে, আশেকে রাসুলরাও পালন করে। এটাতো ছিলই না, বরং উল্টাটা ছিল এটি নাকি শিরক, বিদআত। রাসুল প্রেমিক যারা তারা যা করে এটাকে মোল্লার দল বলে শিরক, বিদআত। আর এরা যা করে এদের কর্মটা আল্লাহ প্রকাশ করে দিয়েছেন। আপনারা দেখেন টেলিভিশনে এবং সংবাদমাধ্যমে যে হুজুররা কী কর্ম করে। এরা যা করে এদেরকে পরিচয় দেওয়া যায় কি? সুতরাং, এই বিপথগামী সম্প্রদায়টি মিলাদ, কিয়ামের বিরোধিতা করে। অলী-আল্লাহদের বিরোধিতা করে, মাজারের বিরোধিতা করে। বলে মাজার জায়েজ না। সারা বিশ্বের মুসলমানরা হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরীফ জিয়ারত করেন। তাহলে কি সবাই শিরক করছে? আর এই মোল্লার দলই সব সুন্নতে আছে? এদের কি কোনো ধর্ম আছে?
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
এরা পেটের দায়ে মাদ্রাসায় পড়ে। ভিক্ষা করে মাদ্রাসা চালায়। এতে বলে সোয়াব। ভিক্ষাতে কি সোয়াব আছে? সুতরাং, এই বিপথগামী সম্প্রদায়ই মূলত নবি-রাসুলদের বিরুদ্ধে, মাজারের বিরুদ্ধে, অলী-আল্লাহর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করে বেড়ায়। এরাই মসজিদে ইমামতি করে। যার নেই ইমান, তার পেশা হলো ইমামতি করা। মসজিদে ইমামতি করে মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে সংসার চালায়। আর যখন কুলায় না, তখন একটা মক্তব খুলে অজুহাত দেখায়, এই অজুহাতে টাকা ইনকাম করে নিজেরা চলার ব্যবস্থা করে। নিজেদের চলার জন্য ধর্ম না জেনে ধর্ম ব্যবসা খুলে বসছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
এদের কথা বিশ্বাস করবেন না। এরা মাইক দিয়ে মাহফিল করে, টিভিতে, পত্রিকায় এরা বিভিন্ন বাণী দেয়, যার কোনো অস্তিত্ব নেই। এদের সবাইকে আপনারা মাওলানা সাব বলেন। বলেন, না বলেন না? মাওলা অর্থ প্রভু। মাওলানা অর্থ আমাদের প্রভু। আপনারা কী কেউ হুজুরদের প্রভু মানেন? যদি না মানেন, তাহলে মাওলানা ডাকেন কেন? মাওলানা সরাসরি আল্লাহ। “আনতা মাওলানা ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।” আল্লাহ কোরআনে বলেছে, তোমরা এমন প্রার্থনা করো। আমাদের মাওলান কে বলেনতো? আল্লাহই হলেন মাওলানা। এই টাইটেল দিয়ে দিলো তিন পাতা পড়া ঐ হুজুররা! সে কি আল্লাহকে চিনে? আল্লাহ সম্বন্ধে জানে? সে কি ইমান সম্বন্ধে জানে? জিজ্ঞাস করেন ইমান কোথায় থাকে? এরা বলবে ইমান হলো কিতাব। এই কিতাবে কি কোনো ইমান আছে? কিতাব হচ্ছে কালির লেখা। সুতরাং, ধর্ম সম্বন্ধে এদের কোনো জ্ঞানই নেই। এরাই অপপ্রচার করে ধর্মটাকে নির্মূল করেছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আপনারা সরাসরি অলী-আল্লাহদের সহবতে যাবেন। অলী-আল্লাহদের সহবতে গেলে শান্তি পাবেন, এই শান্তিটা বিশ্বের কোথাও নেই। অলী-আল্লাহরা আমাদের দেশে জন্মেছে। আমরাতো হযরত রাসুল (সা.)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করিনি। আমি মোর্শেদের কাছে গিয়ে ধর্ম শিক্ষা করেছি। এই শিক্ষা দিয়ে আমি হযরত রাসুল (সা.)-কে দেখেছি, রাসুলকে জেনেছি। এই শিক্ষা দিয়েই আল্লাহকে দেখেছি, আল্লাহর পরিচয় পেয়েছি। আমি তাফসীর লিখেছি আট খন্ড। সেটা শুধু আল্লাহর পরিচয়। সব কোরআন ও হাদিস দিয়ে। এটা প্রকাশ করার পরে আস্তে আস্তে হুজুরদের ভুল ভাঙছে যে, আল্লাহকে দুনিয়াতে দেখা যায়। আল্লাহ নিরাকার নন। আগেতো বলেছিল নিরাকার। এখন নিরকার আল্লাহ এই কথাটা বন্ধ হয়েছে। আগেতো বলত হযরত রাসুল (সা.) ৭০ তালিওয়ালা জামা পড়ত, হযরত রাসুল (সা.) গরিব ছিলেন। আমি রাসুল (সা.) ধনী ছিলেন এবং গরিব ছিলেন না এর উপরে কিতাব লিখেছি এবং প্রচার করেছি। ফলে এখন হযরত রাসুল (সা.) গরিব ছিলেন, এই কথাটাও বন্ধ হয়েছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমি অনেকগুলা সংস্কার করেছি, যা বাস্তবায়ন হয়েছে, কার্যকর হয়েছে, কিন্তু আমার নাম বলে না। নাম না বললেও আমি চাচ্ছি যে, মানুষের ভুল ভেঙ্গে যাক। মানুষ সিরাতুল মুস্তাকিমে থাকুক। মানুষের যে ক্বালব আছে। সমাজে কি ক্বালব আছে? ক্বালবে আল্লাহর জিকির জারি হয়, ক্বালবে আল্লাহ থাকেন। সমাজে কি ক্বালবের ধারণা আছে? হুজুররা কি ক্বালব সম্বন্ধে কিছু জানে? সে আল্লাহ সম্বন্ধে কী জানে? বলে আল্লাহ সাত আসমানের উপরে। সাত আসমানের উপর আল্লাহ তাকে কী সাহায্য করবে! আল্লাহতো হযরত আদম (আ.)-এর ক্বালবে ঢুকে হুকুম দিয়েছিলেন, ‘ফাসজুদূ লী আদাম’ অর্থাৎ- তোমরা আদমকে সেজদা করো। আদমের মাধ্যমে আল্লাহ সেজদা নিলেন। আদমের মাধ্যমে যখন ফেরেশতাদের সরদার, মোয়াল্লেমুল মালাকুত ফেরেশতাদের নেতা সে যখন হযরত আদম (আ.)-কে সেজদা করে নাই অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম মানে নাই, আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে কাফের বললেন, বেহেশত থেকে বিতাড়িত করলেন। আমরা সে শয়তানের পাল্লায় পড়ছি, আমরা বলি মোর্শেদের কাছে যেতে হবে না। মোর্শেদের কোনো প্রয়োজন নাই। আমরা এমনিতেই ইমানদার হবো। আপনি ইমান পাবেন কোথায়? ইমান কোথায় থাকে? ইমান কি কিতাবে থাকে? ইমানতো থাকে মানুষের ক্বালবে। যার ক্বালবে জিকির জারি আছে সে ইমানদার। যার ক্বালবে জিকির জারি নাই সে ইমানদার নয়। দলাদলি করে ইমানদার হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমাদের এখানে যারা একটু বেশি বুঝে এগুলোকে আমি দরবার থেকে বের করে দেই। কারণ তাদের শিখতে হবে। না শিখে পান্ডিত্য দিয়ে নিজেকে অলী-আল্লাহ প্রমাণ করতে গেলে, এটা বিপথগামী। সুতরাং কোনো নবি-রাসুলই পন্ডিত ছিলেন না। ওনারা ছিলেন ক্বালবের বিদ্যায় বিদ্বান। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকেন সাইদুরের স্ত্রী যাদেরকে ক্বালব দেখিয়েছিল, তখনও আমার নামে মহিলা জাকেররা তওবা পড়েছেন। কার নামে তওবা পড়েছেন? মোর্শেদ কে ছিল? সুতরাং আমি আছি, না মরে গেছি? এরা প্রচার করছে আমি মারা গেছি। একটা মরা মানুষ কি কথা বলতে পারে? সুতরাং আমাদের প্রতিপক্ষটা সারা দেশে প্রচার করছে, আমি মারা গেছি। আমিতো এর মধ্যে হসপিটাল থেকে এসে আলোচনা করছি, আপনারা যখনই সময় পান সরকারের বিধি বিধান মেনে দরবারে আসবেন, যোগাযোগ করবেন। টেলিফোনের মাধ্যমে দরবারে যোগাযোগ করে আপনার সমস্যাটার সমাধান নিয়ে নিবেন। আমি জীবিত, না মৃত? আমি সুস্থ, না অসুস্থ? আর এরা প্রচার করছে, আমি পাগল হয়ে গেছি। আসলে কি আমি পাগল? যখন এদের মুখোশ খুলে দিয়েছি, তখন এরা আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছে। চোর, বাটপার, টাউট কি অলী-আল্লাহ হয়? আগে চুরি বিদ্যা ছেড়ে গোলামী করে, চরিত্র ঠিক করতে হয়। চরিত্রবান হয়ে সাধনা করে আল্লাহর নুর হৃদয়ে জ্বালাতে হয়। একটা জ্বালানো প্রদীপের সাথে শত শত নিভানো প্রদীপ মিশান, তাহলে ঐ প্রদীপগুলো আলোকিত হবে। হবে, না হবে না? একটা নিভানো প্রদীপের সাথে যদি নিভানো প্রদীপ মিশান ঐগুলো কি আলোকিত হবে? সুতরাং এই বিপথগামী দলটার ক্বালব বন্ধ হয়ে গেছে। এরা যখন উল্টা পথে চলছে, এরা বিপথগামী হয়েছে। যে কারণে এরা চুরি করতে পেরেছে, বাটপারি করতেছে, অপপ্রচার করতেছে। এদের তো কারো লতিফা নাই, লতিফা বন্ধ হয়ে গেছে। এরা বলে এরা তরিকার সব স্তর অতিক্রম করছে। স্তর অতিক্রম করলে এত বৎসর থেকে তার চরিত্রের পরিবর্তন হবে না? হবে, না হবে না? কোনো পরিবর্তন আছে এদের? আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। আমি আমার ধর্ম প্রচারের জন্য, মহিলাদের ক্বালব দেখানোর জন্য তখন ঐ সাইদুরের স্ত্রীকে বলছিলাম তুমি ক্বালব দেখিয়ে দাও। কাজতো করতাম আমিই। তখন মোরাকাবা করে তো আমাকেই দেখত।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
মানতের বিধানটা হযরত ইব্রাহিম (আ,)-এর জামানায় ছিল, হযরত মুসা (আ.)-এর জামানায় ছিল, হযরত রাসুল (স.)-এর জামানায় ছিল। এই মানতের বিধান আমার এখানে আছে, আমার মোর্শেদের দরবারেও ছিল। কোনো জটিল সমস্যা হলে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করে এর সমাধান দেওয়া হয় মানতের মাধ্যমে। বিপদ আসলে আমরা মিলাদ পড়ি এবং মানত করি। এতে আল্লাহর সাহায্য আসে, বিপদ দূর হয়ে যায়। মানত করলে নিয়ম হলো যেখানে মানত করে আপনার বিপদ দূর হয়েছে, সেখানে মানতটা পৌছাতে হয়। যদি মানত না পৌছান পরবর্তীতে আরো যদি কোনো বিপদ আসে, তখন মানত করলে আর কোনো উপকার হয় না। মানত যেখানে করবেন, সেখানে পৌছাবেন। এদের কাছে মানত দিলে তা আদায় হবে না। যাদের উপকার হয়েছে, বিপথগামীর কাছে মানত দিয়েছেন সেই মানত আপনাদের আদায় হবে না। সুতরাং দরবারের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং তরিকার আমল করেন। আর আমরা আশুরা আগামী রবিবারে পালন করব। আমরা এই আশুরা দিনভর পালন করব, আপনারা লাইভে দেখবেন এবং অংশগ্রহণ করবেন।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমি যা বলছি আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন? নিয়ম কানুন মেনে চলেন আল্লাহই আমাদেরকে হেফাজত করবেন। যারা চিন্তা করছিল কুতুবুল আকতাব দিয়া দরবার গড়বে! আগে করুক, টিকবে কীভাবে! আরে কুতুবুল আকতাব তো আমি বানিয়েছি এবং শর্ত দিয়েছি যে, এই শর্তের খেলাফ যদি কিছু করো তবে তুমি বাতিল হয়ে যাবে। শর্তের খেলাফ করছে, বাতিল হয়ে গেছে। আমি আবারও বলছি শর্তের খেলাফ করছে, বাতিল হয়ে গেছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আপনারা মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করেন, আর আশুরায় অংশগ্রহণ করবেন। আশুরা করার জন্য আমি বলছি, যেহেতু সরকার যেভাবে বিধান দিয়েছে, তাতে একত্রিত হওয়ার সুযোগ নাই। আমি বলছি আপনারা যার যার এলাকায় আমাদের যে ১১টা দরবার শরীফ আছে, সেই দরবারগুলোতে সম্মেলনের মতো গরু জবাই করে বিরানি পাক করে সবাই তাবারক বানান, আর আল্লাহর সাহায্য চান। আমাদের যতগুলো খানকা শরীফ আছে, প্রত্যেক খানকাতে ঐ এলাকার জাকেররা একত্রিত হয়ে আপনারা আশুরার অনুষ্ঠান করেন, তাবারুক পাকান, বিরানি পাকান, আপনারা সম্মেলনের মতো ফায়েজ বরকত পাবেন। যার এলাকায় খানকা শরীফ নেই, আপনারা নিজেদের বাড়িতে মিলাদ শরীফ পড়ে ফায়েজ বাতান এবং তাবারক পাকান, সম্মেলন পালন করেন। আমি চাচ্ছি ধর্মটাকে সহজ করতে। যাদের বাড়িতে খানকা শরীফ নেই আপনারা, নিজের ঘরেতেই তাবারুক পাকিয়ে নিজেরা খান অথচ এটাই সম্মেলনের তাবারুক। পরীক্ষা করে দেখেন, তাবারুক হয়, না হয় না?
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
সুতরাং যে বিষয়ে না বুঝেন দরবার শরীফে যোগযোগ করেন, জানেন। না জেনে বিপথগামীদের পরামর্শে কোনো কাজ করবেন না। করলে আপনারও বিপথগামী হবেন। যারা যারা উল্টাপাল্টা কাজ করছে, আমি সবগুলোরে দরবার থেকে বের করে দিয়েছি। আমি চাই না আমার তরিকায় বিপথগামী লোক থাকুক। মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করেন, আর আশুরাটা পালন করেন। প্রতি বৎসর আমরা আশুরা সামনা সামনি অনুষ্ঠান করি, এখন এই বিপদের কারণে আমরা অনলাইনের ব্যবস্থা নিয়েছি। আপনারা যার যার এলাকা থেকে, টিভির মাধ্যমে এই সম্মেলনে শরিক হবেন। আর যারা আশুরায় শরিক দিতেন আগে, আপনারা দরবার শরীফে শরিক দিতে পারেন। দরবার শরীফে শরিক দিবেন, তখন আমার হাতে এটা পৌঁছবে। আপনারা মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করেন, আর আশুরার প্রস্তুতি নেন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here