পবিত্র আশুরা: আল্লাহর অভিষেকের দিন

0
211

মানবজাতির ইতিহাসে যতগুলো মর্যাদাশীল দিবস আছে তাঁর মধ্যে পবিত্র আশুরা অন্যতম। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। পৃথিবীর বহু বড়ো বড়ো ঘটনা এ তারিখে সংঘটিত হয়েছে বলেই বছরের অন্যান্য দিনের মধ্যে এই দিনটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও মর্যাদাশীল। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে মহান আল্লাহ আশুরার দিনে এমন কতগুলো কার্য বাস্তবায়িত করেছেন, যা এ দিনকে বছরের অন্যান্য দিন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর প্রমাণ করেছে। আশুরার দিনে মহান আল্লাহ আরশে সমাসীন হয়েছেন বিধায় পবিত্র আশুরা সম্মানিত ও গৌরবান্বিত হয়েছে। এজন্য এ দিনকে আল্লাহর অভিষেকের দিন হিসেবে অভিহিত করা হয়। মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-কে এই দিনেই আল্লাহ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এছাড়া বহু নবি-রাসুল ও আল্লাহর বন্ধুগণ আশুরার দিনে বিপদ আপদ মুক্ত ও সম্মানিত হয়েছেন। এ পৃথিবীর অস্তিত্ব লাভের সঙ্গেও আশুরার দিনের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এদিনেই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন আসমান, জমিন, লওহ, কলম। শুধু যে এ পৃথিবী সৃষ্টির সাথেই এদিনের সম্পর্ক রয়েছে তা নয়, বরং পৃথিবী লয়ের সঙ্গেও রয়েছে এদিনের সম্পর্ক। কেননা, কিয়ামতও আশুরার দিনে কায়েম হবে। অপরদিকে মুসলিম জাতির জন্য আশুরা কান্না ঝরা শোকের দিনও বটে। এ দিনে মোহাম্মদী ইসলামের শেষ প্রদীপ হযরত রাসুল (সা.)-এর আদরের ধন, বীর কেশরী হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ও রমণীকুল শ্রেষ্ঠ, খাতুনে জান্নাত হযরত মা ফাতেম (রা.)-এর নয়ন মণি ইমাম হোসাইন (রা.)-কে দুরাচার এজিদ বাহিনী কারবালার মরুপ্রান্তরে সপরিবারে নির্মমভাবে শহিদ করে। তাঁকে শহিদ করার মাধ্যমে মোহম্মদী ইসলামের কবর রচিত হয়। হযরত রাসুল (সা.)-এর পরিবারকে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহিদ করার দিবসটি শুধু শিয়া সম্প্রদায়ের শোক আর মাতমের দিন নয়। এই দিবসটি সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য কান্না ঝরা এবং শোকের।
মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান পবিত্র আশুরার মর্যাদা ও গৌরব জগতে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি পবিত্র আশুরার দিনে ১৯৮৫ সালে দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার মাধ্যমে এজিদের চক্রান্তে কারবালা প্রান্তরে বিলুপ্ত প্রায় মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবন দান করেন। বেলায়েতের যুগে তিনিই একমাত্র মহামানব, যিনি মহান আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্বরূপ জগতবাসীর কাছে প্রকাশ করেছেন। তাই পবিত্র আশুরা শুধু মর্সিয়া, মাতমের মজলিশ আর শোক মিছিলের নয়। আল্লাহর যে মহাসত্য মোহাম্মদী ইসলামকে জগতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ অসংখ্য মহামানব আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই তাওহিদের সত্যবাণী মোহাম্মদী ইসলামকে যাবতীয় কুসংস্কার পাপ-পঙ্কিলতার বেষ্টনী থেকে মুক্ত করে জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করার সংকল্প করা এবং খাঁটি অলী-আল্লাহর সহবতে গিয়ে তাঁর তাওয়াজ্জোহ ভিক্ষা নিয়ে ইমানকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এ পথে অগ্রসর হওয়াই আশুরার শিক্ষা। আর এ শিক্ষাই দিয়ে থাকেন মহান সংস্কারক যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান।
পবিত্র আশুরা ও দেওয়ানবাগ শরীফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ৩০ আগস্ট, ১০ মহররম, রবিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত হবে আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বাদ যোহর মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের বাণী মোবারক প্রদান শেষে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
উক্ত সম্মেলনে দেশে বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুলগণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে দিবসটির ফায়েজ বরকত ও রহমত হাসিল করার সুযোগ পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here