পবিত্র আশুরা উদযাপিত

0
160

হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। এই মাসের দশম দিবসকে আশুরা বলা হয়। আশুরার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। পবিত্র আশুরা আল্লাহর অভিষেকের দিন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সৃষ্টিজগত সৃজন করে এই আশুরার দিবসেই প্রভু হিসেবে আরশে সমাসীন হয়েছিলেন। ৬১ হিজরির এই আশুরার দিবসেই বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ও হযরত মা ফাতেমা (রা.)-এর নয়নমণি ইমাম হোসাইন (রা.) মোহাম্মদী ইসলাম রক্ষা করার জন্য কুখ্যাত এজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। আল্লাহর কি অপার মহিমা, আজ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে ১৯৮৫ সালের এই আশুরার দিবসেই আল্লাহর মহান বন্ধু, হাদিদের ইমাম, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবগাী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন দেওয়ানবাগ এলাকায় তাঁর দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং এই দিনটি দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানই প্রথম মহামানব, যিনি আশুরাকে আল্লাহর অভিষেকের দিন বলে ঘোষণা করেছেন। আর এই পবিত্র দিবসেই সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান তাঁর দরবার শরীফে আয়োজন করেছেন আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম এবং ফেসবুকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় দরবার শরীফ, আঞ্চলিক দরবার শরীফ, খানকা শরীফ এবং সকল আশেকে রাসুল মজলিসসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা এবং বিশ্বের ৩৫টি দেশের হাজার হাজার মানুষ আশুরার এই অনুষ্ঠানটি উদযাপন করেন।
সম্মেলনটি ফায়েজ বরকত ও রহমতে পরিপূর্ণ ছিল। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান সকল আশেকে রাসুল জাকেরবৃন্দের উদ্দেশে মহামূল্যবান ভাষণ প্রদান করেন। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান আল্লাহর অভিষেকের দিন পবিত্র আশুরার মর্যাদার কথা অত্যন্ত জোড়ালোভাবে উল্লেখ করে বলেন- আমাদের সমাজের একশ্রেণীর আলেম আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান বলে প্রচার করে থাকেন। অথচ আশুরার দিবসে আল্লাহ আরশে সমাসীন হয়েছেন, এদিনটি আল্লাহর অভিষেকের দিন। এক পর্যায়ে সূফী সম্রাট বলেন, আপনারা যারা আমার কাছে তরিকা গ্রহণ করেছেন, আপনাদের মোর্শেদ আমি। আর সকল মহিলাদেরকে আমার নামেই তরিকা দেওয়া হয়। সুতরাং পুরুষ-মহিলা জাকেরদের মোর্শেদ আমিই। সূফী সম্রাট তাঁর আলোচনার এক পর্যায়ে সকলকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন করেন আপনাদের মোর্শেদ কে? সমন্বরে সকলেই জবাব দিয়েছেন- আমাদের মোর্শেদ সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী। পবিত্র এই আশুরার অসিলায় আল্লাহ অসংখ্য নবি-রাসুলের বিপদ-আপদ দূর করেছেন। আর এই আশুরার দিবসেই পৃথিবীতে প্রায় ২ হাজার নবি-রাসুলের জগতে আবির্ভাব ঘটেছে।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অতঃপর হামদ, নাতে রাসুল (সা.), শানে মোর্শেদ ও আশুরার গজল পরিবেশন করা হয়। তাছাড়া সম্মানীত সুধীজন ও ওলামায়ে কেরাম সূফী সম্রাটের শিক্ষা, সংস্কার ও অলৌকিক কারামতসহ ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. নূর-এ-খোদা আল আজহারী (মা. আ.) হুজুর, কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন। সম্মেলনের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা ইমাড ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে এই বিশেষ সম্মেলন। অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কলা কৌশলী হিসেবে যারা কাজ করেছেন, তারাও অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া এমন সুন্দর ও বরকতময় একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরে, আপন মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের চেহারা মোবারক দেখতে পেয়ে এবং তাঁর মধুমাখা কণ্ঠে বক্তব্য শুনতে পেয়ে আশেকে রাসুল জাকেরবৃন্দ অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, গত ২৮ আগস্ট, শুক্রবার বাদ জুমা বক্তব্য প্রদান করার সময় সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেছেন- পবিত্র আশুরার দিন আপনারা খানকা শরীফে, জাকের মজলিসে বিরানীর ব্যবস্থা করুন। আর সবাই মিলে সেই বিরানীর তাবারুক খান। তাছাড়া বাসায়ও যদি আপনারা বিরানী রান্না করেন, তাও তাবারুক হয়ে যাবে। সত্যিই আল্লাহর মহান বন্ধুর এই অমিয় বাণী মোবারক সত্যে পরিণত হয়েছে। আশুরার সম্মেলনে খানকা শরীফ, জাকের মজলিস এমনকি বাসায়ও যারা বিরানী রান্না করেছেন, তাতে যে ঘ্রাণ ও স্বাদ ছিল, তাতে জাকের ভাই ও বোনেরা বলেছেন- এ যেন দরবার শরীফের তাবারকই তারা খাচ্ছেন।
মহামারি করোনা ভাইরাসের ফলে দীর্ঘ ৫ মাস পরে আপন মোর্শেদকে দেখতে পেয়ে এবং তাঁর মহামূল্যবান বাণী মোবারক শুনতে পেয়ে সকলেই যার পর নেই খুশি হয়েছেন। এ অনুষ্ঠানটি সর্বমহলে মোহাম্মদী ইসলামের এক নব জাগরণের সূচনা করেছে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক, মহান সংস্কারক, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান তাঁর মহামূল্যবান বাণী মোবারক প্রদান করে বিশ্ববাসির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here