পবিত্র আশুরা : সৃষ্টিজগতের অসংখ্য ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত দিন

1
1363

ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম. মঞ্জুর-এ-খোদা

ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এ মাসের ১০ তারিখ তথা পবিত্র আশুরার দিনটি এমনই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত যে, অনাদিকাল থেকে এদিনে অগণিত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, উত্থান-পতন ও সৃষ্টি ধ্বংসের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে এ আশুরার দিনে এমন সব ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা এদিনকে বছরের অন্যান্য দিন অপেক্ষা অধিকতর শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত করেছে। ফলে এদিনটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানব জাতির জন্যে পরম পবিত্র ও বরকতময়।

নিম্নে আশুরার দিনে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ উপস্থাপন করা হলো-

  • পবিত্র আশুরার দিবসেই মহান আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক হিসেবে আরশে সমাসীন হন।
  • এ দিন আরশে সমাসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছিল এবং সেই অনুষ্ঠানে সকল আদম সন্তানের রূহসমূহকে মহান আল্লাহ বলেন, “আমি কি তোমাদের প্রভু নই?” তারা বললো- “হ্যাঁ, আমরা সাক্ষী রইলাম আপনি আমাদের প্রভু।”
  • আশুরার এই দিনে সর্বপ্রথম বৃষ্টি ও আল্লাহর রহমত দুনিয়াতে বর্ষিত হয়।
  • মহান আল্লাহ এ দিবসে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি করে মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন এবং তাঁকে বেহেশতে প্রবেশ করান।
  • অতঃপর এ দিবসেই হযরত আদম (আ.)-কে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়।
  • ৩৯০ বছর কান্নাকাটি করার পর হযরত আদম (আ.) হযরত রাসুল (সা.)-এর অসিলায় আশুরার পবিত্র দিবসেই আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করেন।
  • এ পবিত্র দিনেই হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা মহাপ্লাবন শেষে জুদী পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল।
  • পবিত্র আশুরার দিবসেই হযরত ইব্রাহীম (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।
  • এ দিনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা পান।
  • হযরত আইয়ুব (আ.) কুষ্ঠ রোগে দীর্ঘ ১৮ বছর যন্ত্রণা ভোগের পর আশুরার এ দিবসেই আরোগ্য লাভ করেন।
  • হযরত ইদ্রিস (আ.)-কে এ দিবসেই জান্নাতে উঠিয়ে নেওয়া হয়।
  • এ দিবসে হযরত দাউদ (আ.) আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করেন।
  • এ দিনে হযরত সোলায়মান (আ.) তাঁর হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হন।
  • এ দিবসে হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে ৪০ দিন পর মুক্তি লাভ করেন।
  • এ দিবসে হযরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.)-কে ৪০ বছর পর ফিরে পান।
  • এ দিবসে ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু হযরত মুসা (আ.)-কে সন্তানরূপে গ্রহণ করেন।
  • আবার এ দিবসে হযরত মুসা (আ.) স্বীয় অনুসারীদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সদলবলে সেখানে ডুবে মারা যায়।
  • এ দিনে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪র্থ আসমানে উত্থিত হন।
  • এ দিনেই হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ও খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (রা.)-এর হৃদয়ের ধন ইমাম হোসাইন (রা.) মাত্র ৭২ জন সঙ্গী নিয়ে দুরাচার এজিদের ২২ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করে শাহাদত বরণের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
  • হযরত রাসুল (সা)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম বিশ্বময় প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালের এ আশুরার দিবসে সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন।

[লেখক: পরিচালক, দেওয়ানবাগ শরীফ; সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ]

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here