পবিত্র ঈদুল আজহা

0
240

পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সমাজে একে বক্রা ঈদও বলা হয়। এই ঈদ সাধারণত কোরবানিকে ঘিরে। ঈদুল আজহা হলো- কোরবানির আনন্দ বা খুশি। আমরা বছরে তিনটি ঈদের খুশি পালন করে থাকি। একটি হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ঈদ, অপর দুটি হলো- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ঈদ। ৯ জিলহজ পবিত্র হজের পরের দিন হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তৎপুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, যে পশু কোরবানি দেওয়ার রেওয়াজ আছে তা-ই ঈদুল আজহা। এটি মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব এবং সুন্নতে ইব্রাহীম। হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর শিক্ষা মোতাবেক পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভে সক্ষম হওয়াই কোরবানির মুখ্য উদ্দেশ্য। এই মর্মে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ বলেন, “আল্লাহ্র নিকট কোরবানির রক্ত ও মাংসের কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতি।” যার কোরবানি মহান আল্লাহ্র নিকট গ্রহণযোগ্য হয়, মূলত তার জন্যই ঈদের খুশি। ঈদ আমাদের জন্য বয়ে আনে অনাবিল শান্তি ও রহমত-বরকতের বারতা। কাজেই পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে রহমত-বরকত অর্জন করতে হলে রহমতের আধার হযরত রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসার পাত্র যিনি, তাঁর সান্নিধ্যে যেতে হবে। আর তা পারলেই ঈদের আনন্দ অর্জন করা সম্ভব হবে। দামী আর মোটা তাজা পশু কোরবানির মাধ্যমে আমরা ঈদের খুশি খুঁজে থাকি। আবার অনেকেই বেশী দামে পশু ক্রয়ের জন্য বাজারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে থাকে। এতে ঈদের প্রকৃত খুশি অর্জিত হয় না। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ দেখেন কোরবানি দাতার মনের অবস্থা। কোরবানিকৃত পশুর মাংস মানুষেই খায় কিন্তু খুশি হন আল্লাহ্। তিনি শুধু দোখেন বান্দার মনের অবস্থা বা তাকওয়া।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমরা বিশ্ব মুসলিম একই দিনে কোরবানির ঈদ পালন করতে পারি না। দেখা যায়, ইসলামের প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরবের চেয়ে আমরা ১/২ দিন পরে কোরবানির ঈদ পালন করে থাকি। এতে কোরবানির উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আরো দেখা যায়, আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করেন। তাদের এ কাজটিতে বাধা না দেওয়ায় এতে আমাদের সম্মতির চিত্রই ফুটে ওঠে। ঈদ নিয়ে এই যে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা, তা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদেরকে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা প্রয়োজন। কারণ সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে না পারলে সেই কাজের সুফল পাওয়া যায় না। ঈদুল আজহা পবিত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানটি পালনের উদ্দেশ্য হলো- মহান আল্লাহ্কে খুশি করে তাঁর নৈকট্য লাভ করা। মূলত আপন প্রিয় বস্তু আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে কোরবানি করে তাঁর নৈকট্য লাভ করাই হাকিকতে কোরবানি। এছাড়া যে কর্মের দ্বারা মানুষ আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করে থাকে, তা-ই তার জন্য কোরবানি। আর আল্লাহ্ পাকের নৈকট্য লাভের মুহূর্তটি বান্দার কাছে যে মহা আনন্দের ও খুশির, সেটাই প্রকৃত ঈদ বা খুশি।
আল্লাহ্র মহান বন্ধু, সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান তাঁর লিখিত ‘ঈদ সমস্যার সমাধান’ গ্রন্থে একই তারিখে বিশ্বব্যাপী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের সুষ্ঠু সমাধান দিয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের মুসলমানগণ একই তারিখে ঈদসহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে সক্ষম হবেন। তাই আসুন, আমরা নিজের পশু প্রবৃত্তিকে আল্লাহ্র রাহে উৎসর্গ করার মাধ্যমে হাকিকতে কোরবানির ফজিলত হাসিল করে, আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি। আর তা করতে পারলে অর্জিত হবে ঈদুল আজহার প্রকৃত আনন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here