পবিত্র কুরআনের বাংলা পদ্যানুবাদ ও নজরুল

0
299

মুহাম্মদ জহিরুল আলম

দার্শনিক কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা সাহিত্যের সকল অঙ্গনে রয়েছে তাঁর আধিপত্য। নজরুলের কবিতা এবং গানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক ফুটে উঠে। তাঁর ইসলামী গানের মূল ভাব পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে রচিত। প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি বাংলা গানের স্রষ্টা, সুরকার ও গায়ক তিনি। তাঁর রচিত ইসলামী গানগুলো মনে হয় যেন প্রায় অনুবাদের ভাষা। যেমন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন, “(হে হাবিব!) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্ও তোমাদের ভালোবাসবেন, তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন।” (সূরা আলে ইমরান ৩ : আয়াত ৩১)। নজরুল তাই গেয়ে যান-

আল্লাাহ্কে যে পাইতে চায় হযরত কে ভালবেসে
আরশ কুর্সী লওহ কালাম না চাইতেই পেয়েছে সে।
রসুল নামের রশি ধ’রে
যেতে হবে খোদার ঘরে,
নদী তরঙ্গে যে পড়েছে, ভাই
দরিয়াতে সে আপনি মেশে।
তর্ক করে দুঃখ ছাড়া কী পেয়েছিস অবিশ্বাসী,
কী পাওয়া যায় দেখনা বারেক হযরতে মোর ভালবাসি?
এই দুনিয়ায় দিবা-রাতি
ঈদ হবে তোর নিত্য সাথী;
তুই যা চাস তাই পাবি হেথায়, আহমদ চান যদি হেসে।

বহু সাধনার পর, নজরুল পবিত্র কুরআন অনুবাদ করার কাজে হাত দেন। নজরুল বিশ্বাস করতেন কুরআন শরীফ সরল বাংলায় পদ্যানুবাদ হলে সহজেই তা মানুষের মনে স্থান পাবে। ‘নজরুলের কাব্য আমপারা’ এ ক্ষেত্রে অনেক সফল। যথার্থ অর্থের পাশাপাশি প্রতিটি সূরার অনুবাদের শিল্প স্বার্থকতা রয়েছে। তার মাঝে কয়েকটি সূরা ও শানে নজুল পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

সূরা মাঊন
(৭টি আয়াত ও ১টি রুকূ, মক্কী)

শুরু করি নামে সেই পবিত্র আল্লার
করুণা দয়ার যাঁর নাই শেষ পার।

১. তুমি কি দেখেছ, বলে ধর্ম মিথ্যা যেই?
২. পিতৃহীনে তাড়াইয়া দেয়, ব্যক্তি এই।
৩. দরিদ্র কাঙালগণে অন্নদান তরে,
৪. এই লোক উৎসাহ দান নাহি করে।
৫. যাবে ভন্ড তপস্বীরা বিনাশ হইয়া,
৬. ভ্রান্ত যারা নিজেদের নামাজ লইয়া,
৭. সৎকাজ করে যারা দেখাইতে লোক,
৮. বাধা দেয় দান ধ্যান, ধ্বংশ তারা হোক!
সূরা মাঊন মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়। এখানে ৭টি আয়াত, ২৫টি শব্দ, ১১৫টি অক্ষর ও ১টি রুকূ রয়েছে। নজরুল এখানে মূলানুগ অনুবাদ করেছেন অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ ঠিক রেখেছেন।। যারা ধর্মকে মিথ্যা মনে করে, পিতৃহীনকে যারা তাড়িয়ে দেয়, দরিদ্র কাঙালকে যারা অন্নদানে উৎসাহ দেয় না- এ ধরনের লোকদের পরিণাম এখানে বলা হয়েছে। যারা নামাজ পড়ে, কিন্তু নামাজ সম্পর্কে উদাসীন এবং লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে, এবং গৃহস্থালীর বা যাকাতের সাহায্যদানে বিরত থাকে তাদের দুর্ভোগ অনিবার্য। নজরুল এ ধরনের মানুষকে ‘ভন্ড তপস্বী’ বলেছেন। শানে নজুলে কবি বলেন, আবু জহল একজন মুমূর্ষু ব্যক্তির সন্তানের দায়িত্ব ভার নেয়। কিন্তু ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর বালকটিকে বিতাড়িত করে নিজেই বালকের পিতার সম্পত্তি ভোগ করতে থাকে। বালকটি ক্ষুধার্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় হযরত রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আবু জহলের অসদ্ব্যবহার ও অত্যাচারের কাহিনী প্রকাশ করে। রাসুল (সা.) আবু জহলের নিকট গিয়ে এর প্রতিকারার্থে তাকে কেয়ামতের ভয় দেখালে, আবু জহল কেয়ামতের প্রতি অসত্যারোপ করে। তখন রাসুল (সা.) দুঃখিত হয়ে ঘরে ফেরেন।
আবু সুফিয়ান সম্মান লাভের ইচ্ছায় প্রতি সপ্তাহে দুইটি করে উট জবেহ করে সম্ভ্রান্ত কোরায়েশদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়াত। একদিন কোনো পিতৃহীন বালক আবু সুফিয়ানের বাড়ীতে নিমন্ত্রণের দিন উপস্থিত হয়ে কিছু মাংস ভিক্ষা চায়। তখন সে বালকটিকে আঘাত করে বিতাড়িত করে ; এজন্য এই সূরা নাজিল হয়। (ইমাম রাজী)। অনেকে বলেন- কেয়ামত অমান্যকারী পাপী আ’স কিংবা ধনশালী, অবাধ্য ও অহংকারীদের সম্বন্ধে এ সূরা অবতীর্ণ হয়েছিল।

সূরা কুরায়শ
(৪টি আয়াত ও ১টি রুকূ, মক্কী)

শুরু করিলাম শুভ নামে আল্লার
রহিম ও রহমান যিনি দয়ার পাথার

১. কি অদ্ভুত আচরণ কোরায়শগণের,
২. ব্যক্ত যাহা পর্যটনে শীত গ্রীষ্মের।
৩. এখন উচিত, তারা সেই অনুরাগে,
৪. এই গৃহাধিপতির অর্চনায় লাগে।
৫. যিনি অন্ন দিয়াছেন তাদের ক্ষুধায়,
৬. ভয়ে দিয়াছেন শান্তি-পূজুক তাহায়।
সুরা কুরায়শ মক্কায় নাজিল হয়। এতে ৪টি আয়াত, ১৭টি শব্দ, ৭৯টি অক্ষর ও ১টি রুকূ রয়েছে। নজরুল সূরার অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। ‘করশ’ শব্দ থেকে কোরায়শ শব্দ উৎপন্ন হয়েছে, এর আভিধানিক অর্থ – সংগ্রহ করা বা উপজীবিকা সংগ্রহ করা। কোরায়শগণ ব্যবসায় দ্বারা অর্থ বা উপজীবিকা সংগ্রহ করতেন। এ জন্য তারা এই নামে অভিহিত হতেন। নজরুল কুরায়েশদের বাণিজ্য ‘আসক্তি’র চাইতে তাদের বাণিজ্যের নিরাপত্তার উপর জোর দিয়েছেন। এ বিষয়টিই তিনি ‘অদ্ভুত আচরণ’ বলেছেন। এতে তাদের প্রতি আল্লাহ্র করুণা প্রকাশিত হয়।
নজরুল ‘এবনে আব্বাসের’ মতো অনুসরণ করে শানে নজুলে বলেন, আরব দেশের সর্বাপেক্ষা পরাক্রমশালী সম্প্রদায় কেলাবের পুত্র কোসাইয়ের বংশধরেরা এ নামে অভিহিত হতেন। তারা বাণিজ্যের জন্য শীতকালে ইয়ামেন প্রদেশের দিকে ও গ্রীষ্মকালে শাম (সিরিয়া) দেশের দিকে যেত। কাবাগৃহের রক্ষক ও অধিপতি বলে উভয় দেশের শাসকগণ তাদের প্রচুর সম্মান করত। তারা বস্ত্র ও খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় বস্তু স্বদেশে অনয়ন করে প্রচুর লাভবান হতো। কানানার পুত্র নাজেরকে কোরায়েশ নামে অভিহিত করা হতো এবং তার বংশধরেরা এ নামে অভিহিত হতে থাকে। দয়াল রাসুল (সা.) ও তাঁর ৪জন খলিফা এ বংশের ছিলেন। আবরাহার দলের উপর জয়ী হওয়ায় আবেসিনিয়াবাসীদের সম্বন্ধে এই সূরা নাজিল হয়।

সূরা ফীল
(৫টি আয়াত ও ১টি রুকূ, মক্কী)

শুরু করিলাম শুভ নামে সে আল্লার,
করুণা-নিধান যিনি কৃপা-পারাবার।

১. দেখ নাই, তব প্রভু যেমন (দুর্গতি)
করিলেন সেই গজ-বাহিনীর প্রতি?
২. (দেখ নাই, তব প্রভু) করেননি কি
বিফল তাদের সেই দুরভিসন্ধিরে?
৩. পাঠালেন দলে দলে সেথা পক্ষী আর
৪. করিতে লাগিল তারা প্রস্তর প্রহার
৫. গজপতিদেরে। তিনি তাদের তখন
করিলেন ভক্ষিত সে তৃণের মতন।
সূরা ফীল মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে। এখানে ৫টি আয়াত, ২৪টি শব্দ, ৯৪টি অক্ষর ও ১টি রুকূ রয়েছে। প্রথম চরণে নজরুল ‘দুর্গতি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, দ্বিতীয়ত, ‘দেখ নাই, তব প্রভু’ ছন্দের প্রয়োজনে ব্যবহৃত, তৃতীয়ত ‘প্রস্তর কংকরের’ পরিবর্তে ‘প্রস্তরে প্রহার’ শব্দ ব্যবহার করে তাদের দুর্গতির চিত্র তুলে ধরেছেন। শেষ চরণে ‘ভক্ষিত’ ও ‘তৃণের’ মধ্যে ‘সে’ শব্দটি যুক্ত করে কাব্য মাধুর্য এনেছেন।

শানে নজুলে নজরুল বলেন, ইয়ামেন প্রদেশের শাসনকর্তা আবরাহা ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে ইয়েমনের ‘ছানয়া’ নামক স্থানে রত্নরাজি খচিত ‘কলিসা’ নামে একটি গির্জা প্রস্তুত করে সেখানে উপাসনার জন্য লোকদের আহবান করে। ধার্মিক লোকেরা তার আদেশ অমান্য করে বলেই সে কাবা শরীফ ধ্বংসের প্রস্তুতি নেয়। আবরাহা যুদ্ধ ঘোষণা করিলে, কাবার মর্যাদা রক্ষায় মহান আল্লাহ্ দলে দলে আবাবিল পাখি প্রেরণ করেন। তারা উপর থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করে আবরাহার সমস্ত হাতি ও সৈন্য বিনাশ করে। এ ঘটনার কিছুকাল পর হযরত রাসুল (সা.) জন্ম গ্রহন করেন। কোরেশগণের উপর আল্লাহ্ যে মহা অনুগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তাই এ সূরায় বর্ণিত হয়েছে।

সূরা হুমাযা
(৯টি আয়াত, মক্কী)

শুরু করিলাম শুভ নামেতে আল্লার
দয়া করুণার যিনি অসীম আধার।

১. নিন্দা ও ইঙ্গিতে নিন্দা করে যে-তাহার
২. গ’নে গ’নে রাখে ধন, জামায় যে আর,
৩. চিরজীবি হবে ধনে মনে যেই করে,
সর্বনাশ (ইহাদের সকলের তরে)
৪. নিশ্চই নিক্ষিপ্ত হবে সে যে ‘হোতামায়’
৫. ‘হোতামা’ কাহারে বলে, জান কি তাহায়?
৬. (ইহা) আল্লার সেই লেলিহান শিখা,
৭. হৃদপিন্ড স্পর্শ করে যে (জ্বালা দাহিকা)।
৮. রুদ্ধদ্বার সে অনল আবদ্ধ আবার
৯. দীর্ঘ স্তম্ভে (আশা নাই মুক্তির তাহার।)
এ সূরা মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে ৯টি আয়াত, ৩৩টি শব্দ ও ২৩৫টি অক্ষর আছে। সূরাটি অনুবাদ করতে গিয়ে নজরুলের শিল্পবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। এ সূরায় তিনটি ঘৃণ্য অপরাধ তথা পরোক্ষ নিন্দা, সম্মুখের নিন্দা ও অর্থ লিপ্সা এর শাস্তি ও তার তীব্রতার কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, জহান্নামের অগ্নি হৃদয়কে পর্যন্ত গ্রাস করে। পৃথিবীতে মানব দেহে আগুন লাগলে হৃদয় পর্যন্ত পৌছাবার আগেই তার মৃত্যু হয়। কিন্তু জাহান্নামে মৃত্যু নেই। তাই জীবিত অবস্থাতেই হৃদয় পর্যন্ত অগ্নি পৌঁছাবে এবং হদয় দহনের যে জ্বালা তা জীবিত থেকেই মানুষ উপলব্ধি করবে। এ বিষয়টিতে নজরুল জোর দিয়ে ‘দীর্ঘ স্তম্ভে’র পর বন্ধনীর মধ্যে ‘আশা নাই মুক্তির তাহার’ বাক্যটি যুক্ত করেন।

কবি শানে নজুলে বলেন, ধর্মদ্রোহী আখনাস, অলিদ, ওবাই, ওমাইয়া, জমি ও আস সাক্ষাতে হযরত রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত এবং অসাক্ষাতে তাদের অপবাদ প্রচার করত। এ জন্যই এ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা আসর
(৩টি আয়াত, মক্কী)

শুরু করি শুভ নামে সেই আল্লার
করুণা-আধার যিনি কৃপা পারাবার

১. অনন্ত কালের শপথ, সংশয় নাই,
২. ক্ষতির মাঝারে রাজে মানব সবাই।
৩. (তারা ছাড়া) ধর্মে যারা বিশ্বাস সে রাখে,
৪. আর যারা সৎকাজ করে থাকে।
৫. আর যারা উপদেশ দেয় সত্য তরে।
৬. ধৈর্যে সে উদ্বুদ্ধ যারা করে পরস্পরে।সুরাটি মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে ৩টি আয়াত, ১৪টি শব্দ ও ৭৪টি অক্ষর রয়েছে। সূরাটি নজরুলের প্রায় আক্ষরিক অনুবাদ। প্রথম চরণে ‘মহাকাল’ ও ‘অনন্তকাল’ প্রায় সমার্থক। শানে নজুলে কবি বলেন, একদিন হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর পূর্ববন্ধু কালদার সঙ্গে বসে আহার করছিলেন। কথা প্রসঙ্গে কালাদা বলল- আপনি দক্ষতা সহকারে বাণিজ্য করে লাভবান হয়ে আসতেছেন- বর্তমানে পৈত্রিক ধর্ম (প্রতিমা পূজা) পরিত্যাগে মহা ক্ষতিগ্রস্থ হলেন। এর উত্তরে হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, যে সত্য ধর্ম অবলম্বন ও সৎকার্য সম্পাদন করে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেনা। সে সময় এ সূরা অবতীর্ণ হয়। এবনে আব্বাসের মতে এ সুরা অলিদ, আ’স কিংবা আসওয়াদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। মোকাতেলের মতে, আবু লাহাবের সম্বন্ধে এটি অবতীর্ণ হয়েছিল।


সূরা তাকাছুর
(৮টি আয়াত ও ১টি রুকূ, মক্কী)

শুরু করি লয়ে শুভ নাম আল্লার
নাহি আদি নাহি অন্ত যার করুণার

১. অধিক লোভের বাসনা রেখেছে তোমাদের মোহ-ঘোরে।
২. যাবৎ না দেখ তোমরা গোরস্থানের আঁধার গোরে।
৩. না, না, না, তোমরা শীঘ্র জানিবে পুনরায় (কহি) ত্বরা
৪. জ্ঞান হবে; না, না, হতে যদি জ্ঞানী ধ্রুব সে জ্ঞানেতে ভরা।
৫. দোজখ-অগ্নি করিবে তোমরা নিশ্চয় দর্শন
৬. দেখিব তাহাদের তারপর লয়ে বিশ্বাসীর নয়ন।
নিশ্চই তার পরে
৭. হইবে জিজ্ঞাসিত আল্লাহ্র চির সম্পদ তরে।
সুরা তাকাছুর মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়। এখানে ৮টি আয়াত, ২৮টি শব্দ, ১২৩টি অক্ষর ও ১টি রুকূ আছে। তাকাছুর অর্থ প্রাচুর্যের গর্ব করা। নজরুল চমৎকার ছন্দে নিখুতভাবে সূরাটির অনুবাদ করেছেন। ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা’ স্থলে লিখেছেন ‘অধিক লোভের বাসনা’, ‘কবর’ শব্দের পরিবর্তে ‘গোরস্থান’। শানে নজুলে কবি লিখেন, কোরেশ বংশের এক শাখার নাম বণি-আব্দ-বেনে মান্নাফ, অপর শাখার নাম বণি-সাহম। প্রত্যেক গোত্র অহংকারে মত্ত হয়ে বলতে লাগল- আমরা অর্থে, ঐশ্বর্যে, সম্ভ্রমে ও লোক সংখ্যায় শ্রেষ্ঠতর। প্রত্যেক দল স্বীয় গৌরব বৃদ্ধির জন্য নিজেদের দলভুক্ত লোকদের গণনা আরম্ভ করে, এমনকি লোকসংখ্যা গণনার জন্য তারা গোরস্থানে যায়। সে সময় এ সূরা নাজিল হয়। মতান্তরে, ইহুদিদের নামে সংখ্যাধিক্য নিয়ে কলহের সূত্রপাত হলে মদিনাবাসী বণি-হারেস ও বণি-হারেসা এই দুই দল পরস্পর ধনৈশ্বর্যের অহংকার করায় এ সূরা নাজিল হয়।
পবিত্র কুরআনের পদ্যানুবাদ নজরুলের কাব্য শৈলীতে অসাধারণ হয়ে ফুটে ইঠেছে। পারস্যের মহাকবি হাফিজ ও ওমর খৈয়াম-এর ‘রুবাইয়াৎ’ বাংলায় অনুবাদ করে তিনি আমাদের বিশ্বসাহিত্যের সৌরভ এনে দিয়েছেন। তাঁর কাব্যানুবাদ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। নজরুলের সাহিত্যকর্মে সুফি দর্শন মূর্ত হয়ে উঠে। সাহিত্যের রসবোধের মাধ্যমে তিনি ‘প্রভু প্রেম’ মানুষের মাঝে তুলে ধরেছেন।
(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here