পবিত্র লাইলাতুল বরাত

1
186

মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন মানব জাতির জন্য যে কয়টি বরকতময় ও সৌভাগ্যের রজনি দান করেছেন, পবিত্র লাইলাতুল বরাত তার মধ্যে অন্যতম। লাইলুন অর্থ-রাত্রি, বরাত অর্থ-নাজাত. মুক্তি ও নিষ্কৃতি। লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতকে ভাগ্য রজনি বলা হয়। এ রাতে পাপী-তাপী বান্দারা মহান আল্লাহ্ পাকের ইবাদত বন্দেগির বরকতে মুক্তি লাভ করে বিধায়, তা লাইলাতুল বরাত নামে আখ্যায়িত হয়েছে। বছর ঘুরে রহমতের ভাণ্ডার নিয়ে ফিরে আসে লাইলাতুল বরাত। এ রাত মানবজাতির জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম জাতির জন্য শবে ক্বদরের ন্যায় শবে বরাতের গুরুত্বও অপরিসীম। তাই তারা ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণের জন্য বরাতের রাতটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালন করেন। হিজরী বর্ষের অষ্টম মাস শাবান। আর এ মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে এই মহিমন্বিত রাতটি আমাদের জন্য মহাসৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ ঘোষণা করেন, ‘‘এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ বন্টন করা হয়।’’ (সূরা দূখান, আয়াত ৪) হযরত ইকরামা (রা.)-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট তাফসীরকারক অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, উপরোক্ত আয়াত শবে বরাত অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তাফসীরে আরো বর্ণীত হয়েছে যে, সর্বযুগের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত রাসুল (সা.) ঘোষণা করেন, “এক শাবান হতে অপর শাবান পর্যন্ত প্রতিটি বস্তুর সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তখন এরূপ হয় যে, এক ব্যক্তির বিয়ে হলো এবং তার সন্তান জন্ম নিলো, পরবর্তীতে মৃতের মধ্যে তার নাম তালিকাভুক্ত হলো।’’ হযরত রাসুল (সা.) অন্যান্য মাস অপেক্ষা শাবান মাসেই বেশি নফল রোজা রাখতেন। শাবান মাস রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে।

হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ‘‘শাবান মাসের ১৫তম রাতে তোমরা আল্লাহ্ পাকের ইবাদতে মশগুল হয়ে যাও এবং এদিনে রোজা পালন কর, কেননা ওই দিন সূর্যাস্তে যাওয়ার পর পরই মহান আল্লাহ্ চতুর্থ আসমানে এসে বলতে থাকেন, কে আছ ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কে আছ রিজিক প্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দান করবো। কে আছ বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে বিপদ মুক্ত করবো।’’

ফজর হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এরূপ বলতে থাকেন। একদা শাবান মাসের ১৫তম রাতে হযরত রাসুল (সা.) উম্মুল ম’ুমেনিন হযতর আয়েশা (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘‘হে আয়েশা! তুমি কি জানো আজ কোন রাত? হযরত আয়েশা (রা.) উত্তরে বললেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসুল (সা.) ভালো জানেন।’’ তখন হযরত রাসুল (সা.) জানালেন, এটি হচ্ছে শাবান মাসের ১৫তম রাত। এ রাতটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, এ রাতেই আল্লাহ্ বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন।

আমরা জানি যে, বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) হলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন। সৃষ্টি জগতে আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ হতে হযরত রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমেই রহমত বরকত বর্ষিত হয়ে থাকে। তিনি হলেন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত স্বরূপ। কাজেই পবিত্র শবে বরাতে রহমত বরকত অর্জনের জন্য আমাদেরকে হযরত রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। তাঁর পক্ষ হতে রহমত বরকত লাভের উপায় হচ্ছে, তাঁকে পার্থিব জীবনের সব কিছুর ঊর্ধ্বে ভালোবেসে তাঁর আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তাঁরই নির্দেশিত পথে প্রতিষ্ঠিত থাকা। তবে কোনো অলী-আল্লাহ্র সান্নিধ্যে গেলে রাসুল (সা.)-এর প্রেম ভালোবাসা হৃদয়ে জাগ্রত হয়।

উল্লেখ্য, এ বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কেন্দ্রিয়ভাবে দেওয়ানবাগ শরীফে সম্মিলিতভাবে শবে বরাত পালিত হবে না। তাই সকলকে নিজ নিজ বাসায় শবে বরাতের নামাজ ও ইবাদত বন্দেগি এবং সেই সাথে পূর্ণিমার রাতের ২ রাকাত সালাতুশ শোকর আদায় করার জন্য বলা হয়েছে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here