পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে ব্যাংকারদের

2
222

তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের

পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই ব্যাংকিং সেবা দিতে হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে। দেশব্যাপী লকডাউনের মধ্যে অফিসে যাওয়ার জন্য তাদের জন্য রাখা হয়নি কোনো পরিবহন ব্যবস্থা। করোনা ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে সরবরাহ করা হয়নি পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা অফিস নির্দেশনা দিয়ে বাসায় অবস্থান করছেন। কিন্তু তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু চাকরি রক্ষার জন্য সবধরনের ঝুঁকি মাথায় রেখেই অফিস করতে হচ্ছে তাদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। হিসাব সম্পন্নসহ অন্যান্য কাজ চলছে দেড়টা পর্যন্ত। তবে কিছু কিছু ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেন সম্পন্ন করতে সাড়ে ৩টা বেজে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্যাংকের শাখা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে মানবিক বোধ বলতে এখন আর কিছু নেই। শীর্ষ নির্বাহীদের কাছ থেকে শুধু চাকরি খাওয়ার হুমকি ও চোখ রাঙ্গানি দেখা ছাড়া অন্য কিছু নেই। মরো আর বাঁচো প্রধান কার্যালয়ের দেওয়া বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতেই হয়। এমনকি বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মতো মহামারি রোগের প্রাদুর্ভারের মধ্যেও জীবনের সবধরনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার কোনও সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকে ছোটো পর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ায় অফিস করতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মতো অতিসংবেদনশীল রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখতে ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থাও তাদের জন্য রাখা হয়নি। অথচ জনগণের সাথে সম্পৃক্ত পেশাগুলোর মধ্যে ব্যাংকিং পেশাও একটি। ডাক্তার যেখানে নিরাপত্তামূলক পোশাক না পেলে রোগীকে স্পর্শ করছে না সেখানে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার কাগজের নোট স্পর্শ করতে হচ্ছে।

নিজেদের ব্যবস্থাপনায় শুধু হ্যান্ড গ্লাভস পড়ে টাকা লেনদেন করতে হচ্ছে, যা পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নয় বলে তারা মনে করেন। অথচ এ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ নিজ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরাও ভাবছেন না। তারা শুধু নির্বাহী আদেশ দিয়ে বাসায় অবস্থান করছেন।

এদিকে ব্যাংকগুলো রোস্টার সিস্টেমে তাদের শাখা খোলা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড মহানগর, নগর ও উপ-শহরের শাখাগুলোকে ক্লাস্টার করে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে যে কোনো একটি শাখা সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখছে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here