‘পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের’

0
238

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে অঘোষিত লকডাউনের কারণে সারাদেশের প্রায় সব হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ রয়েছে। কিন্তু রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলেও কর্মচারীদের বেতন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বিল ও নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকদের। এদিকে সারাবছরের মধ্যে রমজানে ইফতারি বিক্রিতে বড় লাভ হলেও এবারের রমজান মৌসুমের বাজার ধরতে পারার সম্ভাবনাও নেই বললে চলে। এসব কারণে চোখে অন্ধকারে দেখছেন হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিকরা। রেস্টুরেন্ট খাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজে ঋণ আস্বস্ত করতে পারছে না এই খাতের উদ্যোক্তাদের।

বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন বলেছেন, ‘‘করোনার কারণে গত জানুয়ারি মাস থেকেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় মন্দা নেমেছে। আর গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে তো রেস্টুরেন্ট বন্ধই। বন্ধ থাকলেও কর্মচারীদের বেতন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বিল ও নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মচারীদের খাওয়া ও বেতন পরিশোধ করা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক কর্মচারী গ্রামের বাড়িও যেতে পারেনি। তাদের থাকার ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। যে কারণে পিঠ দেয়াল ঠেকে গেছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের। আমরা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছি।’’

রোজায় ইফতারি বেচে রেস্টুরেন্টগুলো ভালো ব্যবসা করে উল্লেখ করে মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘‘এবার ইফতারি নিয়েও অন্ধকারে আছি। আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কারও সাথে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়নি। ইফতারির জন্য ঢাকাবাসীর ৯০ শতাংশ মানুষ রেস্টুরেন্টের ওপর নির্ভরশীল। কিন্ত এখন আমরা এ পরিস্থিতে রেস্টুরেন্ট খুলে বাইরেও বসতে পারবো না।’’

রুহুল আমিন বলেন, ‘‘এ পরিস্থিতিতে ফুটপাতে যদি ইফতারি বেচাকেনা শুরু হয় তাহলে ম্যাসাকার অবস্থা দেখা যাবে। এতে করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। কোনোভাবে ফুটপাতে ইফতারির বাজার বসতে দেওয়া ঠিক হবে না। ৪০০ বছরের ঐতিহ্য চকবাজারের ইফতারির বাজারও কিন্তু ফুটপাতে বসে। তাছাড়া ঢাকার অলিতে-গলিতে ইফতারের বাজার বসে, এবার এসব বাজার বসলে এতোদিন লকডাউন দিয়ে করোনা বিস্তাররোধে আমরা যা অর্জন করেছি তা বিলীন হয়ে যাবে।’’

রেস্টুরেন্ট খাতের জন্য ঋণ দেওয়ার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, ‘‘এসব ঋণ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১২ এপ্রিল সার্কুলার ইস্যু করেছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো এখনো এটি বাস্তবায়ন শুরু করেনি। তাই আমরা চাই এ ঋণ কার্যক্রম ও কর্মচারীদের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here