পুকুর ভর্তি মৃৃত মাছ জীবিত হওয়ায় উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা হলো

3
363

দেওয়ানবাগ ডেস্ক : আশেকে রাসুল নূরুল ইসলাম ফটিক, হবিগঞ্জ জেলায় তার বাড়ি। ঘটনাটি ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের। তিনি একটি পুকুরে মাছ চাষ করেন। মাছের দ্রুত ফলন পাওয়ার আশায় তার এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি ৫ কেজি ইউরিয়া সার পুকুরের পানিতে ছিটিয়ে দেন। তিনি জানতো না যে, এটিই তার সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পরের দিন ভোর বেলা পুকুরে গিয়ে দেখেন পুকুর ভর্তি মাছ মৃতপ্রায় অবস্থায় পানির উপর ভাসছে। এমনকি মাছের সাথে পোকাগুলোও ভেসে উঠেছে। এই অবস্থা দেখে তিনি তৎক্ষণাৎ পানিতে লোক নামিয়ে দিলেন। তারা একের পর এক গোটা পুকুরজুড়ে হাল্লা দিচ্ছে অর্থাৎ পানিতে একের পর এক ঢেউ তুলছে কিন্তু মাছের কোনো চেতন নেই, সামান্য নড়াচড়াও করছে না। একটি মাছও পানির নীচে যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে এলাকার অনেক লোকই পুকুরের চারপাশে জড়ো হয়ে গেছে।

এমনই বাস্তবতায় তার মনে পড়ে যায়, তার মহান মুর্শেদ, যুগের ইমাম, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকরী, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের কথা। যে মহামানবের অসিলা ধরে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলে যত বড় পাপীই হোক না কেন, সে আল্লাহর দয়া থেকে বঞ্চিত হয় না। তিনি তখন মহান আল্লাহ্ ও তাঁর বন্ধুর দয়া পাওয়ার আশায় দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত অলৌকিক কারামত সংবলিত কিতাব ‘মাসিক আত্মার বাণী’ নিয়ম অনুযায়ী পানিতে চুবিয়ে উক্ত পানি পুকুরের ভাসমান মাছগুলোর উপর ছিটিয়ে দেন। অতঃপর দেওয়ানবাগ শরীফে একটি মানত করেন।

পরিশেষে তিনি নিজেই পুকুরের পানিতে নামলেন এবং বড়ো বড়ো করে ঢেউ সৃষ্টি করে পুকুরের মাছগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন- “হে মাছ! যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীর দোহাই, তোমরা মরো না।” এদিকে তার এ কাণ্ড দেখে উপস্থিত কেউ কেউ মন্তব্য করছিল, যতই তদবির করো, মাছের শেষ রক্ষা হবে না; সকল মাছই মরে যাবে। অতঃপর চুনারুঘাট মৎস্য কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে তিনিও তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ব্যর্থ চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। পুকুরে অতিরিক্ত ইউরিয়া পড়েছে, মাছ বাঁচবে না। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাকে পরামর্শ দেন যে, ভবিষ্যতে পানির গুণাগুণ রক্ষার জন্য তিনি যেন বিশ কেজি চুন পানিতে ছিটিয়ে দেন। যাই হোক এ যাত্রায় মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন আশার বাণী পেলো না। ফলে আল্লাহ্ ও আল্লাহর বন্ধুর দয়ায় উপর ভরসা করলেন।

পরের দিন সকালে পুকুরে গেলেন। কিন্তু একি! গতকাল যে পুকুরের বেশিসংখ্যক মাছ ভেসে ওঠায় পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল না, আজ সে পুকুরে একটি মাছও ভাসমান নেই। অতঃপর মাছের অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাথে সাথে জাল ফেললেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, জালভর্তি সমস্ত মাছ একেবারে তরতাজা, লাফাচ্ছে। একটি মাছও মরেনি। এ ঘটনা দেখে এলাকার মানুষ আশ্চর্য হয়ে যায়। এভাবেই মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর অলী-বন্ধুর অসিলায় তার খামারের মৃতপ্রায় মৎস্য জীবিত করে দিয়ে তার ও তার পরিবারের উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য, ঐ বছর তিনি ঐ পুকুরের মাছ বিক্রি করে অনেক লাভবান হন।

সুতরাং নবুয়তের যুগে মহান আল্লাহ্ যেভাবে রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর সময়ে সমুদ্রের মৎস্য দিয়ে আশেকে রাসুল সাহাবায়ে কেরামের রিজিকের ব্যবস্থা করেছিলেন, একইভাবে তিনি বেলায়েতের যুগে আশেকে রাসুল মুমিনদের উক্ত রিজিকের ব্যবস্থা করছেন। এটি নবুয়ত ও বেলায়েতের সত্যতার দলিল বা প্রমাণ।

3 COMMENTS

  1. সুবাহানাল্লাহ। মুখের ইমামের উছিলায় এমন হাজারো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে, তার অনেক ঘটনার সাক্ষী আমি নিজে। যুগের ইমাম জিন্দাবাদ। হে দয়াময় আল্লাহ যুগের ইমামের উছিলায় আমাদের কে ক্ষমা ও দয়া ভিক্ষা দাও।

  2. সুবাহানাল্লাহ। যুগের ইমামের উছিলায় এমন হাজারো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে, তার অনেক ঘটনার সাক্ষী আমি নিজে। যুগের ইমাম জিন্দাবাদ। হে দয়াময় আল্লাহ যুগের ইমামের উছিলায় আমাদের কে ক্ষমা ও দয়া ভিক্ষা দাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here