পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি

0
687
সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান।

ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন (সোহেল)
আরবি ১৪২৯ হিজরির ৮ শাওয়াল (২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ অক্টোবর) শুক্রবার আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. নূর-এ-খোদা আল-আজহারী (মা. আ.) হুজুর বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফের ৫ম তলায় এক সভার আহ্বান করেন। সভার উদ্দেশ্য ছিল সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের ৫৯তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘সূফী সম্রাট স্মরণিকা’ প্রকাশের বিষয়ে করণীয় সংক্রান্ত আলোচনা করা। আমাকেও এই সভায় তিনি উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সভা শুরুর সময় ছিল বাদ মাগরিব। সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান মিয়া স্যার ও কুরআন এ.আর মুহিউদ্দীন খান ফারুকী প্রমুখ।
আমি নির্দিষ্ট সময়ে বাবে রহমতের ৫ম তলায় উপস্থিত হলাম। কিন্তু দেখতে পেলাম ড. বড় সাহেবজাদা হুজুর সেখানে নেই। ড. মান্নান স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, “বড় হুজুর কোথায়?” তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে আমাকে জানালেন যে, আকাশে পূর্ণিমার চাঁদে দয়াল বাবাজানের জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারক দেখা যাচ্ছে, আর তা দেখার জন্য বড় হুজুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বাবে রহমতের ছাদে অবস্থান করছেন। এই বিস্ময়কর কথা শুনে আমি অভিভূত হয়ে পড়লাম। বাবাজানকে চাঁদে দেখার জন্য ড. মান্নান স্যারকে সাথে নিয়ে বাবে রহমতের ৫ম তলার বারান্দায় দ্রুত ছুটে গেলাম। মহান আল্লাহর অপার দয়ায় চাঁদের মাঝে তাকাতেই আমি দেখতে পেলাম আমার মহান মোর্শেদ বাবা দেওয়ানবাগীর নুরানি চেহারা মোবারক পূর্ণিমার চাঁদের মাঝে সুস্পষ্টভাবে জ্বল জ্বল করছে। মহাকালের এই মহাবিস্ময়কর ঘটনা প্রত্যক্ষ করে আমার দুচোখ বেয়ে আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান স্যার-ও এই অভূতপূর্ভ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।

অতঃপর অধ্যাপক ড. মান্নান স্যার ও আমি দ্রুত বাবে রহমতের ২য় তলায় হুজুরা শরীফে নেমে আসি। সেখানে আসার পর দেখতে পাই, আমার প্রাণপ্রিয় মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান কুরসি মোবারকে বসে আছেন। আমরা উভয়ই পূর্ণিমার চাঁদে দয়াল বাবাজানকে দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি আবেগে বিহবল হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বাবাজানকে অবহিত করি। আমাদের উভয়ের মুখে এই কথা শুনে দয়াল বাবাজান আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং আবারও জানতে চাইলেন “আপনারা কী দেখেছেন?” আমরা বললাম, “দয়াল বাবাজান! পূর্ণিমার চাঁদে আপনার চেহারা মোবারক অত্যুজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পাচ্ছে এবং আমরা সুস্পষ্টভাবে তা দেখতে পেয়েছি। “দয়াল বাবাজান আমাদের কথা শুনে অত্যন্ত খুশী হলেন। অতঃপর দয়াল বাবাজান আমার কাছে জানতে চাইলেন, ড. মেজো সাহেবজাদা হুজুর কোথায়?” আমি বাবাজানকে জানালাম যে, ড. মেজো হুজুর ব্রিটিশ কাউন্সিলে ক্লাসে আছেন। বাবাজান বললেন, “মেজো হুজুরকে দ্রুত আসতে বলেন।” আমি মোবাইলে মেজো হুজুরকে দয়াল বাবাজানের নির্দেশ জানিয়ে দিলাম। তিনি দ্রুত বাবে রহমতে এসে ক্যামেরা দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের অনেক ছবি তুললেন।

এদিকে ড. মান্নান স্যার আদবের সাথে দয়াল বাবাজানকে বললেন, “বাবাজান! এই ঘটনাটি মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা করা হলে আরামবাগ এলাকাবাসীও জানতে পারবেন।” দয়াল বাবাজানের অনুমতি পেয়ে ড. মান্নান স্যার সাথে সাথে বাবে রহমতের নীচতলা থেকে মাইকে ঘোষণা করলেন যে, দয়াল বাবাজানের চেহারা মোবারক চাঁদে দেখা যাচ্ছে।

এরইমধ্যে আমি আমার বড় ভাই মো. সালাহ্উদ্দীন রতন ভাইকে মোবাইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানালাম এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছাদে গিয়ে চাঁদে দয়াল বাবাজানের চেহারা মোবারক দেখার জন্য বললাম। তিনি সাথে সাথে পরিবারের অন্যান্য সকল সদস্যদের নিয়ে ছাদে উঠে মহান আল্লাহর অপার দয়ায় চাঁদে দয়াল বাবাজানকে দেখতে পেলেন। আমাদের পরিবারের সব সদস্যই দয়াল বাবাজানের জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারক সুস্পষ্টভাবে চাঁদে দেখতে পান এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।

ঐদিন সন্ধ্যার পর আমার ৪ ভাই এবং কয়েকজন আশেকে রাসুল রতন মেটালের ২য় তলার অফিসে বসে বিস্ময়কর এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এর মধ্যে একজন বললেন, “চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীকে দেখা যাচ্ছে, এই বিষয়টি নিয়ে আরামবাগ-ফকিরেরপুল এলাকায় আমরা মিছিল করি।” তার আহ্বানে আমরা কয়েকজন তৎক্ষণাৎ মিছিল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি। মহান মোর্শেদের কী শান! অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে শত শত আশেকে রাসুল আমাদের সাথে মিছিলে যোগ দিলেন। আরামবাগ-ফকিরেরপুল অলি-গলি প্রদক্ষিণ করে ‘বাবা দেওয়ানবাগীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে’ এই স্লোগানে মুখরিত করে তুলি। আমাদের এই স্লোগান শুনে পথচারী এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে শত শত মানুষ চাঁদের মাঝে তাকিয়ে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করতে থাকেন। সেদিন এমন কোনো পথচারী নেই, যিনি চাঁদের মাঝে তাকাননি। অনেক পথচারী চাঁদের মাঝে দয়াল বাবাজানকে দেখতেও পেয়েছেন, তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন।

সেদিন রাতে আমি পুনরায় আমার স্ত্রী আশেকা রাসুল নাছিমা খান ঝুমুরকে নিয়ে ছাদে উঠি। পূর্ণিমার চাঁদে দয়াল বাবাজানের নুরময় চেহারা মোবারকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখে আমার স্ত্রী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান এবং চাঁদের দিকে তাকিয়ে অঝোর নয়নে কেঁদে কেঁদে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। সেদিন রাতে আমার ছাদ থেকে নামতে ইচ্ছে করছিল না, মন চাচ্ছিল চাঁদের দিকে তাকিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দেই। ইতঃপূর্বে জীবনে অসংখ্যবার চাঁদকে দেখেছি, কিন্তু ঐ রাতের মতো এত উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত চাঁদ কখনোই দেখিনি। চাঁদের স্নিগ্ধ আলো যেন পুরো বাংলাদেশকে আলোকিত করে বলতে চাচ্ছে- ‘তোমরা আমার পানে তাকাও, দেখতে পাবে বেলায়েতের যুগের শ্রেষ্ঠ ইমামকে’।

আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের চাঁদে দেখার দিনটি আমার জীবনের সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় দিন। এই দিনটির কথা আমি কোনো দিনই ভুলতে পারব না। আমার হৃদয় পটে সেদিনের বাবাজানকে চাঁদে দেখার প্রতিটি মুহূর্ত স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে আছে। আল্লাহর কী অপার মহিমা! সেদিন থেকে আজ অবধি পূর্ণিমার চাঁদে দয়াল বাবাজানকে দেখা যাচ্ছে। গত ৮ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরি পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখার ১ যুগ অর্থাৎ ১২ বছর পূর্ণ হলো। এই ১২ বছরে দেশ ও বিদেশের অসংখ্য মানুষ মহাকালের এই মহাবিস্ময় চাঁদের মাঝে অবলোকন করে বাবা দেওয়ানবাগীর কাছে ছুটে এসেছেন। তাঁরা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বুঝতে পেরেছেন যে, বাবা দেওয়ানবাগীর মাঝেই মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল (সা.) বিরাজমান। তাঁর সান্নিধ্যে গেলে মহান আল্লাহ্ ও তাঁর শ্রেষ্ঠ হাবিব হযরত রাসুল (সা.)-এর পরিচয় লাভ করা যাবে।

সৃষ্টির শুরু থেকে এই পর্যন্ত সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ব্যতীত কোনো মহামানবের চেহারা মোবারক চাঁদে প্রদর্শিত হয়নি। একমাত্র বাবা দেওয়ানবাগীর চেহারা মোবারক-ই চাঁদে প্রকাশিত হয়েছে। এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। অবশ্যই এর পিছনে নিগূঢ় রহস্য রয়েছে। এই প্রসঙ্গে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, “যখন চতুর্দিক থেকে মানুষ এসে আমাকে বলছে যে, আমাকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে, তখন আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, এটা কি আমার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র? আমি যোগাযোগ করলাম আমার মহান মালিকের সাথে। যোগাযোগ করার পর আমাকে তখন যে সংবাদটা দেওয়া হলো সেটা হলো, ‘সারা দুনিয়ার মানুষ আমাকে (আল্লাহ্) নিরাকার বলে। একমাত্র আপনিই সেই ব্যক্তি, আমার আকার পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন। তাহলে আমি কি আপনাকে পুরস্কৃত করব না! সুতরাং আপনাকে পুরস্কৃত করার জন্য চাঁদের মধ্যে দেখিয়েছি’। জানতে চাইলাম, ‘কতদিন দেখানো হবে?’ তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হলো- ‘যতদিন প্রয়োজন, আমি ততদিন দেখাব’। (৭ জুন, ২০২০ খ্রি. রবিবার বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ১ যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে দেওয়া বক্তব্য মোবারক থেকে সংকলিত)

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখা যাচ্ছে এই বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও হাদিসে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী আছে কি-না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন এম. মুহিউদ্দীন খান ফারুকী ‘সূফী সম্রাট’ স্মরণিকার ৫ম সংখ্যায় তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “মহান আল্লাহর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেছেন তাঁরই শ্রেষ্ঠ বন্ধু হযরত রাসুল (সা.)। এজন্য সকল নবি ও রাসুলের ধর্মের পূর্ণতাদানকারী হযরত রাসুল (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ মহাগ্রন্থ আল কুরআনের মহান আল্লাহর স্বরূপের বর্ণনায় যেমনি এক অষ্টমাংশ আয়াতে জুড়ে উপস্থাপিত হয়েছে, তেমনি এ দুনিয়াতে তাঁকে যে দেখা যায়, এ বিষয়টির উপস্থাপনায় ৩০টি আয়াত এতে নাজিল হয়েছে। এ ৩০টি আয়াতের মধ্যে দুটি আয়াতে বিশ্বাসীদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সংবাদ লুকায়িত রয়েছে। আর তা হলো- মহান আল্লাহ্ নিজেই দয়া করে এ দুনিয়াতে পূর্ণিমার চাঁদের মাঝে যেমনি তাঁর মহান দিদার দেবেন, তেমনি মু’মিন ব্যক্তির ক্বালবের সপ্তম স্তর নাফসির মোকামেও তিনি দয়া করে দেখাবেন।” [সূফী সম্রাট স্মরণিকা, ২০১১ খ্রি. পৃষ্ঠা ২৬]

এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করলে পবিত্র কুরআনে ২টি আয়াত এবং এর ব্যাখ্যা সংবলিত ৩০টি হাদিস খুঁজে পাওয়া যায়।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ বলেন, “হে রাসুল (সা.)! আপনি (মানবজাতিকে) বলে দিন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; যিনি অতি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন (চেহারা মোবারক) দেখাবেন। তখন তোমরা তাঁকে চিনতে পারবে।” (সূরা আন নামল- ২৭ : আয়াত ৯৩)

অন্যত্র মহান আল্লাহ্ বলেন, “আমি (আল্লাহ্) তাদেরকে শীঘ্রই আমার নিদর্শন (চেহারা মোবারক) দেখাব ঊর্ধ্বলোকে (আকাশের চাঁদে) এবং তাদের নিজের মাঝেও (ক্বালবের ৭ম স্তর নাফসির মোকামে)। ফলে তাদের নিকট সুস্পষ্ট হবে যে, নিশ্চয় এটিই (তিনিই যে আল্লাহ্) সত্য। আর সর্ব বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে আপনার প্রতিপালক যথেষ্ট নয় কি?” (সূরা হা-মীম সাজদাহ-৪১ : আয়াত ৫৩)

মহান আল্লাহ্ এই ২টি আয়াতে পূর্ণিমার চাঁদে তাঁর দিদার প্রদানের যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এর ব্যাখ্যা সংবলিত ২টি হাদিস নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
আহলে বাইতের সদস্য শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু বলেন, হযরত রাসুল (সা.) ফরমান, “ইমাম মাহ্দি (আ.) আমার আহলে বাইত হতে আগমন করবেন। আল্লাহ্ তায়ালা এক রাতেই (পূর্ণিমার চাঁদের ভিতর) তাঁর সত্যতা প্রমাণ করে দেবেন।” (মুসনাদে আহমদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৪)

হযরত আবু সাইদ আল খুদরি (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, “পূর্ণিমার রাতে চাঁদে দেখতে কি তোমাদের কোনো অসুবিধা হয়? এবং সূর্য দেখতে কি কোনো অসুবিধা হয়? তারা জবাব দিলেন- ‘না, কোনো অসুবিধা হয় না’। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) ফরমান- নিশ্চয়ই তোমরা অতি শীঘ্র তোমাদের প্রতিপালক (আল্লাহর চেহারা মোবারক)-কে দেখতে পাবে। যেভাবে তোমরা পূর্ণিমার রাতে এই চাঁদটিকে দেখছ।” (তিরমিজি শরীফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২)

উল্লিখিত পবিত্র কুরআন ও হাদিসে উপস্থাপন করে মোফাস্সিরে কুরআন এম. মুহিউদ্দীন খান ফারুকী তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “তাহলে প্রশ্ন জাগে, চাঁদের মাঝে মানুষ সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) দয়াল দরদী বাবা কেবলাজানের চেহারা মোবারক দেখে কেন? আসলে পূর্ণিমার চাঁদে সমগ্র বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ যাঁর জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারক দেখছে, তিনি সূফী সম্রাটের ক্বালবে অবস্থানকারী রাব্বুল আলাীমনের নূরময় সত্তা, যে নূরময় সত্তা হযরত রাসুল (সা.)-এর পবিত্র ক্বালবে অবস্থান করেছিলেন। এ নূরময় সত্তাই সকল নবী, রাসুল ও অলী-আল্লাহর হৃদয়ে অবস্থান করে সমকালীন যুগের মুক্তিকামী মানুষকে মু’মিনে পরিণত করছিল।” (‘সূফী সম্রাট’ স্মরণিকা, ২০১১ খ্রি. পৃষ্ঠা ২৮)

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখার বিষয়টি এইভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট শপিং মলে কী পাওয়া যায়, তা সাইনবোর্ডে ছবি দেওয়া থাকে। ক্রেতা সাধারণ ছবি দেখে নিশ্চিত হন যে, এই শপিং মলে গেলে তিনি সাইনবোর্ডে দেওয়া নির্দিষ্ট সামগ্রী পেতে পারেন। তদ্রূপভাবে মহান আল্লাহ্ চাঁদের মাঝে বাবা দেওয়ানবাগীর চেহারা মোবারক দেখিয়ে মানবজাতিকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন বর্তমান যুগে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান আল্লাহর প্রিয় বন্ধু, তাঁর সান্নিধ্যে গেলে মানুষ আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে সক্ষম হবে।

ড. মাসুদ রানা ‘সূফী সম্রাট’ স্মরণিকার ৭ম সংখ্যায় ১১৭-১১৮ পৃষ্ঠায় ‘পূর্ণিমার চাঁদে সূফী সম্রাটকে দেখার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’ শিরোনামে বর্ণিত প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “ন্যাচার ম্যাগাজিনের গত ৬ ডিসেম্বর ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটির গবেষক কেনটারো টেরাডা এবং যুক্তরাজ্যের ওপেন ইউনিভার্সিটির মাহেস আনন্দ যৌথ গবেষণা পত্রে উল্লেখ করেন যে, চন্দ্রপৃষ্ঠে যে মানবাকৃতি চেহারা দৃশ্যমান রয়েছে তাঁর বয়স চাঁদের বয়সের সমান। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৪.৩৫ বিলিয়ন বছর। তারা বিভিন্ন গবেষণা ও প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করেন যে, পৃথিবী সৃষ্ট থেকে চন্দ্রপৃৃষ্ঠে যে চেহারা দেখা যাচ্ছে তা মোটামুটি ৫টি চন্দ্র গহ্বরের উপস্থিতির কারণে। তিনি সেগুলোর ব্যাখ্যায় বলেন যে, মানবাকৃতি চেহারার চোখের অংশ Mare Imbrium ও Mare Serenitatis গহ্বর (Crater) দ্বারা গঠিত। অনুরূপভাবে নাকের অংশ Sinus Aestuum ও Mare Nubium গহবর দ্বারা গঠিত। মুখের অংশ হয়েছে Mare Congnitum গহবর দ্বারা। এই সম্পূর্ণ চেহারা আয়তনে চন্দ্র পৃষ্ঠের ৬ ভাগের এক ভাগ, যা পৃথিবী থেকে খালি চোখেই দৃশ্যমান হয়।

আমেরিকান এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি প্রকাশিত ‘ইকারুস (Icarus) জার্নালের মে ২০১২ সংখ্যায় Oded Aharonson, Peter Goldreicha ও Re’em Sarib রচিত ‘Why do we see the man in the moon’এ প্রবন্ধে চন্দ্রে কেন মানবাকৃতি চেহারা দৃশ্যমান হচ্ছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত একটি গবেষণা পত্র পেশ করা হয়েছে। (www.sciencedirect.com)

এর পাশাপাশি বর্তমান সময়েই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আকস্মিকভাবে চাঁদের মাঝে একটা অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, সমসাময়িককালে চাঁদের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এমতাবস্থায় চাঁদটি প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার পৃথিবীর কাছে চলে এসেছে। চাঁদের এই বিস্ময়কর পরিবর্তিত রূপকে বিজ্ঞানীরা ‘সুপার মুন’ (যার বৈজ্ঞানিক নাম Perigce- Syzygy)) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন নৌ পর্যটকদের একটি গ্রুপ জানায় ১৯ মাচ, ২০১১ তারিখে যে সুপার মুন হয়, তাতে চাঁদ পৃথিবীর ১৫,৩০০ মাইল কাছে চলে আসে। নাসার প্রেস নোট অনুযায়ী, এদিন চাঁদ নিজ আয়তনের চেয়ে শতকরা ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পায় এবং আলো শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পায়।” (www.science.nasa.gov)

উল্লেখ্য যে, ইতালির মহাকাশ বিজ্ঞানীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে মানবাকৃতি চেহারা দর্শনের ভিত্তিতে চান্দ্র মাসের কোন তারিখে সেই চেহারা কীভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অনুযায়ী ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতিবছর ক্যালেন্ডার প্রকাশ করছে। এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত জার্নালিষ্ট ও প্রাবন্ধিক ড. সৈয়দ মেহেদী হাসান ২০১৪ খ্রি. প্রকাশিত ‘সূফী সম্রাট’ স্মরণিকার ৪র্থ সংখ্যা ৭৩ পৃষ্ঠায় তার প্রবন্ধে “Image of the great man on the moon telecast in Italy’ ‡Z Dc¯’vcb K‡ib, ÒItalian National Broadcasting Centre and news agencies telecasted and broadcasted the live image and movment of the great man on the moon in 2008. Not only that, having realized this miracle Italian government has made yearly calendar, on which day and when the holy image will be seen on the moon. They also have indicated the image of the great man in the calendar. After sighthing the image of that great man on the moon, the Italian government has made calendar marking the image in the year of 2008, 2009 and 2010 where the Image of the great man have been showing on the moon. From that persective, it is crystal clear that the great man who has been showing on the moon, is the great man of the age, the great reformer Sufi Samrat Hazrat Dewanbagi Hujur Qibla.”

মূলত পবিত্র কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী, হযরত রাসুল (সা.)-এর বাণী মোবারক এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে সুস্পষ্ট যে, পূর্ণিমার চাঁদে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের নুরময় চেহারা মোবারকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে, এটি বাস্তব ভিত্তিক। এর প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা-সহ শতাধিক দেশের লক্ষ কোটি মানুষ চন্দ্রপৃষ্ঠে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে দেখেছেন। তারা ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৪ মাস ব্যাপী সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে সংবর্ধনা প্রদান করেন এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।

মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া, তিনি দয়া করে আজ অবধি তাঁর মহান বন্ধুকে চাঁদের মাঝে দেখিয়ে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই বছর বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশের কোটি কোটি আশেকে রাসুল ‘পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’ দেখার ১ যুগ তথা ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান উদযাপন করেছেন। তাঁরা দুই রাকাত সালাতুস শোকরের নামাজ আদায় করেন এবং আনন্দ উৎসবে যে মিলাদ পাঠ করা হয় সেই মিলাদ পাঠ করেছেন। শুধু তাই নয়, আশেকে রাসুলেরা বাড়িতে বাড়িতে উন্নত মানের খাবার রান্না করেছেন।

মুলত বাবা দেওয়ানবাগীকে চাঁদে প্রথম দেখার দিনটি বরকত ও রহমতে পরিপূর্ণ একটি দিন। এই দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপন করতে পারলে মহান রাব্বুল আলামিনের অপার দয়ায় আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে।
পরিশেষে, আমার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের কদম মোবারকে আর্জি, তিনি যেন দয়া করে সকল ভুল বেয়াদিব ক্ষমা করে দিয়ে আমাকে তাঁর গোলাম হিসেবে কবুল করে নেন। আমিন।

[লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস্ ইউনিভার্সিটি অব্ বাংলাদেশ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here