পূর্ণিমার চাঁদে সূফী সম্রাটকে দেখার এক যুগ পূর্তি

1
328
সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান।

সৃষ্টিজগতের এক অভিনব ঘটনা, পূর্ণিমার চাঁদে এক মহামানবের চেহারা মোবারকের প্রতিচ্ছবি দর্শন। পৃথিবীর ইতিহাসে এই বিরল ঘটনা মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন যাঁর মাধ্যমে ঘটালেন, তিনি মহান আল্লাহর প্রিয় বন্ধু, যুগের ইমাম, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান।

আজ হতে ১২ বছর পূর্বে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের, ১০ অক্টোবর (১৪২৯ হিজরির, ৮ শাওয়াল), শুক্রবার বিশ্বের এই অবিস্মরণীয় ঘটনাটি সংঘটিত হয়। সৃষ্টির শুরু থেকে এই পর্যন্ত সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ব্যতীত আর কোনো মহামানবের চেহারা মোবারক চন্দ্রপৃষ্ঠে দেখা যায়নি। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) পর্যন্ত- এ পৃথিবীতে ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবি-রাসুল আগমন করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রিয় নবি-রাসুল (সা.)-এর সময়েই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। কাফের সর্দার আবু জাহেলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) চাঁদের দিকে ইশারা করা মাত্রই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এ ঘটনা হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে।

তবে মহান আল্লাহর কি ইচ্ছা তিনিই ভাল জানেন। তাই বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মহামানব, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখিয়ে আল্লাহ্ তায়ালা প্রমাণ করেছেন যে, তিনিই বর্তমান যুগে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। মানুষ তাঁর কাছে গেলেই মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে। এ বছর সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানকে চাঁদে দেখার ১২ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর, শুক্রবার শাওয়াল মাসে ঈদ পরবর্তী সর্বপ্রথম এই মহামানবকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখা যায়। প্রতি মাসেই পূর্ণিমার চাঁদে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী দয়াল বাবজানকে চাঁদে দেখে থাকেন। তাই প্রতি মাসে পূর্ণিমার চাঁদে দেখা উপলক্ষ্যে আশেকে রাসুলগণ ২ রাকাত সালাতুস শোকর বা শোকরানা নামাজ আদায় করে থাকেন।

গত ৭ জুন, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ; রবিবার বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফে ‘আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’ মহিমান্বিত অনুষ্ঠানের এক যুগ পূর্তি উদযাপিত হয়। বর্তমান এই করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে মানুষ দরবার শরীফে আসতে পারেনি, তাই উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি অনলাইনে বাবে রহমতে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। বাদ মাগরিব থেকে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান এই মহিমান্বিত অনুষ্ঠানে মহামূল্যবান বাণী মোবারক প্রদান করে বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনলাইনের মাধ্যমে পৃথিবীর ৪০টি দেশের আশেকে রাসুলেরা এবং বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলার হাজার হাজার ভক্তগণ তাদের প্রাণপ্রিয় মোর্শেদের নুরানিময় চেহারা মোবারক দেখার এবং তাঁর অমীয় বাণী মোবারক শ্রবণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

এটি চিরন্তন সত্য যে, চাঁদে কোনো মহামানবের চেহারা মোবারক দেখানোর ঘটনা এই প্রথম। তবে আল্লাহর মহান বন্ধু এবং হযরত রাসুল (সা.)-এর উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান আল্লাহর জাত-পাক এবং তাঁর সিফাত তথা গুণাবলি নিয়ে ৮ খণ্ড তাফসীর শরীফ রচনা করেছেন, যার নাম ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’। এতে তিনি আল্লাহর বাণী পবিত্র কুরআন ও রাসুলের বাণী পবিত্র হাদিস দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, মহান আল্লাহ্ নিরাকার নন, তাঁর আকার রয়েছে। তবে আল্লাহ্ মানুষের মতো রক্ত মাংসের দেহধারী নন, তিনি নুরের। এতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন সস্তুষ্ট হয়ে তাঁর এই মহান বন্ধুকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখিয়ে সম্মানিত করেছেন।

কোনো মহামানবকে পূর্ণিমার চাঁদে দেখানোর বিষয়ে পবিত্র কুরআনে ২টি আয়াত নাজিল হয়েছে এবং হযরত রাসুল (সা.)-এর ৩০টি হাদিস রয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ফরমান- ‘‘হে রাসুল (সা.)! আপনি (মানব জাতিকে) বলে দিন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অতি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন (চেহারা মোবারক) দেখাবেন। তখন তোমরা তাঁকে চিনতে পারবে।’’ (সূরা আন নামল ২৭ : আয়াত ৯৩)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) ফরমান- ‘‘নিশ্চয়ই তোমরা অতি শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক (আল্লাহর চেহারা) মোবারক দেখতে পারবে। যেভাবে তোমরা পূর্ণিমার রাতে এই চাঁদকে দেখছো।’’ (তিরমিজি শরীফ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২)

দেওয়ানবাগ শরীফে অনুষ্ঠিত ‘আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’-এর ১২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান অত্যন্ত আবেগ প্রবণ হয়ে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশ্যে বলেন- “এই করোনা মহামারিতে আপনারা যেমন আমার কাছে আসতে পারেন না, আমাকে দেখতে পাননা, এতে আপনাদের যেমন মনে অনেক কষ্ট, তেমনি আপনাদেরকে দেখতে না পেয়ে আমিও তো কষ্টে ভুগছি।” সূফী সম্রাটের এই আবেগপূর্ণ বক্তব্য শুনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য আশেক ভক্তবৃন্দ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান সকলকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য উপদেশ দেন এবং বলেন- ‘‘আল্লাহ্ দয়া করুন, আমরা যেন সবাই সবাইকে দেখতে এবং অনুষ্ঠান করতে পারি।

অনুষ্ঠানে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের বক্তব্য ও মোনাজাতের পর মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) বিদেশে অবস্থিত আশেকে রাসুল ভক্তবৃন্দের উদ্দেশে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের বক্তব্যের সারমর্ম ইংরেজী ভাষায় সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করেন। অতঃপর এশার নামাজের পূর্বে ২ রাকাত সালাতুশ শোকর আদায় করা হয়। এ সময় মসজিদে মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) ও কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের বক্তব্যের সময় জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ. এফ. এম নূর-এ-খোদা আল আজহারী (মা. আ.) উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ণিমার চাঁদের অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মিলাদ শরীফের পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন মেজো সাহেবজাদা ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.)। ‘পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’ অনুষ্ঠানটির এক যুগ পূর্তি সত্যিই চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here