পৃথিবীতে তরিকার সংখ্যা কত?

1
278

উত্তর: পৃথিবীতে তরিকার সংখ্যা কত? এ নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে। ‘সূফী দর্শন’ নামক গ্রন্থে ২৮০টি বিশিষ্ট তরিকার উল্লেখ আছে। তরিকার সংখ্যা যাই হোক না কেন, এই উপমহাদেশের প্রচলিত তরিকা সমূহের মধ্যে পাঁচটি তরিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যথাÑ (১) বড়পির হযরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত কাদেরিয়া তরিকা, (২) হযরত মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত চিশতিয়া তরিকা, (৩) হযরত বাহাউদ্দিন নকশবন্দ (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত নকশব›দিয়া তরিকা, (৪) হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানি (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত মোজাদ্দেদিয়া তরিকা এবং (৫) হযরত ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) কর্তৃক প্রবর্তিত সুলতানিয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকা।

এক সঙ্গে একাধিক তরিকার সবক নেওয়া যায় কী?
উত্তর: নবুয়তের যুগে যেমন একই সঙ্গে একাধিক নবির অনুসারী হওয়ার বিধান ছিল না, বেলায়েতের যুগেও তেমনি একই সঙ্গে একাধিক তরিকার সবক নেওয়ার বিধান নেই। এ প্রসঙ্গে হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- “আজ যদি মুসা (আ.) জীবিত থাকতেন, তবে আমার [মোহাম্মদ (সা.)-এর] অনুসরণ করা ছাড়া, তঁাঁর কোনো গত্যন্তর ছিল না।” (মুসনাদে আহমদ ও বায়হাকীর শু‘আবুল ঈমান কিতাবের সূত্রে তাফসীরে মাজহারী-২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯)
প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক যুগে আল্লাহর মনোনীত এমন একজন মহামানব থাকেন, যিনি হেদায়েতের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আর তিনি হলেন- মোজাদ্দেদ বা যুগের ইমাম। অতঃপর হাদি শ্রেণীর অলী-আল্লাহগণ তাঁর পরিচালনাধীনে হেদায়েতের কাজ চালিয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- নিশ্চয় মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি তাদের ধর্মকে সংস্কার করে সজীব ও সতেজ করবেন।” (আবু দাউদ শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৩৬)
যে কারণে প্রত্যেক যুগে মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত বিশেষ তরিকা থাকে, যা উক্ত মহামানবের মাধ্যমে প্রকাশ লাভ করে। এ তরিকা সমকালীন যুগের লোকদের মুক্তির জন্য সবচেয়ে সহজ তরিকা। আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি নির্দিষ্ট শরিয়ত ও নির্দিষ্ট পন্থা। আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান, যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন সেটির মাধ্যমে। সুতরাং সৎকর্মে তোমরা প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন।” (সূরা আল মায়িদাহ ৫ : আয়াত ৪৮)
সুতরাং মুক্তিকামী মানুষের উচিত, নবুয়তের যুগের ন্যায় বর্তমান বেলায়েতের যুগেও যুগের মহামানবের পরিচয় লাভ করে তাঁর তরিকায় শামিল হওয়া। এজন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- “যে ব্যক্তি যুগের ইমামের আনুগত্য না করে মৃত্যুবরণ করেছে, সে জাহেলি অবস্থায় তথা ধর্মহীন বেইমান হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।” (মুসনাদে আহমদ ১৩ নং খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৮)
উল্লেখ্য, যদি কোনো সুফি সাধক ‘ মোকাম্মেল মোর্শেদ’ হিসেবে মানুষকে হেদায়েতের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি বিভিন্ন তরিকার সবক শিখে, সে বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করতে পারেন। কেন না বিভিন্ন তরিকার নিয়ম জেনে নিলে তাঁর জন্য মুরিদকে তরিকা সম্পর্কে জ্ঞান দান করা অনেকটা সহজ হয়। যদিও তিনি নিজস্ব চিন্তাধারা বা পদ্ধতি অনুযায়ী মুরিদকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

1 COMMENT

  1. আলহামদুলিল্লাহ , আজকে তরিকা সম্পর্কে বেশ কিছু জিনিস জানতে পারলাম,,যা আমার অতীতে জানা ছিল না। আজকে তা জানতে পেরে অনেক কিছু শিখলাম এবং উপকৃত হলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here