পোস্ট কোভিড সিনড্রম: বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা

0
25


বিজ্ঞান ডেস্ক: করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই শতভাগ সুস্থ হতে পারছেন না। আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিন পর ভাইরাসটি থেকে মুক্তি মিললেও অনেকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার পর মাথা ঘোরানো, নিয়মিত ঘুম না হওয়া, দুর্বলতা, অবসাদ, হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, অল্পতে হাঁফিয়ে ওঠা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়াসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।

অনেকের মধ্যে হতাশারও সৃষ্টি হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- এসব জটিলতা থেকে মুক্ত হতে সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। বিষণ্নতা ও উদ্বিগ্নতার সঙ্গে মানসিক বিষয় যুক্ত থাকায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি করোনা থেকে রেহাই পেতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন- এ রোগে মৃতের হার অনেক কম। তাই আক্রান্ত হলেও ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু করোনা-পরবর্তী জটিল সমস্যাগুলো অন্যরা বুঝতে পারেন না। তাই তাদের মধ্যে ভয় খুব কম। স্বাস্থ্যবিধি তারা তোয়াক্কাও করছেন না।


জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার পর অনেকের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, রুচিহীনতা, ঘুম না হওয়া, ডায়াবেটিস রয়েছে। এমনকি অনেকের হার্ট ও কিডনিতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকে নানা সমস্যা ছিল তাদের জন্য করোনা খুবই ভয়াবহ। তিনি বলেন, যে কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটির একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এতে ভয়ের কিছু নেই। সুস্থ হওয়ার পর যাদের এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঠিকমতো সুষম খাদ্য খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বর্তমানে অনেক জায়গায় পোস্ট কোভিড স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তারা পরামর্শ নিতে পারেন। সর্বোপরি মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে।


সরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফারজানা মাহমুদ সনি দুই মাস আগে করোনা আক্রান্ত হন। প্রায় এক মাস পর তিনি করোনা থেকে মুক্তি পান। কিন্তু বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছেন। সনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তেমন কোনো দুর্বলতা অনুভব করিনি। বলতে গেলে করোনার তেমন লক্ষণই ছিল না। কিন্তু করোনা মুক্ত হওয়ার পরই শুরু হয়েছে নানা সমস্যা। বর্তমানে একটানা অনেকক্ষণ বসে কাজ করতে পারি না। ক্লান্ত লাগে। স্মৃতিশক্তিতেও সমস্যা হচ্ছে। হঠাৎ করে সহজ বিষয় ভুলে যাচ্ছি। কাজের প্রতি আগের চেয়ে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
করোনা থেকে সুস্থ হওয়া একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক হাসান শিপলু বলেন, করোনা আক্রান্তকালে শারীরিক ও মানসিক তেমন সমস্যা দেখা দেয়নি। কিন্তু করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার পরই শুরু হয় নানা সমস্যা। সুস্থ হওয়ার পর এখন মেরুদণ্ডে প্রায়ই ব্যথা হচ্ছে। অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।


জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যাবিষয়ক কর্মকর্তা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। কখনো কখনো হৃদস্পন্দন কমে যাচ্ছে। অনেকের হার্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেক্ষেত্রে হার্ট স্পেশালিস্টের কাছে যেতে হবে। যদি এ দুই ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা না থাকে তাহলে নিউট্রিশন, ফিজিক্যাল মেডিসিন স্পেশালিস্ট দেখাতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক উদ্বেগ, বিষণ্নতায় ভুগছেন। অনেকে কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না। ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন, ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) রোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতাল বা আইসিইউতে থাকার ভীতিকর স্মৃতি থেকে অনেকে বের হতে পারেন না। এসব রোগীকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনা থেকে মুক্ত অনেকের মধ্যে পোস্ট কোভিড সিনড্রোম যেমন- নানা ধরনের নিউরো সাইক্রিয়াটিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এজন্য তারা মারাত্মক হতাশায় (সিভিয়ার ডিপ্রেশন) ভোগেন। আবার অনেকে আছেন যারা হাসপাতালে গিয়ে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছেন, পরে তাদের মধ্যে এক ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আরেকটা গ্রুপ আছে যারা কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তাদের মধ্যে তেমন কোনো লক্ষণ ছিল না। কিন্তু একাকী থাকার কারণে তাদের মধ্যে বিরক্ত-রাগ এ ধরনের লক্ষণ চলে আসছে। এসব সমস্যা সমাধানে চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের মানসিকভাবে সাহস দিতে হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here