প্রচণ্ড খরায় রহমতের বৃষ্টি হলো

1
238
ছবি - প্রতীকী

বর্ণনাকারী বলেন, ‘‘আমি আশেকে রাসুল মো. ইব্রাহীম, ফরিদপুর জেলার অধিবাসী। আমি সৌদি আরবের খামিশ আল মুসাইয়্যাত শহরে খানকায়ে মাহবুবীয়া থেকে মহান মোর্শেদ, যুগের ইমাম, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, পূর্ণিমারচাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর শিক্ষা গ্রহণ করি। দেশে আসার পরে আমি কৃষিকাজ শুরু করি। আমার গ্রামে দু’টি ইরি প্রজেক্ট হাতে নেই। দু’টি গভীর নলকূপ স্থাপন করি। আমার প্রজেক্ট দু’টির আওতায় ২/৩ শ’বিঘা জমি ছিল।

এদিকে বৈশাখ মাসের শেষে সারা দেশে অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। এ সময় নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করে জমির চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ অসম্ভব হয়ে পড়ে। জমির চাষীরা বারবার আমাকে ডিজেল চালিতন লকূপের জন্য চাপ দেয়। ডিজেল কেনার জন্য ঢাকায় আসি। কিন্তু ঢাকায় এসে টাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় ডিজেল কিনতে ব্যর্থ হই। অতঃপর খালি হাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। গাড়িতে বসে আমার বুক ফেটে কান্না আসছিল। এই সময় আমি আমার মহান মোর্শেদ যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লার অসিলা ধরে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি। আরজ করি, ‘ওগো দয়াল মাওলা, দয়াল খোদা! আমি আজ চরম বিপদের সম্মুখীন, দেশে প্রচণ্ড খরা, ফসলী জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, আমি খালি হাতে বাড়ি যাচ্ছি, মানুষকে কী জবাব দেব? হে আল্লাহ্! আপনার বন্ধু যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীর অসিলায় দেশে বৃষ্টি নাজিল করুন।’ এভাবে আজিজি করতে করতে আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। আমি তখন কোথায়, বুঝতে পরিনি।

হঠাৎ বাসের জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি এস আমার হাতে পড়ে। বাইরে তাকিয়ে দেখি, সমস্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। আমার দেহ ও মনে তখন পরম শান্তি বিরাজ করছিল। আমি মনে মনে মহান আল্লাহর বন্ধুর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছিলাম। দেখতে দেখতে মুষল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমি বৃষ্টিতে ভিজেই বাড়িতে পৌঁছালাম। এভাবে একটানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলো। আমার প্রজেক্টে শত শত বিঘার মতো জমি ছিল। সকল জমির মৃত প্রায় ইরিধানের গাছগুলো এমনভাবে সজীব ও সতেজ হয়ে উঠলো যে, মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। আশপাশের জমিগুলোও আল্লাহর এ রহমত পেয়েছিল। অবস্থা এমন হলো যে, আমি যদি লক্ষ বিঘা জমি নিয়ে ইরি ধানের এই প্রজেক্ট চালু করতাম, তবুও পানির অভাব হতো না। অতঃপর সমস্ত এলাকায় হাহাকার বন্ধ হয়ে যায়। ঐ বছর আমাকে আর ডিজেল চালিত নলকূপ দিয়ে পানি উঠাতে হয়নি।’’

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here