প্রবৃদ্ধির চেয়ে করোনার টিকায় গুরুত্ব বেশি

0
15


বর্তমান বিশ্বময় করোনা পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধির চেয়ে করোনার টিকায় গুরুত্ব বেশি দিতে হবে প্রতিটি রাষ্ট্রকে। প্রবৃদ্ধি, ঘাটতি অর্থায়ন এগুলোর চেয়েও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষকে কীভাবে দ্রুত টিকা দেওয়া যায় সেই প্রশ্নটিই এখন মুখ্য। টিকা পেলেই মানুষের মনে স্বস্তি আসবে। ব্যবসায়ী আস্থাও বাড়বে। সফল হবে করোনা সংকট কাটিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনরুদ্ধারের কৌশল। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের পক্ষে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনা উপস্থাপন কালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান এ কথা বলেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে পর্যালোচনা তুলে ধরতে গত শনিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংস্থাটির পক্ষে বিশ্লেষণ তুলে ধরে আরো বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ড. এ কে এনামুল হক এবং সমাজতাত্ত্বিক খন্দকার সাখাওয়াত আলী। উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী এতে সঞ্চালনা করেন।


শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব কর প্রস্তাবগুলোকে প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে বড়ো শক্তির জায়গা উল্লেখ করে ড. আতিউর বলেন, মহামারিজনিত মন্দাবস্থার কথা বিবেচনা করে চলতি বছরের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের সমান রাখা হয়েছে। তার মতে, এই ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জিং এবং এটি অর্জনে রাজস্ব বোর্ডকে সর্বোচ্চ দক্ষতার নজির স্থাপন করতে হবে। ড. এ কে এনামুল হক বলেন, সামাজিক নিরাপত্তায় সাধারণত দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের দিকেই মনোযোগ দেওয়া হলেও, এর একটু উপরে থাকা নিম্ন মধ্যবিত্তদের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। এ জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে কাজ শুরু হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। খন্দকার সাখাওয়াত আলী বলেন, বাজেটে ৭০-৮০ শতাংশ নাগরিককে করোনা টিকা দেওয়ার কথা বলা হলেও কত সময়ের মধ্যে তা করা হবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি মনে করেন, আসন্ন অর্থবছরের মধ্যেই এ লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিকভাবে টিকা আমদানি এবং পরে টিকা উৎপাদনে জোর দিতে হবে। এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।


সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে গণমাধ্যমের বাজেট বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. আতিউর ও অন্যান্য প্যানেল আলোচকরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের কাঠামোগত পরিবর্তন না করে কেবল বরাদ্দ বাড়ালে সুফল পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে হেলথ ভাউচার চালু করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন এমন মানুষদের একটি অংশের দায়িত্ব সরকার নিলে তা খুবই কার্যকর হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here