প্রশ্নোত্তর

0
309

শুদ্ধ নামাজ কী?

পবিত্র কুরআনে অসংখ্যবার সালাত তথা নামাজ কায়েমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজ প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ। মহান আল্লাহ্ বলেন- ‘‘নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে নামাজ বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই শ্রেষ্ঠতর।” (সূরা আল আনকাবূত ২৯ : আয়াত ৪৫)

অথচ নামাজের প্রকৃত উপলব্ধি করতে আমরা অনেকেই সক্ষম নই। যেভাবে এবং যে পদ্ধতিতে নামাজ পড়া প্রয়োজন, সেভাবে আমরা অনেকেই নামাজ আদায় করতে পারি না। অনেকেই একদিকে নামাজ পড়ে, অন্যদিকে আল্লাহর নির্দেশিত আইন-কানুন লঙ্ঘন করে অসৎ কাজে লিপ্ত হয়। আল্লাহ্ বলেন- ‘‘অতিশয় দুর্ভোগ ঐসব নামাজির জন্য, যারা নিজেদের নামাজ সম্বন্ধে উদাসীন। যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে।’’ (সূরা আল মা’উন ১০৭ : আয়াত ৪ থেকে ৬)

আর এটির মূল কারণ হলো- অশুদ্ধ অন্তঃকরণে নামাজ পড়া। প্রকৃতপক্ষে ঐ নামাজই পাপ কাজ হতে দূরে রাখে, যে নামাজ শুদ্ধভাবে আদায় করা হয়। মহান আল্লাহ্ বলেন- ‘‘অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু’মিনগণ, যারা নিজেদের নামাজে বিনীত-নম্র। অর্থাৎ একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করেছে।’’ (সূরা আল মু’মিনূন ২৩ : আয়াত ১ ও ২)

শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে হলে প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো- আল্লাহর জিকিরের দ্বারা অন্তর বা ক্বালব থেকে কুমন্ত্রণা দানকারী শয়তানকে বিতাড়িত করে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা। এ প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- ‘‘শয়তান আদম সন্তানের ক্বালব বা দিলের মাঝে অবস্থান করে। যখন সে আল্লাহর জিকির করে, শয়তান তখন সরে যায়। আর যখন সে (আল্লাহর) জিকির থেকে গাফেল থাকে, তখন শয়তান তার ক্বালবে ওয়াস ওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দিতে থাকে।’’ (বোখারী শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-১৯৯)

সুতরাং ক্বালবে আল্লাহর জিকির জারি করার মাধ্যমে অন্তরে একাগ্রমনে আল্লাহর ধ্যান করা যায়। আর শুদ্ধ অন্তঃকরণে আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন নামাজই শুদ্ধ নামাজ। এভাবে সাধনা করতে করতে নামাজে মি’রাজ বা আল্লাহর দর্শন লাভ করা যায়। আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- ‘‘নিশ্চয় নামাজ মু’মিন ব্যক্তির জন্য মি’রাজ।’’ (তাফসীরে মাজহারী ৬ষ্ঠ খণ্ড : পৃষ্ঠা-৪১৩)

সুতরাং দুনিয়ার চিন্তামুক্ত হয়ে শুদ্ধ অন্তঃকরণে আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন নামাজই শুদ্ধ নামাজ। শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে পারলে নামাজে যেমন মি’রাজ লাভ হয়, তেমনি এ নামাজ পাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রেখে আদর্শ-চরিত্রবান রূপে গড়ে তোলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here