প্রশ্নোত্তর

0
195

প্রশ্ন: ইসলামে ছবি তোলা জায়েজ কি না?
উত্তর: ছবি একটি অতীব জরুরী বিষয়। বর্তমানে পাসর্পোট-ভিসা এবং পরিচয়পত্র-সহ সকল কাজে ছবি একান্ত প্রয়োজন। এমনকি মক্কায় হজ করতে যেতেও ছবি অত্যন্ত জরুরী। ছবি ছাড়া হজে যাওয়ার জন্য ভিসা পাওয়া যায় না। পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার ২৪৮নং আয়াতে তাবুত বা সিন্দুকের কথা বলা হয়েছে। উক্ত আয়াতের শানে নুযুলে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আ.) আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলেছিলেন- “হে খোদা! আমার সন্তানদের মধ্যে কারা নবি হবেন, তা দয়া করে আমাকে জানান।” তখন আল্লাহ্ তায়ালা সকল নবি-রাসুলের ছবি রেশমি রুমালে করে একটি তাবুত বা সিন্দুকে হযরত আদম (আ.)-এর কাছে পাঠালেন। এই সিন্দুকটি পর্যায়ক্রমে হযরত দানিয়েল (আ.)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল। এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) প্রণীত ‘আল্লাহ্ কোন পথে?’ নামক কিতাবখানা পড়ুন। এই কিতাবের প্রথম প্রশ্নটি হলো- নবি রাসুলগণের ছবি ছিল কিনা? যদি না থাকে তবে তাঁরা যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত, সাধারণ মানুষ তা জানবে কীভাবে?

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তরে ছবি তোলা যে জায়েজ, তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে যখন জাতীয় পরিচয় পত্র’ (NID Card) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন নির্বাচন কমিশন ছবির ব্যাপারে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের কাছে জানতে চায়। সেসময় দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে যোগাযোগ করা হলে সূফী সম্রাট প্রণীত ‘আল্লাহ্ কোন পথে?’ কিতাবখানা নির্বাচন কমিশন অফিসে পাঠালে ছবির দলিল পেয়ে কর্তৃপক্ষ ছবিসহ আইডি কার্ড তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে এ কথা সত্য, যদি ছবি হারাম হতো, তবে হজের মতো এমন একটি পূণ্যের কাজের জন্য ছবি ব্যবহার করা হতো না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক বাংলা ভাষায় অনূদিত তাফসিরে মা’আরেফুল কোরআন-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডে ৪৬০ পৃষ্ঠায় তিরমিজি শরিফের ২২৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত এক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) ফরমান, রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর বিবাহে আসার পূর্বে হযরত জিব্রাইল (আ.) একটি রেশমি কাপড়ে আমার ছবি নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর কাছে আগমন করেন এবং বলেন, এ আপনার স্ত্রী। কোনো রেওয়ায়েতে আছে, হযরত জিব্রাইল (আ.) তার হাতের তালুতে ছবি নিয়ে এসেছিলেন।’’ এতে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামে ছবি তোলা জায়েজ।

প্রশ্ন: মোর্শেদের দরবারে খেদমত ও গোলামির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মোর্শেদ আরবি শব্দ, যার অর্থ- পথ প্রদর্শক। ফারসি ভাষায় মোর্শেদকে ‘পির’ বলা হয়। বাংলা-ভারত উপমহাদেশে ইসলাম এসেছে অলী-আল্লাহ্গণের মাধ্যমে। তাই এ দেশের মানুষ পির মাশায়েখ তথা মোর্শেদের সহবতে যাওয়া এবং তাঁদের দরবারে খেদমত বা গোলামি করাকে পূণ্যের কাজ বলে মনে করে থাকে। কারণ কামেল মোর্শেদের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর পরিচয় পাওয়া যায়। মোর্শেদের দরবারে ভক্তবৃন্দ খেদমত ও গোলামি দুই ধরনের সেবকমূলক কাজ করে থাকেন। এই দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- খেদমত করা হয় মুরিদের ইচ্ছায়। মুরিদ ইচ্ছা করলে করতেও পারে, আবার নাও করতে পারে। কিন্তু গোলামি করতে হয় মোর্শেদের ইচ্ছায়। মুরিদ ইচ্ছা করলেই গোলামি থেকে বিরত থাকতে পারে না। মোর্শেদের ইচ্ছাতেই মুরিদকে গোলামি করতে হয়।

এই বিষয়টি বিস্তারিত জানার জন্য ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা প্রণীত ‘মোর্শেদের দরবারে মুরীদের করণীয়’ কিতাবখানি পড়ুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here