প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পর্যটনশিল্প

0
136

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে জেলার সব পর্যটন স্পট। করোনা মহামারির আতঙ্ক থেকে পর্যটকদের রক্ষায় ২৬ মার্চ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেশের পর্যটন শিল্পের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। গত সোমবার থেকে সীমিত আকারে পর্যটনের কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি মেলার পর ফের চাঙ্গা হয়ে উঠছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। জেলার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজগুলোতে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকতেও পর্যটকদের বিচরণ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা সরকারের বর্তমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জেলায় পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ইনানী বিচ ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেশ কয়েক জন পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পর্যটনের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় বিচ এলাকায় গড়ে ওঠা হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস একঘেয়ে বন্দিজীবন কাটানোর পর এখন সাগরতীরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পেরে পর্যটকরাও খুশি। পর্যটন স্পট খুলে দেওয়ার মতো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারকে তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ইনানী বিচের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার রেস্তোরাঁয় সাত-আট জন কর্মচারী বিনা বেতনে কাটিয়েছেন দীর্ঘ পাঁচ মাস। দীর্ঘদিন রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় তিনিও পরিবারপরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে ছিলেন। সরকার গতকাল সোমবার থেকে পর্যটন শিল্প সীমিত আকারে চালু করার নির্দেশ দিলে তিনি নতুন উদ্যমে তার ক্যাফে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করেছেন। ইনানী প্যাবেল স্টোন নামক হোটেলের ম্যানেজার সেলিম জানান, দীর্ঘ পাঁচ মাসে প্রায় কোটি টাকা লোকসান হলেও তার মনে দুঃখ নেই। কারণ প্রশাসন তার হোটেলটি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করেছে। গতকাল থেকেই হোটেলটি পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ইনানী বিচে ঘুরতে আসা সাতকানিয়ার ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন বন্দি জীবনযাপনের অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সপরিবারে তিনি কক্সবাজার এসেছেন রবিবার বিকালে। সোমবার সকালে তারা ইনানীতে এসে বেশ আনন্দিত। বললেন, এখনো পর্যটকের উপস্থিতি কম। তাই তারা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারছেন।

বিচে বেড়াতে আসা লোহাগাড়ার চৌধুরী আলম জানালেন, তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করতেন। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে বাধ্য করে। দীর্ঘদিন বাড়িতে বন্দিজীবন কাটানোর পর কক্সবাজার ও ইনানী বিচে ঘুরতে এসেছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ছেলে সোহান ও স্ত্রী সায়মাকে।

ইনানী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইনানী বিচ খুলে দেওয়া হলেও পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ এ বাক্যটি সবাইকে অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here