প্রিয় গল্প

0
39

লেখক: বন্দে আলী মিয়া
অনুবাদক: ড. অপর্ণা পান্ডে

পরীর দেশে


দুপুর রাত। রুনু আঘোরে ঘুমিয়ে ছিলো। ঝুনু যেন তার কাছে এসে চুপি-চুপি ডাকলো
ঝুনু : ওরে রুনু।
রুনু : কী বলছো ঝুনু ভাই?
ঝুনু : আজ আমাদের ছুটি, চলো না বাইরে খানিকটা বেড়িয়ে আসি।
রুনু : ঝুনু, তা চলো না, বেশ হবে। মীনু আপা, তুমি যাবে আমাদের সঙ্গে।
মীনু : চল আজ সকালবেলা বেড়াতে বেশ ভালোই লাগবে।
ঝুনু : আজকের এই ভোর বেলাটা কি চমৎকার! শীতের কুয়াশা আর জড়তা নেই- ফাগুনের বাতাস বইতে শুরু হয়েছে।
মীনু : গাছ থেকে পুরোনো পাতারা গেল ঝরে- নতুন পাতারা রঙীন পোশাক পরে শাখায় শাখায় উঁকি দিতে শুরু করেছে।
রুনু : পথের দু’পাশে ফুটেছে বাহারী ফুল- এ সব ফুলের নাম তো আমরা জানি না ঝুনু ভাই।
ঝুনু : এগুলো মৌসুমী ফুল। দখিনা বাতাস পরশ বুলিয়ে এদের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে। কেউ হলুদ, কেউ সাদা, কারো বা রঙ জাফরানী, কারো লাল, কারো বেগুনী। চমৎকার দেখতে, না মীনু আপা?
মীনু : ঠিক- ঠিক। ওই চেয়ে দেখ শিমুল আর পলাশের দিকে- রাঙা রঙে তারা বনকে উজ্জ¦ল করে তুলেছে।
রুনু : চাঁপা আর চামেলী আলোকিত করেছে চারিদিক। আজ বন-ভুবনে রঙের মেলা। এই যে হাসু, তুমি এদিকে কোথায়?
হাসু : ও, তোমরা সকলেই আছো দেখছি। আমি চলেছি ‘ফুলপরীর’ কাছে।
ঝুনু : বটে! তা ফুলপরীটা কে? কোথায় সে থাকে?
হাসু : তুমি তো খুব বোকা দেখছি- ফুলপরী যে কে তাকে চেনো না! যাবে আমার সঙ্গে? রুনু ও ঝুনু (সমস্বরে) যাবো যাবো- অবশ্যই যাবো।
হাসু : তবে চলো।
ঝুনু : মীনু আপা, তুমিও কি আমাদের সঙ্গে যাবে? (দূরে বাদ্যধ্বনি শোনা যাবে)
মীনু : তা’ চল না রে।
হাসু : এই যে আমরা ফুল পরীর দেশে এসে পড়েছি।
মীনু : কি অপরূপ পাখিগুলো! কেমন বাহারী রঙ তাদের আর চমৎকার মসৃণ পালক!!
হাসু : এ কোথায় এলাম মীনু আপা! ছোটো ছোটো গাছ তার পাতাগুলো রূপের ছটায় ঝলমল করছে!!
রুনু : কেমন রঙ বেরঙের প্রজাপতি পাখা মেলে ফুলে-ফুলে উড়ে বেড়ায় দেখছো!
হাসু : ফুলপরীর দেশে সবকিছুই অপরূপ।
হাসু : চলো সবাই, ফুলপরীর সঙ্গে তোমাদের ভাব করিয়ে দিই।
মীনু : তা চলো, তোমাদের ফুলপরী কেমন দেখি।
ফুলপরী : তোরা কেরে?
হাসু : ফুলপরী ভাই, আমরা তোমার ছোটো-ছোটো ভাই-বোনেরা এসেছি।
ফুলপরী : ছি ছি ছি, এসেছিস বেশ করেছিস। আমি জানি, তোরা আজ আসবি।
হাসু : তুমি যদি জানতে তবে আমাদের জন্যে কি কি খাবার করে রেখেছো বলো?
ফুলপরী : তোরা যা থেকে চাইবি তাই দেবো।
মীনু : খুব মজা পরীভাই, খুব মজা।
হাসু : ওরে ওরে রুনু-ঝুনু।
রুনু : চুপ-চুপ।
হাসু : অমন করে ছুটিস নারে ঝুনু, পড়ে যাবি।
মীনু : ওরে শীঘ্রি নাম, শীঘ্রি নাম রে রুনু, গাছ থেকে পড়ে যাবি।
ঝুনু : না না না- পড়বো না- পড়বো না। এমন চমৎকার চমচম, পানতুয়া, বরফি, রাজভোগ, জিলিপি, পেয়ারা গাছে গাছে ধরে রয়েছে- নিষেধ কোরো না মীনু আপা। তোমার জন্যেও আমি দু’পকেট ভর্তি করে আনছি।
ফুলপরী : ওগো আমার ছোটো ভাই-বোনেরা-তোমরা ঠিক হয়ে বসো। আমি তোমাদের ফুলপরী বোন। আমার দু’টি কথা তোমরা মন দিয়ে শোনো।
হাসু : বলো পরীভাই, আমরা খুব মন দিয়ে শুনবো।
ফুলপরী : এই যে তোমরা এখানে এসে ছুটা-ছুটি করছো, কেউ ফুল তুলছো- কেউ গাছে উঠে ফল ছিঁড়ছো- একটা অচেনা জায়গায় গিয়ে এমন করা কখনো উচিত নয়।
মীনু : ঠিক, পরীভাই ঠিক।
রুনু : তোমার কথা আমরা এখন থেকে মেনে চলবো। বাপ-মা আর গুরুজনের বাধ্য হবো-মন দিয়ে লেখাপড়া করবো।
হাসু : আর খুব ভদ্র হয়ে চলবো। সবাই যাতে ভালো বলে এমন কাজ করবো। কেমন ঠিক হলো তো পরীভাই?
ফুলপরী : ঠিক, ঠিক। তা’হলে আমি খুব খুশি হবো। আমার কাছে যখন যা চাইবে তাই দেবো।
মীনু : আমরা বাড়ি ছেড়ে এসেছি সেই সকালবেলা- এবার চলি। দেরী হলে মা বকবেন।
ফুলপরী : এতো শীঘ্রি তোমরা যাবে?
ঝুনু : হ্যাঁ পরীভাই, এবার চলি। তুমি আমাদের কি দেবে দাও।
ফুলপরী : তবে খোকা-খুকুরা এই নাও একটা বাঁশি, এই নাও হীরামন পাখি, এই নাও মণি-মুকতার ফুল, এই নাও পায়েসের হাঁড়ি, মিঠাইয়ের হাঁড়ি। সবাই একটা করে নাও তোমরা।
হাসু : বাঃ বাঃ, ফুলপরী আপার কি চমৎকার উপহার! ভারী মজা। ভারী মজা। এমন সওগাত আমরা জীবনে কখনো পাইনি।
ফুলপরী : খুকুমণি, এবারে তুমি নাও এই ময়নামতির শাড়ি, নাও হীরা, পাননার,মণি, মুকতার গহনা। এগুলি এখনি পরো। তারপর, তারপর নিয়ে যাও তোমাদের ফুলপরীর ভালোবাসা আর আদরের দান এই সোনার হরিণ।
ঝুনু : বাঃ বাঃ কি মনোরম! তোরা সবাই ফুরপরীর গান কর এবার-
সেলাম তোমায় সেলাম
তোমার কাছে এসে মোরা
দেশে এবার চলি-
বিদায়ের গান বলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here