প্রিয় গল্প

0
70

লেখক: বন্দে আলী মিয়া
অনুবাদক: ড. অপর্ণা পান্ডে
স্বপনবুড়োর দেশে


পিন্টু: ওরে মিন্টু।
মিন্টু: কি বলছো পিন্টু ভাই?
পিন্টু: আজ আমাদের ছুটি, চল না বাইরে খানিকটা বেড়িয়ে আসি।
মিন্টু: তা চলো না, বেশ হবে। মীনু আপা, তুমি যাবে আমাদের সঙ্গে।
মীনু: চল, আজ বেড়াতে বেশ ভালোই লাগবে।
পিন্টু: আজকের এই ভোর বেলাটা কি সুন্দর! শীতের কুয়াশা আর জড়তা নেই। বসন্তের বাতাস বইতে শুরু করেছে।
মীনু: গাছ থেকে পুরনো পাতা যাচ্ছে ঝরে। নতুন পাতারা রঙিন পোশাক পরে শাখায়-শাখায় দিচ্ছে উঁকি।
মিন্টু: এগুলো মৌসুমী ফুল। ফাগুনের দক্ষিণা বাতাস পরশ বুলিয়ে এদের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে। কেউ হলুদ- কেউ সাদা- কারো রঙ জাফরানী, কারো লাল, কারো বেগুনী। চমৎকার দেখতে না মীনু আপা?
মীনু: ঠিক- ঠিক। ওই যে চেয়ে দেখ শিমুল আর পলাশের দিকে। রাঙা রঙে তারা চারদিক আলো করে রেখেছে।
মিন্টু: চাঁপা আর চামেলি আলোকিত করেছে কানন। আজ বনভুবনে রঙের মেলা। এই যে চিনু, তুমি এদিকে কোথায়?
চিনু: ওঃ তোমরা সকলেই আছো দেখছি। আমি চলেছি স্বপনবুড়োর কাছে। পথে পান্না আমার জন্যে অপেক্ষা করছে।
মিন্টু: বটে। স্বপনবুড়োটা কে? কোথায় সে থাকে?
চিনু: তুমি তো খুব বোকা দেখছি। স্বপনবুড়োকে চেনো না! যাবে আমার সঙ্গে?
মিন্টু ও পিন্টু: (সমস্বরে) যাবো-যাবো— নিশ্চয়ই যাবো।
চিনু: তবে চলো।
পিন্টু: ওই যে পান্না দাঁড়িয়ে আছে। মীনু আপা, তুমিও আমাদের সঙ্গে যাবে নিশ্চয়।
মীনু: তা চল না রে। (দূরে সমবেত যন্ত্রধ্বনি)
চিনু: এই যে আমরা ঘুমপরী আর স্বপনবুড়োর দেশে এসে পড়েছি।
মীনু: কী অপরূপ! পাখিগুলো। কেমন তাদের বাহাদুরি রঙ আর মসৃণ পালক।
পিন্টু: এ কোথায় এলাম মীনু আপা! ছোটো ছোটো গাছ, তার পাতাগুলো ঝলমল করছে।
মিন্টু: কেমন রঙ-বেরঙের প্রজাপতি পাখা মেলে ফুলে-ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে।
চিনু: এই দেশে সবই সুন্দর।
পান্না: চলো সবাই, স্বপনবুড়োর সঙ্গে তোমাদের ভাব করিয়ে দিই।
মীনু: তা চলো, তোমাদের স্বপনবুড়ো কেমন দেখি।
[সকলে স্বপনবুড়োর দরজার সুমুখে গিয়ে হাজির হলো।]
স্বপনবুড়ো: তোরা কে রে?
পান্না: দাদু গো, আমরা তোমার নাতি-নাতনীরা এসেছি।
স্বপনবুড়ো: হো- হো, হো, এসেছিস বেশ করেছিস। আমি জানি তোরা আজ আসবি।
চিনু: তুমি যদি জানতেই তবে আমাদের খাবার জন্যে কি কি করে রেখেছো বলো?
স্বপনবুড়ো: তোরা যা খেতে চাইবি দেবো। হো-হো-হো, Ñ বড়ো মজা হবে-বড়ো মজা হবে।
মীনু: খুব মজা দাদু, খু-ব মজা-
চিনু: ওরে ওরে পিন্টু মিন্টু-
পিন্টু: চুপ-চুপ।
পান্না: অমন করে ছুটিস নারে পিন্টু, ছুটিস না।
মীনু: ওরে শিগগির নাম- শিগগির নাম রে মিন্টু, পড়ে যাবি।
মিন্টু: না না না- পড়বো না। এমন চমৎকার পান্তুয়া, চমচম, আর সন্দেশ গাছে- গাছে ধরে রয়েছে। নিষেধ করো না মীনু আপা। তোমাদের জন্যে আমি দু’পকেট ভর্তি করে আনছি।
স্বপনবুড়ো: ওহে নাতি-নাতনীরা তোমরা স্থির হয়ে বসো, আমি তোমাদের বুড়ো দাদু- তোমাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প-সল্প করি।
মীনু: কিন্তুু দাদু গল্পসল্প আর একদিন এসে করবো- আজ নয়। অনেক্ষণ বাড়ি ছেড়ে এসেছি আজ এবার চলি। দেরি হলে মা খুব চিন্তা করবেন।
পান্না: হ্যাঁ দাদু, আজ চলি। তুমি আমাদের কি দেবে দাও।
স্বপনবুড়ো: তবে নাও। খোকারা নাও এই বাঁশি- নাও মানিক মুক্তার ফুল। প্রত্যেকে একটা হীরামন পাখি। তারপর এই নাও ক্ষীর আর পায়েসের মিঠাই-মন্ডার হাঁড়ি। সবাই একটা করে নাও তোমরা।
চিনু: বাঃ বাঃ স্বপনদাদুর কি সুন্দর সুন্দর উপহার! ভারি মজা! ভারি মজা! এমন উপহার কখনো আর পাই নি।
স্বপনবুড়ো: এবারে খুকু, তুমি নাও ময়নামতির শাড়ি। নাও সব জড়োয়ার গহনা। তারপর নিয়ে যাও তোমার স্বপনদাদুর ভালোবাসা আর আদরের দান এই সোনার হরিণ।
পিন্টু: বাঃ বাঃ, কি চমৎকার! তোমরা সবাই দাদুর গান করো।
সকলে: ( সমবেত কণ্ঠে) গান-
দাদুগো, সালাম দিতে এলাম-
তোমার কাছে এসে হেথায়,
কতো কি যে পেলাম
কতো কি যে পেলাম।
চলি এবার বাড়ি
সঙ্গে নিলাম মন্ডা ক্ষীরের হাঁড়ি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here