ফলচাষীদের দুশ্চিন্তা দুর হচ্ছে

0
247

কৃষি ডেস্ক: কৃষকের বাগান ও খেতে পেকে ওঠা আম, লিচু ও তরমুজ দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে হাটবাজারগুলোর পাশাপাশি অনলাইন পণ্য বিপণনের প্ল্যাটফর্ম ও সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে ফলচাষীদের দুশ্চিন্তা দুর করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, দেশে এবার আম ও লিচুর ফলন ভালো। কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশে-বিদেশে বাজারজাত করা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার বিদেশেও আম রপ্তানি প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি দেশে বাজারজাত করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বছর আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন। লিচুর উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার টন। গত ১৫ মে থেকে গুটি জাতের আম নামার কথা ছিল। কিন্তু বাজার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় আম গাছ থেকে নামাচ্ছেন না চাষীরা। গোপালভোগ, রানীপ্রসাদ, লক্ষ্মণভোগ ও হিমসাগর। এ ছাড়া ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি এবং আশ্বিনা নামবে জুন ও জুলাইয়ের প্রথম দিকে। কিন্তু এবার এখনো ব্যবসায়ীরা ‘বাগান কিনতে’ যোগাযোগ করেননি। লিচুর ক্ষেত্রে শঙ্কা বেশি চাষিদের। সপ্তাহ খানেক পরই লিচু নামবে। অথচ আড়ত থেকে এখনো বায়না পাননি তাঁরা। ক্ষুদ্র ও বাণিজ্যিকভিত্তিক আম ও লিচু উৎপাদনকারীরা কার কাছে বিক্রি করবেন, সে হিসাব মেলাতে পারছেন না

সাতক্ষীরার আম চাষি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘‘অন্য বছরগুলোতে এ সময় ঢাকা থেকে অনেক ব্যবসায়ী নিজ থেকে আসতেন, অনেকে খোঁজখবর নিতেন, বলতেন যে ‘আম আমাদের দিয়েন, কবে আসব।’ বাগানের সব দায়দায়িত্বও তাঁরা নিয়ে নিতেন। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী খবর নেননি। তিনি বলছিলেন, ‘বুঝতে তো পারছেন আম চাষিরা এখন কী অবস্থায় রয়েছেন। এখন আমরা চাচ্ছিলাম সরকারিভাবে যদি আম বিক্রির কোনো ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারতাম। গত বছর আমাদের বাগানের আম ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ বেশ কয়েকটি দেশে গিয়েছিল। শুনছি এ বছর কোনো আম বাইরেও যাবে না।’’

জাকির জানান, গতবারের চেয়ে এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দেশের যে অবস্থা লাভ তো দূরের কথা, আম চাষে যে খরচ হয়েছে সেটি ওঠানোই এখন কঠিন হয়ে যাবে।

রাজশাহীর আম চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘‘আমের ফলন ভালো আছে, কিন্তু খুবই দুশ্চিন্তায় আছি কিভাবে বাজারজাত করব। ঠিকমতো বাজারজাত করতে না পারলে অনেক ক্ষতির মধ্যে পড়ে যেতে হবে।’’
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি সভা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই সভায় অনলাইনে ও সুপারশপে মৌসুমি ফল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here