ফাতেমী কাওসার ধারা মোহাম্মদী সত্য স্বরূপেরই ধারাবাহিকতা

0
144

প্রফেসর ড. কানিজ-ই-বাতুল

পবিত্র কুরআনের সূরা কাওসারে এরশাদ হচ্ছে: ‘‘নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি, অতএব, আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন; যে আপনার শত্রু সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।’’

এ সূরার শানে নুযুল সম্পর্কে বর্ণিত আছে, বিশ^নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পুত্র সন্তান না থাকার কারণে তাঁর শত্রুরা দোষারোপ করত। এরই প্রেক্ষাপটে সূরা কাওসার অবর্তীণ হয়।

উল্লিখিত সূরায় শত্রুদের দোষারোপের দাঁত ভাঙ্গা উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, শুধু পুত্র সন্তান না থাকার কারণে যারা রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-কে নির্বংশ বলে তারা হযরতের প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে বেখবর, রাসুলুল্লাহ্র বংশগত সন্তান সন্ততি কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যদিও তা কন্যা সন্তানের তরফ থেকে হয় এবং হুজুরে আকরামকে যারা খাটো করে তারাই নির্বংশ।

কাওসার’ -এর অর্থ অজস্র কল্যাণ। হযরত আনাস বিন মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন :‘‘আমি হযরত নবি করীম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাওসার’ কী? তিনি বললেন, জান্নাতের মধ্যে একটি নহর পশ্চিম হতে পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ ও প্রশস্ত যার তীরে আমার বংশধরদের অট্টালিকা অবস্থিত। এমন কোনো ব্যক্তি যে আমার আদেশের বিপরীত কাজ করেছে এবং আমার বংশধরকে হত্যা করেছে বা কষ্ট দিয়েছে, কখনও এর পানি পান করবে না।

সূরা কাওসারে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সন্তান হযরত ফাতেমা (রা.)-এর গুণাবলিকে জান্নাতের কাওসারের সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

কুরআন পাকের সূরা তূরের ২১ নম্বর আয়াতে এরশাদ হচ্ছে: ‘‘যারা ইমানদার এবং তাদের সন্তানই মানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃ পুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না।

আয়াত থেকে হযরত ফাতেমা (রা.) তাঁর মহান পিতার সাথে মিলিত হয়েছে যে তা-ই প্রমাণিত হয়। হযরত ফাতেমা সর্বদিক থেকে শুধু হযরতের অনুগামীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন হযরতের একটি প্রিয় অঙ্গ। মহানবি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘ফাতেমা আমার অঙ্গ।’

হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন পূর্ণতাপ্রাপ্ত মানব এবং আল্লাহর প্রেরিত রেসালাতের প্রতিষ্ঠান। এ মহান পবিত্র প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অঙ্গস্বরূপ কাজ করে গেছেন হযরত ফাতেমা ও তাঁর পবিত্র সন্তানগণ। বুঝা যায় যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিশিষ্ট ও মর্যাদা সম্পন্ন অংশ ছিলেন হযরত ফাতেমা (রা.)। মহানবি (সা.) ফাতেমাকে নিজের কাছে রেখে নিজের মনের মতো আদর্শবান করে গড়ে তুলেছিলেন।

আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-কে সীরাজুম মুনীরা অর্থাৎ উজ্জ্বল প্রদীপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন সূর্য ছাড়া পৃথিবী জীবনহীন, তেমনি মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া এ পৃথিবী অন্ধকার। সূর্য পৃথিবীকে আলোকিত করে তার কিরণের মাধ্যমে। তেমনি মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে ও কুরআন পাকের শিক্ষায় মানবজাতি আলোকিত হয়েছে হযরত ফাতেমা (রা.) ও তাঁর সন্তানবর্গের আদর্শ পালন করে। মোহাম্মদী সত্যের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে ফাতেমী কাওসারের মাধ্যমে। ফাতেমী কাওসার মুহাম্মদ (সা.) থেকে বিছিন্ন কোনো বস্তু নয়, বরং তা সূর্যের কিরণের মতো। মুহাম্মদের সত্য স্বরূপের ধারা।

কুরআন পাকের সূরা আহযাবের আয়াতে তাতহীরে [পবিত্রতার আয়াত] এরশাদ হচ্ছে : ‘‘হে আহলে বাইত, আল্লাহ্ তো কেবল চান তোমাদের নিকট হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে, যেমন পবিত্র করার হক আছে।’’

উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালমা (রা.) এ আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, মহানবি (সা.) তাঁর ইয়েমানী চাদরের ছায়াতলে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু, হযরত ফাতেমা (রা.), হযরত হাসান (রা.) ও হযরত হুসাইন (রা.)-কে নিয়ে আয়াতে তাত্হীর পড়েছিলেন।

পাক পাঞ্জাতন চাদরের তলায় একত্র হওয়ার পর উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা (রা.) বলেছিলেন ‘‘আমিও কি এ চাদরের মধ্যে আসতে পারি? ‘‘হুজুর (সা.) বললেন, না, বরং তুমি একটি উত্তম অবস্থায় থাকবে।’’

আয়াতে তাত্হীরের শানে নুযুল থেকে পাক পাঞ্জাতনের পবিত্রতা হযরতের  সাথে মিলিত দেখা যায়।

সাহাবি হযরত যাবের ইবনে আবদুল্লাহ্ আনসারী (রা.) বর্ণনা করেছেন, হযরত জিবরাইল চদরের মধ্যে অবস্থানকারীদের শান ও মর্যাদা অবলোকন করে অভিভূত হয়ে যান এবং আল্লাহ্ তায়ালার নিকট জানতে চান যে, এ চাদরের মধ্যে কারা আছেন। তখন আল্লাহ্ তাঁদের পরিচয় দেন এভাবে যে, ‘‘এ চাদরের মধ্যে আছে ফাতেমা, তার পিতা, তার স্বামী ও তার পুত্রগণ।’’ অর্থাৎ ফাতেমা নবুওয়াত ও রেসালাতের সেতুবন্ধন হিসাবে স্বীয় দায়িত্ব পালন করেন। রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর চাদরের ছায়াতলে যারা ছিলেন তাঁদের মাধ্যমেই ফাতেমী কাওসারের পবিত্র স্রোত প্রবাহিত হয়ে আসছে। সূরা আলে ইমরানের ৬১নং আয়াতে এরশাদ হচ্ছে ‘‘বলুন : এসো আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের ও তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের এবং আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে, আর তারপর চল আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর দেই আল্লাহর লানত।’’

এ আয়াতের শানে নুযুলে বর্ণিত হয়েছে : হযরত ঈসা (আ.) ও আল্লাহর বান্দা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এ সত্য প্রকাশ করলে খ্রিষ্টানরা বলে, ঈসা আল্লাহর পুত্র, বান্দা নন। তখন এ আলোচ্য আয়াত নাজিল হয়। এ আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা মহানবি (সা.)-কে মুবাহালা করার নির্দেশ দেন। ‘মুবাহালা’ মানে সত্য ও মিথ্যার ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে যুক্তিতর্কে মীমাংসা না হলে তারা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, যে পক্ষ এ ব্যাপারে মিথ্যাবাদী সে যেন ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।

আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতিনিধিদলসহ খ্রিষ্টানদেরকে মুবাহালার আহ্বান জানান। হযরত রাসুল (সা.) আল্লাহর আদেশ অনুসারে সন্তানের স্থলে নিলেন ফাতেমার সন্তান হাসান ও হুসাইনকে, নিজেদের (আনফুসানা) স্থলে নিলেন আলীকে এবং নারীদের স্থলে নিলেন তাঁর কলিজার টুকরা ফাতেমাকে। তাঁদের নুরানী চেহারা ও আত্মবিশ^াস দেখে খ্রিষ্টানদের সরদার শোরাহবীল ভীত হয়ে যায় এবং সাথীদ্বয়কে বলতে থাকে, তোমরা জান যে, তিনি আল্লাহর নবি এবং এ মুহূর্তে সন্ধি করাই উত্তম উপায়। নয়তো এ নবির অভিশাপে পাহাড় ধুলা হয়ে যাবে।

মুবাহালার ঘটনা থেকে হযরত ফাতেমা (রা.) তাঁর স্বামী ও তাঁর সন্তানদের নবি (সা.)-এর সাথে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও নবুওয়াত প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সদস্য হিসাবে মর্যাদা প্রকাশ পায় এবং হযরত ফাতেমার সত্যতা নবি (সা.)-এর সাথে মিলিত আছে বুঝা যায়।

কুরআন পাকের সূরা তওবাহ্ নাযিল হওয়ার পর হযরত মোহাম্মদ (সা.) সাহাবী হযরত আবুবকর (রা.)-কে প্রথম ১০টি আয়াত কাফেরদের সম্মুখে পড়ে শুনাবার আদেশ দিলে কিছুক্ষণ পর হযরত জিবরাইল (আ.) এসে জানালেন : আল্লাহ্ তায়ালা এরশাদ করেছেন এ আয়াত সমূহ আপনি পড়ুন বা আপনার আপনজনকে পড়ার আদেশ দেন। আল্লাহর এ আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে হযরত রাসুল (সা.) শেরে খোদা হযরত আলী (রা.)-কে হযরত আবু বকরের নিকট হতে আয়াতসমূহ নিয়ে কাফেরদের সম্মুখে পড়ে শুনাবার হুকুম দিলেন। (তাফসীর : মুহাদ্দিস আব্দুল কাদের দেহলভী)

পবিত্র কুরআনে বহু আয়াতের শানে নুযুল থেকে জানা যায়, ইসলামের প্রচার ও সংরক্ষণের জন্য যে কার্যাবলী নবি করীম (সা.)-এর মাধ্যমে কার্যকর হত সেখানে নবি করীম (সা.) তাঁর কন্যা ফাতেমা (রা.), তাঁর স্বামী হযরত আলী (রা.) ও তাঁর সন্তানদের সহযোগিতা নিয়েছেন এবং ইসলামের সাধারণ সেবায় সাহাবায়ে কেরামের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

হযরত ফাতেমা (রা.) এবং তাঁর স্বামী ও সন্তানদের গুণাবলিকেই ফাতেমাী কাওসার বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁদের এ বৈশিষ্ট্য ও উত্তম চরিত্র তৈরি হয়েছে নবি (সা.)-এর পবিত্র ক্রোড়ে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের আদর্শে তাঁর স্নেহময়ী কন্যা ফাতেমা (রা.)-কে আদর্শবান করে গড়ে তুলেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো সফরে যেতেন তখন সবার শেষে ফাতেমা (রা.)-এর সাথে দেখা করতেন। আবার যখন সফর থেকে ফিরতেন সবার আগে তাঁর প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর সাথে দেখা করতেন। তিনি ফাতেমার ঘরে প্রবেশ করার আগে দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন : ‘‘হে রাসুলের বংশধর, তোমাদের ওপর আমার সালাম।’’

বিশ^নবি যখন হযরত ফাতেমা (রা.)-এর নিকট আসতেন তখন ফাতেমা (রা.) দাঁড়িয়ে তাঁকে সালামও সম্মান পেশ করতেন। আবার যখন হযরত ফাতেমা (রা.) হুজুরে আকরাম (সা.)-এর নিকট আসতেন তখন মহানবি (সা.) দাঁড়িয়ে তাঁর মাথায় চুম্বন করতেন। হযরত রাসুল (সা.)-কে দেখে ফাতেমা (রা.) দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা স্বাভাবিক, কিন্তু ফাতেমাকে দেখে হযরত রাসুলে আকরাম (সা.)-কে দাঁড়ানোর ব্যাপারে বিশেষ কারণ ছিল এই যে, ফাতেমা ছিলেন রেসালাত প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অংশ। হযরত রাসুল (সা.) ফাতেমাকে স্নেহ ও শ্রদ্ধা করার কারণ শুধু এই নয় যে, ফাতেমা তখন হযরত রাসুল (সা.)-এর একমাত্র জীবিত কন্যা, বরং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন ফাতেমাকে স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী করে বেহেশতের কাওসারের ন্যায় অজস্র কল্যাণের গুণে গুণান্বিত করেছেন। ফাতেমী কাওসার ও মোহাম্মদী সত্যের ধারা একটি আরেকটির পরিপূরক।

হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর হযরত ফাতেমার ধৈর্য, ইমামতের ব্যাপারে আপষহীন বক্তব্য, মসজিদে নববীতে ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করে নবুওয়াত ও ইমামতকে হেফাজতের চেষ্টা-এ সমস্ত কঠিন কাজের প্রেরণা যোগায় তাঁর ফাতেমী কাওসারের মহান বৈশিষ্ট্য।

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এর শাহাদতের পর হযরত ইমাম হাসান (রা.)-এর ধৈর্য ও সহনশীলতা, হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর এজিদের জুলুম ভিত্তিক রাজত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন, কারবালার বেদনাদায়ক ঘটনার পর হযরত ফাতেমার কন্যা বিবি জয়নবের বন্দি অবস্থায় এজিদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বীরত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়ে জালেম এজিদের মুখোশ উম্মোচন এবং সিরিয়ার মসজিদে বন্দি অবস্থায় ইমাম জয়নুল আবেদীনের কুরআন ভিত্তিক ভাষণ দিয়ে জনগণকে জাগ্রত করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পবিত্র কুরআন ও বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা। এ সমস্ত কাজ সম্পাদিত হয়েছে ফাতেমী কাওসারের প্রেরণায়।

উদাহরণস্বরূপ নবি-বংশের একাদশ ইমাম হাসান আসকারীর পবিত্র জীবন থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করছি। আবু হাশেম বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ইমাম হাসান আসকারীকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন পিতার সম্পত্তির দুই ভাগ পায় ছেলে, অথচ মেয়েরা পায় এক ভাগ? ইমাম আসকারী উত্তর দিলেন, কারণ জিহাদ করা এবং সাংসারিক খরচাদি পরিচালনা করা পুরুষের দায়িত্ব।

আবু হাশেম বলেন; আমি মনে মনে বললাম, এর আগেও শুনেছি যে, ইবনে আবিল উজ্জাজ ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর সাদেক (রহ.)-এর কাছে ঠিক একই প্রশ্ন করেছিলেন এবং ঠিক এরকমই জবাব পেয়েছিলেন। তখন ইমাম আসকারী আমার দিকে ফিরে বললেন : ‘‘হ্যাঁ ঠিক একই প্রশ্ন ইবনে আবিল উজ্জাজ করেছিল। আমাদের যে কারো কাছেই একই প্রশ্ন করা হবে তার উত্তরও আমরা একই রকম দিয়ে থাকি। পরবর্তী ও পূর্ববর্তী ইমামের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জ্ঞানগত বিষয়ে আমরা প্রথম ও শেষ সম-মর্যাদার অধিকারী, তবে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর বিশেষত্ব ও মর্যাদা অতুলনীয়।’’

হযরত ফাতেমা (রা.)-এর বংশধরগণ জ্ঞান, তাকওয়া, ইবাদত এবং ইসলামের হেফাজতে যে মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন তার মূল উৎস ছিল ফাতেমী কাওসার যার ধারা মোহাম্মদী সত্যকে প্রবাহিত করছিল। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে হযরত রাসুল (সা.)-কে সামনে রেখে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, ফাতেমী কাওসার মোহাম্মদী সত্য স্বরূপেরই ধারাবাহিকতা।

এক কথায়, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্র কুরআনের প্রতিচ্ছবি। হযরত ফাতেমা (রা.)-এর চরিত্র হুজুরে আকরামের চরিত্রের বিশেষ অঙ্গ, যার অপর নাম ফাতেমী কাওসার বা মোহাম্মাদী সত্য স্বরূপের ধারা। এ ফাতেমী কাওসার বা মোহাম্মদী সত্য স্বরূপের ধারা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবেন হযরত ইমাম মাহদী (আ.)

সংকলিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here