ফিরে আসা প্রবাসীদের বকেয়া বেতনের কী হবে

0
185

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি স্টিল ফ্যাক্টরিতে ১৪ বছর কাজ করেছেন আতিক। তার মাসিক বেতন অল্প অল্প করেই প্রতিমাসে পেতেন। এতে করে তার দেশে ফেরার আগে দুই মাসের বেতনসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা আটকে আছে মালিকের কাছে। আতিকের মতো এভাবেই অনেকেই করোনা পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত চলে এসেছেন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে। এসব প্রবাসী কর্মীর ফেলে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ কতো জানা নেই কারও।

দেশে ফিরে আসা ৫৫৮ জন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি একটি জরিপ চালিয়েছিল গত মে মাসে। সেখানে তারা বলছেন, দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনও আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ৫২ শতাংশ বলছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) বিদেশফেরত ৫০ জন প্রবাসী কর্মীর ওপর গত জুন মাসে এক জরিপে দেখেছে যে, ৭৮ শতাংশ কর্মীর বিদেশে কিছু না কিছু পাওনা থেকে গেছে। এই পাওনার পরিমাণ কারও সাড়ে ৯ হাজার টাকা তো কারও ৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি বিদেশফেরত ২৬ শতাংশ কর্মীর কোনও পাওনা নেই বলে জানিয়েছে। রামরু জানায়, এই পাওনাগুলো মূলত তাদের পাওনা বেতন। এছাড়াও রয়েছে কিছু স্থানীয় বন্ধুদের বিপদে ধার দেওয়া, ভিসা রিনিউ করার জন্য দেওয়া টাকা।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, কী পরিমাণ রেমিট্যান্স আটকে আছে এই পরিসংখ্যান দেওয়া খুব কঠিন। আমরা যারা ফিরে আসছে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অনেকেই বলেছে বেতন বাকি, তাদের চাকরি আছে কিনা সেটাও মালিকপক্ষ নিশ্চিত করেনি। তাদের অনেককেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। চাকরি হবে না নিশ্চিত এমন কর্মীর সংখ্যা কিন্তু ৫ শতাংশের নিচে, বেশিরভাগই ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। কাজেই যারা চলে আসছে তাদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের একটা ঝামেলা থাকে। আমরা প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন অভিবাসী কর্মীর সঙ্গে কথা বলছি, তারা বলছে অনেকেই ঠিকমতো বেতন পাননি, অনেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে আসছে, অনেকের সামান্য কিছু টাকা বাকি।

তিনি আরও বলেন, এক তৃতীয়াংশ প্রবাসী বলেছেন যে তাদের কাছে যে টাকা আছে সেটা দিয়ে তিন মাস পর্যন্ত চলতে পারবেন। বেতন আটকে থাকার বিষয়টি একেক দেশে একে রকম পরিস্থিতি। যেমন লেবাননে ডলারের দামে পতনের ফলে সেদেশের টাকার পরিমাণ কমে গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে কাজ নেই, মালদ্বীপ থেকে যারা আসছে তারা কিন্তু কাজ হারিয়ে আসছে। বকেয়া শোধ হওয়ার পর আসছে এমন কর্মীর সংখ্যা কিন্তু একেবারেই হাতে গোনা।

প্রত্যেক দেশের শ্রম আইনের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের শ্রম আইনে কিন্তু কাজ না থাকলেও বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আছে। প্রত্যেক দেশের শ্রম আইন সেরকম। তারপরও যদি টাকা না পেয়ে থাকে তাহলে কিন্তু কর্মী শ্রম আইনে সেদেশে অভিযোগ করতে পারে। এখন যদি দেশে ফিরে আসে তাহলে সে কর্মী কী করবে। সেক্ষেত্রে আমাদের দূতাবাসগুলো, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড একটা ফলোআপের মধ্যে যেতে পারে। যারা দেশে ফেরত আসছে তাদের কতো বকেয়া আছে সেই তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজের মতো করতে পারে। এই উদ্যোগটি এখন নেওয়া জরুরি, তাতে আমরা বুঝতে পারবো যে কতজনের কাজ নেই, কতো টাকা পাওনা আছে। ফেরত যারা আসছে তাদের বিষয়ে কিন্তু সরকারের কাছে পরিষ্কার কোনও ডাটা নেই।

এই প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে যাদের পাওনা বা বকেয়া আছে তারা যদি সেটা নিয়ম অনুযায়ী না পেয়ে থাকে তাহলে আমাদেরকে জানালে আমরা বিদেশে আমাদের মিশনে যে শ্রম কল্যাণ উইংগুলো আছে তাদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় হচ্ছে যারা ফর্মাল সেক্টরে কাজ করতো তাদের বিষয়ে এই প্রক্রিয়ায় সমাধান করা সম্ভব কিন্তু ইনফর্মাল সেক্টরে যারা কাজ করতেন কিংবা তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসায়’ যারা গেছেন এদের ক্ষেত্রে কাজের চুক্তিপত্র থাকে না। তাই স্বাভাবিকভাবে তাদের বকেয়া আদায় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরে।         

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here