ফুলের সঙ্গে স্বপ্ন শুকোচ্ছে চাষীদের

0
226
লকডাউন পরিস্থিতিতে ফুলের বিক্রি নেই বললেই চলে।

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্বপ্ন ভেঙে গেছে যশোর ও ফরিদপুরের ফুল চাষিদের। একের পর এক বন্ধ হয় জাতীয় দিবস পালন, বন্ধ হয়ে যায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান। এতে ক্রেতা সংকটে বিক্রি করতে পারছে না বাগানে উৎপাদিত ফুল। বাধ্য হয়ে ফুল তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি ও বিদেশি ফুল জারবেরা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, গোল্ডেন স্টিক, রজনীগন্ধা, গোলাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ হয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জাতীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ফুল বিক্রি করতে না পারায় গাছের ফুল গাছেই শুকিয়ে যাচ্ছে। কিছু বাগানের ফুল ছিড়ে ফেলে দিতে হচ্ছে। ফুল বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের বেতনও দিতে পারছেন না তারা।

ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালির ফুলচাষী রফিকুল ইসলাম জানালেন, দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে ফুলের বাজার বন্ধ। ক্ষেত থেকে প্রতিদিন পাঁচ-ছয় হাজার টাকার ফুল কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। গাছগুলি পরিচর্চা করতে কৃষাণ-মজুরদের মজুরি দিতে হচ্ছে। যেসব পাইকারী দোকানে ফুল সরবরাহ করত সেগুলি বন্ধ থাকায় বকেয়া টাকাও আটকা পড়েছে। এখন দুরবস্থার কথা বলে বুঝানো যাবে না।

আলীয়াবাদের চাষী লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে চাকরি না পেয়ে অনেকের পরামর্শে ফুল চাষে এগিয়ে আসি। ২-৩ বছর পর বেশ ভালো আয়ও হয়েছে। করোনা এখন আমার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। জানি না কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করব।’

উপজেলার গদাধর ডাঙ্গীর চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘ফুলকে কেন্দ্র করেই আমাদের সব কিছু। অথচ ফুল বিক্রি করতে পারছি না। ফুল গাছে শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য ফুল ছিড়ে ফেলে দিচ্ছি। শ্রমিকদের টাকাও দিতে পারছি না। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’’

রাজধানী ঢাকার শাহবাগের ফুল দোকানি লোকমান হোসেন জানালেন পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবসের মতো বড় উৎসবগুলিতে বড় বিক্রি ছাড়াও সামাজিক, ধর্মীয় বা পারিবারিক আনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে যে ফুল বিক্রি হতো তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় তারা দারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানপাট বন্ধ থাকায় কঠিন দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটছে দোকান-মালিক ও কর্মচারীদের।

এ অবস্থায় ‘বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি’র সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ফুলচাষী, ফুল ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতা মিলে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষদের জন্য আপদকালীন খাদ্য সাহায্য দিতে হবে এবং পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘‘চাষীরা বিভিন্ন দিবস সামনে রেখে ফুল চাষ করে। তবে সারাবছরই ফুলের চাহিদা থাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসে চাহিদা বাড়ে। ফুল চাষ করে জেলার অনেক চাষী স্বাবলম্বী হয়েছেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব চাষিকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here