বঙ্গোপসাগরের মহাসম্পদ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান

0
28

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: জ্বালানি সম্পদ মহামূল্যবান। শুধু তেলের জন্য আমরা দেখেছি দশকের পর দশক যুদ্ধ। আমাদের বাংলাদেশ এই জ্বালানি সম্পদগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি সম্পদ তেল ও গ্যাসের মজুদ পেয়েছিল। এই গ্যাসের বেশিরভাগই পাওয়া যায় ভোলা ও সিলেট অঞ্চলে। তবে আমাদের বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া বিশাল সমুদ্র সীমানায় মাত্র কয়েকটি ব্লক আমরা অনুসন্ধান করে তা থেকে গ্যাস উত্তোলন করে শেষ করে ফেলেছি; এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য গ্যাস ব্লক ছিল সাঙ্গু।


এখন দেশে গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ও বিপুল পরিমাণে অবৈধ গ্যাস সংযোগ লাইন থাকায় এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারীদের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা গ্যাসের জোগান ঠিকমতো পাচ্ছেন না। তবে ইদানীং বিপুল সংখ্যক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা এর সুফল পাবেন বলে আশা করা যায়। মূলত এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারীদের কারণেই আজ অত্যন্ত দামি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।


সুখবরটি হচ্ছে, অতি সম্প্রতি সিলেটের জকিগঞ্জে প্রায় ৬৮০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। সমুদ্রের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হচ্ছে বাংলাদেশের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। তবে আমরা গড়ে মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারছি। আরেকটি সুখবর হচ্ছে সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুদ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি ত্রিমাত্রিক সার্ভের মাধ্যমে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সমুদ্রের কোল থেকে ব্লকটির দূরত্ব ১৮০ কিলোমিটার; ব্লকটির ওপর পানির গভীরতা ১৭০০ মিটার। ত্রিমাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপ থেকে দ্বিতীয়বার জরিপ করলেই এই ব্লকে গ্যাস আছে বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এই ১২ নম্বর ব্লকে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাসের মজুদ আছে বলে জরিপে জানা গেছে। আর এই প্রাকৃতিক গ্যাসে বাংলাদেশ প্রায় ১০০ বছর চলতে পারবে। এদিকে আমাদের পার্শ্ববতী দেশ মিয়ানমার যদি এই ব্লকে গ্যাস উত্তোলন করে তারাই এই ব্লকের অধিকাংশ গ্যাস নিয়ে যাবে। তাই অতিশীঘ্রই এই ব্লকে বাংলাদেশের গ্যাস উত্তোলন জরুরি।


পাশাপাশি আরো একটি বিষয় খেয়াল না রাখলেই নয়, আর তা হলো বাসা-বাড়িতে; অর্থাৎ গৃহস্থালি কাজে আবারো গ্যাসের সংযোগ চালু করা যায় কি না তা পুনর্মূল্যায়ন করা। কারণ আমাদের এখন গ্যাসের ব্যাপারে এলএনজি আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে। এলএনজি গ্যাসের দাম অনেক বেশি। কিন্তু তাতেও আবাসিক খাতে গড়পড়তা প্রতি ঘন ফুট গ্যাসের দাম পড়ছে ১২ টাকা ৬০ পয়সা। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আবাসিক গ্যাস গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে (গড়ে প্রায় ৩০০-৬৫০ টাকায়) মাসিকভিত্তিতে গ্যাস ব্যবহার করছেন। অথচ নন-প্রিপেইড গ্রাহকদের এর চেয়ে প্রায় তিনগুণ খরচে ৯২৫ ও ৯৭৫ টাকা যথাক্রমে একচুলা ও দুই চুলা সংযোগের গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করতে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় মহানগরগুলো যেমন রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও খুলনা মহানগরেও এই প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা প্রয়োজন। এই প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম প্রকল্প ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় স্থাপন করা হচ্ছে। এই প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে আবাসিক গ্যাস বিল গ্রাহকরা অত্যন্ত খুশি; কারণ এই প্রিপেইড মিটারে আপনি ঠিক যতটুকু ব্যবহার করবেন, গ্যাসের বিল আসবে ঠিক ততটুকুই। আর প্রতি মাসে ৬০ টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে দিতে হয় আলাদাভাবে, কারণ এই প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে প্রায় বিনামূল্যে; জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায়। এই কারণে যতদিন আপনার মিটারের দাম পরিশোধ না হয় তত দিন মাসে ৬০ টাকা মিটার ভাড়া বাবদ কেটে নেওয়া হবে।


এই প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম উন্মুক্ত করে দিলে গ্রাহকরা নিজেই গ্যাস কোম্পানিগুলোর সহায়তায় তাঁদের বাসায় প্রিপেইড মিটার লাগাতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে সরকার যদি কোনো কোম্পানিকে প্রিপেইড মিটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়, তবে তা আরো সহজ হয়ে যাবে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টিই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here