বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সরকারি সব পাটকল

0
174

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: অব্যাহত লোকসান বইতে না পেরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সরকারি সব পাটকল। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সম্মতি পাওয়ার পর এসব কারখানা বন্ধের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে এনেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীন পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে চালু কারখানার সংখ্যা ২৫টি। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে ২৬ হাজার শ্রমিক কাজ করে এসব কারখানায়। শ্রমিকের পাওনা পরিশোধসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ৬ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে বিজেএমসি।

বন্ধের পর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থাপনায় এসব পাটকল আবার চালু করা হবে। নতুন ব্যবস্থাপনায় এসব কারখানায় পুরোনো শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে। তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী কৌশল সাজাচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং তাদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য নতুন পিপিপি ব্যবস্থাপনায় পাটকল স্থাপন করার শর্ত দেওয়া হচ্ছে। অন্য কোনো কারখানা স্থাপন করা যাবে না।

পাটকল বন্ধ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো অবনতি না ঘটে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নজান সুফিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পাওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে সরকারি পাটকল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে বাকি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মিলগুলো বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকেই পাট খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি পাটকলে বছরে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়। বেতনের দাবিতে প্রায়ই শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে হয়। তাদের দাবির মুখে সরকার কিছু অর্থ বরাদ্দ দিয়ে বকেয়া পরিশোধ করে। যেহেতু লোকসানি প্রতিষ্ঠান সে কারণে আবার কয়েকদিন পর একই সংকট তৈরি হয়। শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। সরকারের সমালোচনা হয়। এভাবে বছরের পর বছর লোকসান এবং শ্রম অসন্তোষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিজেএমসির পাটকলগুলো। লোকসানের কারণ হিসেবে তারা জানান, বছর বছর ইনক্রিমেন্ট মিলে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের তুলনায় বিজেএমসির পাটকল শ্রমিকদের বেতন অন্তত তিনগুণ। যন্ত্রপাতি পুরোনো হওয়ার কারণে উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকেরও কম। বিপণন নেটওয়ার্কে আছে দুর্বলতা। আছে দুর্নীতি ও অনিয়ম। ফলে বাণিজ্যিকভাবে মুনাফার মুখ দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে এক ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মতো করে পাটকলগুলো চালু রাখা হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে এককালীন ব্যয় হলেও বছর বছর বড় লোকসান টানার চেয়ে তা শ্রেয়তর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here