বন্যায় অসহায় কয়েক লাখ মানুষ

0
190

দেশে করোনা মহামারির মাঝে বন্যায় লাখ লাখ মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছে। করোনায় মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বহু মানুষ কাজকর্ম হারিয়েছে। আয়-উপার্জন না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। সেখানেও বন্যার কারণে অনেকে আরো বড় বিপদের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ২৫টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ফসল নষ্ট হয়েছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মানুষকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢল অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বন্যা জুলাই মাস ছাড়িয়ে পুরো আগস্ট মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কয়েক কোটি মানুষকে যে মূল্য দিতে হবে এবং যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তা ভাবতেও কষ্ট হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর সংখ্যা ১৭। ১০১টি স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৭২টি স্টেশনে। আমাদের উত্তরে থাকা ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সেই পানি আমাদের নদীগুলো দিয়েই নামবে। আর নদীগুলোর গভীরতা কম থাকায় সেই পানি দীর্ঘ সময় ধরে পার্শ্ববর্তী জনপদগুলো ভাসাতে থাকবে। এতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। এ যেন আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে শুধুুু যে ফসল বা সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে তা-ই নয়, অনেক স্থানেই হাসপাতালে পানি ঢুকে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের করোনা ইউনিট, জামালপুরের সরিষাবাড়ীর একটি হাসপাতাল, চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালসহ আরো অনেক হাসপাতালে পানি ঢুকেছে। কোনো কোনোটির স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোগীরা পড়েছে চরম বিপাকে। দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। করোনা মহামারির এই সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করাও কঠিন। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বহু মানুষের অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা থেকেই যাবে। বন্যার পানি যখন কমতে শুরু করবে তখনো ব্যাপক আকারে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়বে। তা থেকে মানুষকে রক্ষায় আগেভাগেই ব্যাপক প্রস্তুতি থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here