বাংলাদেশকে চক্রাকার অর্থনীতিতে সহায়তা করবে নেদারল্যান্ডস

0
279

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : সবুজ প্রবৃদ্ধির ধারণার ধারাবাহিকতায় ইউরোপসহ উন্নত বিশ্ব এখন জোর দিচ্ছে চক্রাকার অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চক্রাকার অর্থনীতির জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী নেদারল্যান্ডস পরিবর্তিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে চক্রাকার অর্থনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে।

নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম আলেক্সান্ডার দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে গত বৃহস্পতিবার এই আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত এদিন নেদারল্যান্ডসের রাজার দপ্তরে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন।

ইইউর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোটটি ২০১৫ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে কাজ করছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, চক্রাকার অর্থনীতিতে লোকজনকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের নিরাপদ পণ্য দেওয়া হবে। যা অতীতের পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই ও পুনঃউৎপাদনযোগ্য হবে। উন্নততর জীবন, সৃজনশীল কর্মসংস্থান, উন্নততর জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিতের স্বার্থে পরিকল্পনায় টেকসই সেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্য হচ্ছে, চক্রাকার অর্থনীতির কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় কার্বননিঃসরণ কমানো। এ ছাড়া কমপক্ষে ৬০ হাজার বিলিয়ন ইউরোর খরচ কমানোর পাশাপাশি অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

ব্রাসেলসের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো শুরুতে নিজেরা চক্রাকার অর্থনীতির কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে এই জোটের ২৭ দেশে পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে একই ধারায় পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।

চক্রাকার অর্থনীতিতে পণ্যের পুনঃউৎপাদন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি পণ্যের এক-চতুর্থাংশ যাতে পুনঃউৎপাদন করা যায়, তাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তাই এখন আর পণ্য উৎপাদনে পানি, বিদ্যুতের উৎসই নয়, পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে পুনঃউৎপাদন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিবেশী ভারত ইউরোপের বাজারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিজেদের তৈরি করে ফেলেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাজারের ৬০ শতাংশ হচ্ছে ইউরোপ। তাই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মানিয়ে নিতে দ্রুত তৈরি হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, নেদারল্যান্ডসের রাজার কাছে পরিচয়পত্র দেওয়ার সময় সহযোগিতার বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। এ সময় চক্রাকার অর্থনীতি তথা টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের দেশগুলো ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এই ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছেন।

এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বাংলাদেশ সামাজিকসহ নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। তাই উৎপাদন ব্যবস্থায় সীমিত না থেকে সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলোতে যাতে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে, সে জন্য রাষ্ট্রদূত দেশটির রাজাকে অনুরোধ করেছেন।

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here