বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী জলবায়ু পরিকল্পনা

0
268

বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ আর ১৬ কোটি জনসংখ্যার নিম্নভূমির বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বিশেষভাবে ক্ষতির মুখে আছে। উদাহরনস্বরুপ বলা যায়, দেশটির বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের হিসাব মতে জুলাই ও আগস্ট মাসের বন্যা ব-দ্বীপ অঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবিয়ে দিয়েছে আর অন্তত ৫০ লক্ষ লোককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এখন দেশটি আশা করছে বিশ্ব ব্যাংক তাদের উচ্চাভিলাষী জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে প্রদান করবে, যার প্রথম কিস্তি আগামী বছরের শুরুতে ছাড় করা হতে পারে।

“আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সাথে অর্থায়ন চাওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, বিশ্বব্যাংক এদের মধ্যে একটি,” বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারী সামসুল আলম এক সাক্ষাতকারে বলছিলেন। জাপানী দাতা সংস্থা জাইকার সাথেও এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থ ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়নে ব্যয় হবে, যেটির উদ্দেশ্য হলো দেশের নদীগুলো ও তাদের মোহনায় সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা। “ক্রমাগত নদী ভাঙনে প্রতিবছর লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু হচ্ছে,” বলছিলেন বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবোন। দেশটির প্রস্তাবে পানি ও ভুমি ব্যবস্থাপনার সাথে সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো, ‘দারিদ্র হ্রাস ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করা’, টিমবোন জানান। প্রথম পর্যায়ের পরিকল্পনায় রয়েছে ভুমি পুনরুদ্ধার, বাঁধ তৈরী, নিরাপদ জলপথ চ্যানেল তৈরীর মতো ৮০টি প্রকল্প, যেগুলো বাস্তবায়নে ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৮০০ কোটি ডলার অর্থ ব্যয় হবে।

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি শিল্পায়নপূর্ব সময়ের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকে, প্রায় ছয় লক্ষ বাংলাদেশী স্থায়ীভাবে তাদের আবাসস্থল হারাবে। বিজ্ঞানবিষয়ক অলাভজনক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ক্লাইমেট সেন্ট্রালের হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩০ লাখ পর্যন্ত পৌছে যেতে পারে। এই হিসেবে এমনকি যারা অস্থায়ীভাবে উদ্বাস্তু হবে, তাদের সংখ্যা গননায় ধরা হয়নি।

এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে ডেল্টা পরিকল্পনা অনুমোদন করে। দেশটি বর্তমানে পানি সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে জিডিপির ০.৮% ব্যয় করে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালে জিডিপির ২.৫% এই খাতে ব্যয় করতে হবে, আলম বলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রত্যাশিত অর্থায়ন করলেও বাকি অর্থ যোগাড় করাটাও সহজ হবে না। দেশটি ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ২৭০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে। মে মাসে দেশটিতে ঘুর্নিঝড় আম্ফান আঘাত করে, যার কারণে ২৪ লক্ষ লোককে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। জুলাই মাসে বন্যা শুরু হয়।

প্রত্যেক দুর্যোগের পর দেশটিকে পুনর্বাসনে অর্থ ব্যয় করতে হয়, আর তাতে ঋনের বোঝা ক্রমাগত ভারি হচ্ছে। জুন মাসে আইএমএফ এক রিপোর্টে জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ঋণের কারণে বাংলাদেশের ঋণ- জিডিপির অনুপাত সামনের বছরগুলোতে ৪১% পর্যন্ত পৌছে যেতে পারে, যেটা ২০১৯ এর শেষনাগাদ ৩৬% ছিল।

“যেহেতু বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন,” এমনটাই বলছে আইএমএফ রিপোর্ট। “স্থানীয়ভাবে পরিবেশসম্মত উপায়ে দূর্যোগের ক্ষতি হ্রাস করার চেষ্টা যেমন চলছে, বাংলাদেশ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষনেরও কেন্দ্রে রয়েছে, সেটা তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।”

ব্লুমবার্গ থেকে অনূদিত। অনুবাদক: সালাহ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার, তিতাস, কুমিল্লা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here