বাংলা ভাষায় হজে খুৎবা প্রদান

0
189

‘খুৎবা’ আরবি শব্দ, যার অর্থ ভাষণ, বক্তৃতা, বক্তব্য ইত্যাদি। কোনো ফরজ বা ওয়াজিব নামাজের পূর্বে অথবা নামাজ শেষে মোনাজাতের পূর্বে ইমাম সাহেব যে ভাষণ বা বক্তব্য প্রদান করে থাকেন, তাকে খুৎবা বলা হয়। শুক্রবারে জুমার নামাজের পূর্বে এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ শেষে ইমাম সাহেব খুৎবা দিয়ে থাকেন।

আমাদের দেশে লিখিত একখানা পুস্তক থেকে আরবি ভাষায় ইমাম সাহেব খুৎবা পাঠ করে মুসল্লিদের শুনিয়ে দেন। দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষ আরবি ভাষা না জানার কারণে ইমাম সাহেব কি পড়ে শুনালেন, তার অর্থ বুঝতে না পেরে অনেকে খুৎবা চলাকালীন অবস্থায় তন্দ্রামঘ্ন হয়ে পড়েন। যেহেতু খুৎবা হচ্ছে ইমাম সাহেবের বক্তৃতা, যদি ইমাম সাহেব বাংলা ভাষায় খুৎবা প্রদান করতেন, তাহলে মুসল্লিরা তা মনযোগ দিয়ে শুনতেন। কিন্তু অর্থ না বোঝার কারণে তা শুনতে তেমন একটা আগ্রহী হন না। ফলে সে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অথচ জুমার নামাজের খুৎবা শোনা ওয়াজিব। তাই জুমার নামাজের খুৎবা মুসল্লিদের উদ্দেশে মাতৃভাষায় দেওয়ার জন্য মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ব্যাপরে তিনি শুধু বক্তব্যই দেননি, জুমার খুৎবার বাংলা প্রচলনের বিষয়টির উপরে তিনি পত্র পত্রিকায় লিখে মাতৃভাষার গুরুত্ব বুঝাতে সচেষ্ট হয়েছেন।

সে কারণে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী প্রতিষ্ঠিত দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে শুক্রবারে জুমার খুৎবা এবং দুই ঈদের খুৎবা ইমাম সাহেব মাতৃভাষা বাংলাতে দিয়ে থাকেন। ইমাম সাহেব খুৎবার শুরুতে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের উদ্বৃতি আরবিতে দিয়ে পুরো খুৎবাটি বাংলা ভাষায় দেন। আর সানি বা দ্বিতীয় খুৎবাটি আরবিতেই দিয়ে থাকেন। এভাবেই যে দেশের যে মাতৃভাষা, মুসল্লিগণ যদি সে ভাষায় খুৎবা শুনেন, তাহলে তারা মুসল্লিদের প্রতি ইমাম সাহেবের কি দিক নির্দেশনা, তা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারতেন। আমাদের প্রিয় নবি হযরত রাসুল (সা.) আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাঁর মাতৃভাষা ছিল আরবি। তাই শুক্রবার দিন জুমার নামাজে মসজিদে নববিতে তিনি নিজে আরবি ভাষায় খুৎবা প্রদান করতেন। সাহাবি মুসল্লিরাও আরবি ভাষার লোক হওয়ায় তারা রাসুল (সা.)-এর খুৎবার অর্থ বুঝতেন এবং রাসুল (সা.) তাদের প্রতি ধর্ম প্রতিপালনের বিষয়ে যা নির্দেশনা দিতেন, সে মোতাবেক চলতেন এবং ধর্ম পালন করতেন।

একথা সুস্পষ্ট যে, হযরত রাসুল (সা.) যদি আরব দেশ ব্যতীত অন্য কোনো দেশে আগমন করতেন, তবে ঐ দেশীয় ভাষাতেই খুৎবা দিতেন। সুতরাং আমরা যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, তাই আমাদের জুমা ও দুই ঈদের নামাজে খুৎবা বাংলা ভাষাতেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়টি নিয়ে যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা আজ বাস্তবে রূপ লাভ করেছে। সূফী সম্রাটের প্রস্তাব মোতাবেক বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেব নামাজের পূর্বে জুমার খুৎবার বিষয়বস্তু বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করে থাকেন। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এই যে, এ বছর (২০২০ সাল) সৌদি আরবে হজের দিন খতিব সাহেব যে খুৎবা দিয়েছেন, তা বাংলা ভাষাসহ ১০টি ভাষায় সাথে সাথে অনুবাদ হয়ে হাজিদের শুনানো হয়েছে। যার ফলে হজ করতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ভাষার হাজিদের হজের নিয়মাবলী এবং খুৎবার বিষয়বস্তু বুঝতে সহজ হয়েছে। আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সংস্কার এবছর হজের খুৎবার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, এজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।
আসলে সকল নবি রাসুল ও অলী-আল্লাহগণের জীবনেই মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা পরিলক্ষিত হয়। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মাতৃভূমিকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় বারবার মক্কার কাবা শরীফের দিকে লক্ষ্য করে বলেছেন, হে আমার জন্মভূমি! আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু আজ আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তোমার সন্তানরাই আমাকে হিজরত করতে বাধ্য করেছে।

হযরত রাসুল (সা.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানও মাতৃভাষা ও মাতৃভূমিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই তিনি দেশকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি এ দেশে তাঁর মাতৃভাষা বাংলায় জুমার খুৎবা চালু করেছেন। মাতৃভাষায় খুৎবা দানের গুরুত্ব তিনি বাঙ্গালী জাতিসহ বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন। আল্লাহর অপার দয়ায় বিলম্বে হলেও আজ সৌদি আরবের সরকারও এর গুরুত্ব অুনধাবন করতে পেরেছেন। ফলে এ বছর হজের খুৎবা আরবি ভাষার সাথে বাংলা ভাষাসহ মোট ১০টি ভাষায় শোনানো হয়েছে।

সুতরাং একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সংস্কারটিই আজ বিশ্বময় বাস্তবায়িত হয়েছে। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here