বানভাসি মা ও শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে

0
257

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় ধরলা নদী এবং ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় হাতিয়া ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের চরবাগুয়া গ্রামের ইয়াসমিন বেগম-আবু সাঈদ দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় যমজ ছেলে।

করোনা আর বন্যায় যমজ ছেলের জন্মের আনন্দ, কোরবানি ঈদ ম্লান করে দেয়। ইয়াসমিন বেগম বলেন, ঈদের আগে কোল আলো করে যমজ ছেলে এলেও আনন্দ করতে পারছি না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্বামীর জমানো টাকা খরচ হয়ে গেছে। তার হাতে কাজ নেই। চারদিকে বন্যার পানি । ঘরে পথ্য, ওষুধ কেনার টাকা নেই।

কোরবানির ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি গাবুরজান গুচ্ছগ্রামের আমিন-রাশেদা দম্পতি। তাদের ঘরেও দুই মাসের যমজ কন্যাসন্তান। করোনার কারণে আমিনের হাতে তেমন কাজকর্ম নেই। সপ্তাহ খানেকের বন্যায় পানিবন্দি রয়েছেন। নিজেদের এবং শিশুর খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রসূতি মা পুষ্টিকর খাবার খেতে না পারায় শিশুর দুধের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না।

একই গ্রামের রিকশাচালক মঞ্জু-খাদিজা বেগমের ঘরে সাত মাসের যমজ সন্তান। দিন এনে দিন খাওয়া এ পরিবারটিও করোনা এবং বন্যার কারণে দুচোখে ঘোর অন্ধকার দেখছেন। এমন দুর্যোগে শিশুদের খাবার বলতে চালের গুঁড়াই সম্বল। পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় প্রসূতি মা ও নবজাতক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোক্তার আলী বলেন, শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার একটি বড় কারণ অপুষ্টিতে ভোগা। এ কারণে এদের মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মতে, করোনা এবং বন্যায় সব থেকে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে গর্ভবতী মা ও নবজাতকরা। সরকারি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি শিশুখাদ্য বিতরণে জোর দেন তিনি।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিন বলেন, গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুর চিকিৎসা এবং তাদের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর রয়েছে।

কোভিড ১৯-এর বিপর্যয় এবং বন্যায় যোগাযোগের বেহাল অবস্থায় গর্ভবতী, প্রসূতি মা ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা, পুষ্টিকর খাবার ব্যাহত হচ্ছে। এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এ সমস্যার মধ্য দিয়েও বন্যাকবলিতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৫টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে বললেন সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান। (সংবাদ সূত্র: যুগান্তর)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here