বান্দার নামে নয়, আল্লাহর নামে কোরবানি করুন

1
390

-সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী


বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমি আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ দিতে পারিনা। সকলকেই নিয়ম মেনে চলতে হয়। এরকম পরিস্থিতির কারণে আপনাদেরকে সাক্ষাত দেওয়ার সুযোগ হয়নি এবং লকডাউনে থাকতে হচ্ছে। আপনারা যেমন আমাকে দেখতে আগ্রহী, আমিওতো আপনাদেরকে দেখতে চাই, আপনাদেরকে দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু নিয়ম মেনে চলার কারণে, সরকারি আইনের কারণে আমি আপনাদের সামনে আসতে পারি না।

তিনি গত ২৪ জুলাই, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমি আপনাদের সবার কাছে একটা নিয়ম বলে দিয়েছি মহামারি থেকে বাঁচার জন্য। এই খোদায়ি গজব থেকে বাঁচার জন্য সকাল সন্ধ্যা আপনারা মিলাদ শরীফ পড়েন আর মানত করে রাখেন। আল্লাহ্ চাইলে মানত ও মিলাদের মাধ্যমে এই গজব থেকে রক্ষা পাবেন। আল্লাহ্র দয়ায় যারা নিয়ম পালন করছেন, এখনো তারা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। সর্বকালের সর্বযুগে বালা মুসিবত ছিল, আছে, থাকবে। জলে ও স্থলে যত বিপর্যয় ঘটে সবকিছুই আমাদের কর্মফলের কারণেই হয়ে থাকে। আবার আল্লাহ্র কাছে কান্নাকাটি করলে আল্লাহ্ দয়া করে বিপদ থেকে মুক্তি দিয়ে দেন। সুতরাং যে নিয়ম পালন করতে বলেছি আপনারা সেই নিয়ম পালন করবেন। তাহলে আশা করি আপনারা আল্লাহ্র দয়া পাবেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার হজ শুরু হবে। কিন্তু বিশ্ব মুসলিম এবার হজে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। অল্পসংখ্যক লোক হজ করবে। এই হজটাও একটা ফরজ। আর এই হজ ফরজ ধনীদের উপর, গরিবদের উপরে নয়। যাদের ধন সম্পদ আছে, তারা সাধারণত ধর্মের ব্যাপারে উদাসীন থাকে, অমনোযোগী থাকে, সেই কারণে তাদের উপরে হজ ফরজ করা হয়েছে। হজে যখন যাবে, ইহরাম বেঁধে যাত্রা করতে হয়। ইহরামে এক টুকরা সাদা কাপড় পরে আরেক টুকরা সাদা কাপড় গায়ে দিয়ে মুর্দা সেজে যাত্রা করতে হয় এবং ইহরামের সময় মশা মাছিও মারা নিষেধ। এর পরেও যদি ভুল করে কোনো মশাও মেরে থাকে, তাহলে একটা দুম্বা জরিমানা দিতে হয়।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, ধর্মে ট্রেনিং কিভাবে করতে হয়, হযরত রাসুল (সা.) কি করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম কীভাবে কাজ করেছিলেন, ধনীরা সেগুলো দেখেন এবং শিখেন। পরবর্তীতে হাজিরা দেশে এসে তা আমল করেন। কিন্তু আমরা ধর্ম না জানার কারণে এটা হয়ে গেছে বিপরীত। আমরা হজে যাই এবং সোনা গয়না কিনে আনন্দ করে আসি। আমরা মনে করি আমাদের গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। আসলে হজের উদ্দেশ্য যদি আমরা না জানি, তাহলে হজ করে কি লাভ? উদ্দেশ্য হলো- মহামানবদের শিক্ষা নিজেরা পালন করতে শেখা। অতীতের মহামানবগণের শিক্ষা পালন করে এই জাতি উন্নত হয়েছে এবং আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হয়েছে। এখন সারা বিশ্বের মুসলমানেরা হজে যায় কিন্তু হজের মূল শিক্ষা গ্রহণ করে না।

তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) যখন পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন তখন শয়তান রাস্তায় ওয়াসওয়াসা দিচ্ছিল ইসমাঈল (আ.)-কে। তোমাকে তোমার পিতা জবাই করে দিবে। তখন ছেলে বাবাকে বলে, বাবা আমাকে শয়তান বলে, আপনি নাকি আমাকে জবাই করে ফেলবেন? তখন পিতাপুত্র দুইজনে মিলে একত্রিত হয়ে ছোটো ছোটো কংকর নিয়ে ঐ শয়তানের উপরে মারতে শুরু করে। তাই এখনো হাজিরা হজ করতে গিয়ে ঐখানে কংকর মারে।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, তারপর হাজিরা মিনা বাজারে গিয়ে কোরবানি দেয়। এখন কি আর মিনা বাজারে হযরত ইব্রাহীম (আ.) হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করবে? তারপরেও সকল মুসলমানেরা, যারা হাজির হয় ঐখানে গিয়ে তারা কোরবানি দেয়। কোরবানি দিয়ে তারা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আদর্শ পালন করে এবং সে অনুযায়ী চলার সিদ্ধান্ত নেয়।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আপনারা যারা বহির্বিশ্বে আশেকে রাসুলেরা আছেন, তারা তাদের সাথে মিল রেখে তাকবিরে তাশরিফ পাঠ করবেন। ৯ জিলহজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৩ জিলহজ সোমবার আছর পর্যন্ত তাকবীরে তাসরিফ পালন করবেন। এটা ওনাদের শিক্ষা। সুতরাং হজে গিয়ে অতীতের নবি-রাসুল যে পদ্ধতিতে হজ করেছেন, আমল করেছেন, ওনাদের সেই আমলটাকেই ঐখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এসে, নিজের জীবনে আমাদের নিজ দেশে এসে বাস্তবায়ন করতে হয়। এই শিক্ষাটা নেওয়ার জন্যই হজে যেতে হয়।

আমাদের দেশে আল্লাহ্র অলী-বন্ধুগণ আছেন। তাঁদের কাছে ঐখানের শিক্ষা পালন করতে হয়। হজে গিয়ে কেহ মাথায় টুপি পরে না, কেহ জুতা পায়ে দেয় না। সুতরাং খালি পায়ে খালি মাথায় হজ করতে হয়। আমাদের দেশেও মহামানবদের দরবার শরীফে গেলে খালি পায়ে খালি মাথায় যেতে হয়। এই শিক্ষাটা ঐখান থেকেই এসেছে। ধর্ম না জানার কারণে ঐ বিষয়টা কেহ সঠিকভাবে প্রচার করতে পারে না, আমাদের হাজিরাও সেটা অবগত নয়। সুতরাং যারা হজে যাবেন, হজের নিয়মগুলা দেখে আসবেন এবং দেশে এসে অলী-আল্লাহ্র দরবার শরীফে যাবেন এবং ওইভাবে নিয়ম পালন করবেন, তাহলেই আপনারা ফজিলতপূর্ণ হজের শিক্ষাটা আমল করতে পারবেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, ইসলামি বিধান মতো হজের পরের দিন কোরবানি। হজ বৃহস্পতিবার কোরবানি শুক্রবার। আমাদের দেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোরবানির ঈদ হবে শনিবারে। বাংলাদেশে কি কোনো জায়গায় হজ হয়? বৃহস্পতিবার যদি হজ হয়, হজের পরের দিন কোরবানি। তাহলে শনিবারে হবে কীভাবে? প্রতিবছর এই অজ্ঞ মুর্খদের পাল্লায় পড়ে আমরা সঠিক ইবাদত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ঐ মুর্খগুলো বলে- আমাদের দেশের আকাশে কোনো চাঁদ দেখা যায়নি। আমাদের দেশের আকাশের চাঁদে কি হবে? আমাদের কোরবানি তো হবে মক্কার কাবা শরীফের বিধান মোতাবেক। ওনারা যেভাবে হজ করে, কোরবানি করে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী হবে। ধর্মের অজ্ঞতা অর্থাৎ ধর্ম না জানার কারণে এই মুর্খদের হাতে ধর্ম ছেড়ে দিয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। সুতরাং সঠিকভাবে ধর্ম কর্ম পালন করবেন। সঠিক ধর্মটা আল্লাহ্র অলীগণ বুঝেন, তাঁরা সেই অনুয়ায়ী আমল করে থাকেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমাদের ধর্মের মধ্যে ভুল ব্যাখ্যা ঢুকানো হয়েছে, সেগুলো আমি সংস্কার করে দিয়েছি। এখনো করছি। যেমন হজের পরের দিন কোরবানি। আমাদের এখানে একটা গরু ৭ জনের পক্ষ থেকে কোরবানি করে, একজনের পক্ষ থেকেও গরু কোরবানি করে। আবার ছাগল বা মেষ হলে ১ জনের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া হয়। আমাদের এখানে কোরবানিটা করে ব্যক্তির নামে, অর্থাৎ পিতার নামে, পুত্রের নামে, মায়ের নামে ইত্যাদি। কিন্তু ব্যক্তির নামে কোরবানি করা কী জায়েজ আছে? হযরত ইব্রাহীম (আ.) পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে নিজের নামে কোরবানি করেছিলেন? তিনি করেছেন আল্লাহ্র নামে। আমাদের রাসুল (সা.) করেছেন আল্লাহ্র নামে। আমরা ধর্ম না জানার কারণে ব্যক্তির নামে কোরবানি করি। ব্যক্তির নামে কোরবানি করে মাংস খাওয়া কি জায়েজ আছে?

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, যারা কোরবানি দিবেন বলবেন, আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ্র নামে কোরবানি করলাম। নিয়মিত আমাদের তরিকার ওয়াজিফা আমল করবেন এবং যে বিষয়ে সমস্যা হয় দরবার শরীফে যোগাযোগ করে সেটার সমাধান নিবেন। আর কারো পথে চলবেন না, কথাও শুনবেন না। আমি যেই পদ্ধতি শিক্ষা দেই সেই ভাবেই কাজ করবেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, দরবার শরীফে ফোন করে যোগাযোগ করে আপনারা খোঁজ খবর নিবেন এবং আপনাদের খোঁজ খবর আমাদেরকে জানাবেন। তরিকার প্রচারের কাজ যে যেখানে আছেন, সেখান থেকে চালিয়ে যাবেন। আমাদের দরবারে কোনো ফেতনা, বিশৃঙ্খলা নেই। সাঈদুর রহমান বিশৃঙ্খলা করেছিল এবং বিপথগামীর মতো কাজ করেছে, তাই আমি তাকে দরবার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি। সে বিতাড়িত, সে বিপথগামী, তার সাথে কেউ যোগাযোগ করবেন না। আসুন রাব্বুল আলামিনের কাছে সাহায্য চাই, তিনি যেন আমাদেরকে দয়া করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টায় জুমার আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর অনুষ্ঠিত হয় জুমার নামাজ।

বাদ জুমা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করে মুনাজাত পরিচালনা করেন।
মাহ্ফিলে উপস্থিত ছিলেন সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) ও কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.)
অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।

1 COMMENT

  1. ar sonjoydas আলহামদুলিল্লাহ্, যুগের ইমাম, বীর মুক্তিযুদ্ধা, মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগীর মহামূল্যবান ও মহাগুরুত্বপূর্ণ বাণী মোবারক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here