বাসায় হবে অফিস, সাহায্য করবে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপস

0
209
স্মার্ট ব্যক্তিরা লকডাউনেও ব্যবসায়িক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ।

লুৎফুল্লাহিল মাজিদ পরাগ

মহামারি করোনার প্রভাবে লকডাউন পরিস্থিতি সারাবিশ্বের মানুষকে ঘরে বন্দি করে রেখেছে। স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি রয়েছে বন্ধ। এর মধ্যেও অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজ বাসা থেকেই চালিয়ে যাচ্ছেন ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে। এখন প্রায় সকলের বাসায়ই ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপ রয়েছে। স্মার্টফোন ছাড়াতো চলেই না। দেশে সকল মোবাইল অপারেটররাই ফোরজি সেবা দিচ্ছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দামও হাতের নাগালেই। সুতরাং চাইলেই আমরা আমাদের বেডরুম বা ড্রইং রুমকেই অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রক্ষা করতে পারি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক যোগাযোগ।

জেনে নিন স্মার্টফোনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য সেরা কিছু অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস –

১। জুম
জুম একটি ভিডিও কনফারেনসিং অ্যাপস। জুমের ফ্রি ভার্সনেই ১০০ জনকে যুক্ত করে ভিডিও কনফারেন্স করা যায়। লকডাউন পরিস্থিতিতে এই অ্যাপসটি প্লেস্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ব্যাপকভাবে ডাউনলোড করছেন। জুম একাধারে অনলাইনে মিটিং, ট্রেনিং ও টেকনিক্যাল সাপোর্টের ফিচার দিচ্ছে। মার্কেটিং ইভেন্টের জন্য দিচ্ছে ভিডিও ওয়েভিনার ফিচার। কোলাবোরেশন বিল্ডাপের জন্য কনফারেন্স রুমের ব্যবস্থা আছে। অত্যাধুনিক ফোন কলের ব্যবস্থা রয়েছে এই অ্যাপসে। মেসেজিং ও ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য রয়েছে চ্যাট সিস্টেম। ফ্রি একাউন্টে টানা ৪০ মিনিট ভিডিও কলের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া ছিল। এখন কোভিড-১৯ প্রভাবে লকডাউনে থাকা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের কথা ভেবে আনলিমিটেড করে দেওয়া হয়েছে। এখনই অ্যাপসটি ডাউনলোড করে নিজের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে পারেন। এটি অন্যতম সেরা নিরাপদ ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপস ।

২। গুগল হ্যাঙআউট
এটি একটি যোগাযোগ অ্যাপস যা গুগল ডেভেলপ করেছে। এটি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের পাশাপাশি মেসেজিং সেবাও দিবে। এই অ্যাপসটির মাধ্যমে লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিংও করা যাবে। চ্যাটের সময় ফ্রিতে রয়েছে ইমোজিং ও নানাধরনের ছবির ব্যবস্থা। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির এমনকি গ্রুপ ভিডিও কলের ফিচারও দিচ্ছে অ্যাপসটি। যেকোনো কনভারসেশনকে ভিডিও কলে রুপান্তরিত করে ১০ জনের সাথে ভিডিও কল করা যায় অ্যাপসটির মাধ্যমে। আর সরাসরি ভিডিও কলে সংযোগ করা যায় সর্বোচ্চ ২৫ জনকে।এটি অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ, ওএস প্লাটফর্মে ব্যবহার করা যায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে বসে অফিসের বস কিংবা সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় এটি হতে পারে সময়োপযোগী একটি অ্যাপস। অ্যাপসটি ব্যবহারের জন্য আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে জিমেইল দিয়েই লগ ইন করতে পারবেন। ডেক্সটপ ভার্সনের জন্য গুগল ক্রোম থেকে এক্সটেনশন যুক্ত করে নিতে হবে।

৩। গুগল মিট
অত্যন্ত নিরাপদ, সঠিক, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তা ফিচারযুক্ত একটি অ্যাপ হচ্ছে গুগল মিট। এটি অত্যন্ত দ্রুত, কার্যকর একটি অ্যাপ যা দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে লিংক শেয়ার করে ব্যবসায়িক মিটিং সম্পন্ন করা যায়। কারা কারা ভিডিও কলে সংযুক্ত হবে সেটার জন্য রয়েছে স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট। আপনি আগে থেকেই গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট দিনে মিটিং ফিক্সড করে রাখতে পারেন শুধু ডেট এলে ট্যাপ করলেই শুরু হবে মিটিং কার্যক্রম। একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জি-স্যুটস এর মাধ্যমে প্রতিটি গ্রুপ মিটিং এর সময় এই অ্যাপ একটি ডায়াল ইন ফোন নাম্বার ক্রিয়েট করে দেয়, ফলে ওয়াইফাই অথবা মোবাইল ডাটা না থাকলেও কলের মাধ্যমে মিটিং-এ সংযোগ হতে পারবেন। স্কাইপি ব্যবহার করে অন্যত্র আলাদা একটি মিটিং গুগল মিট এ হওয়া মিটিং-কে একসাথে যুক্ত করাতে পারবে এই অ্যাপ। কর্পোরেট ব্যক্তিদের জন্য এই লকডাউনের সময়ে এটিকে একটি আদর্শ অ্যাপ বলা যায় ।

৪। গো টু মিটিং
গো টু মিটিং একটি কনফারেন্সিং অ্যাপ। সবচেয়ে সহজে ভিডিও কনফারেন্স করার জন্য এটি ডেভেলপ করা। ই-মেইল এবং লিংক-এর মাধ্যমে একটি সিঙ্গেল ট্যাপ করেই কনফারেন্সে যোগ দেয়া যাবে। এটি ভার্চুয়াল হোয়াইট বোর্ড ফিচার প্রদান করে, ফলে এই অ্যাপসের মাধ্যমে মিটিং এ থাকা অবস্থায় প্রেজেন্টেশন মেকআপ এবং রিপোর্ট অর্থাৎ প্রেজেন্টার যা স্ক্রিনে শেয়ার করবে তাই দেখা যাবে। আপনি চাইলে আপনার স্মার্ট ওয়াচ দিয়েও কনফারেন্সে জয়েন, মিউট বা লিভ নিতে পারবেন। এর আছে মিটিং শিডিউলার যার ফলে অ্যাপটি আগে থেকেই নির্ধারিত মিটিং-এর এলার্ট প্রদান করবে। এর রয়েছে হ্যান্ড ওভার কন্ট্রোল সিস্টেম। ওয়ান ক্লিক রেকর্ডিং রয়েছে এই অ্যাপে। ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন শেয়ার করা যায়। যে সকল কোম্পানি তাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড একাধিক জায়গায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে পরিচালনা করে সে সকল কোম্পানির জন্য এই অ্যাপটি বেশ উপযোগী। এই মুহুর্তেও আপনি একই উদ্দেশ্যে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন।

৫। স্কাইপ ফর বিজনেস
স্কাইপ ফর বিজনেস কথা দিয়ে কথা রেখেছে। ব্যবহারকারীদের যা যা ফিচার দিতে চেয়েছিল তাই দিয়েছে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার এক জানালা খুলে দিয়েছে। স্কাইপ বিজনেস রেগুলার স্কাইপি থেকে অনেক বেশি সুবিধা দিয়ে থাকে। মাইক্রোসফটের নানা ফিচার এখন স্কাইপি ব্যবহারের সময় কাজে লাগানো যাবে। অফিস ৩৬০-এর পূর্ণ সুবিধা এখন স্কাইপি বিজনেস যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রাহকের সকল ডিজিটাল ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকতে পারে এই অ্যাপ। ভিডিও, অডিও, ওয়েববেজড কনফারেন্সিং-এ ২৫০ জন সহকর্মী একই সাথে যুক্ত করা ফিচার দিচ্ছে স্কাইপি বিজনেস ।

স্কাইপি বিজনেস সংযুক্ত রয়েছে মাইক্রোসফটের আউটলুক ক্যালেন্ডার। মিটিং শিডিউল তৈরীর জন্য যা খুবই উপযোগী। এর রয়েছে ওয়েব শিডিউলার যা আপকামিং মিটিংয়ের সামারি নোট সংরক্ষণ করবে। নির্দিষ্ট তারিখে এই ওয়েব শিডিউলার মিটিং এর সকল অংশগ্রহণকারীদের ইনভাইট করবে । যিনি মিটিং পরিচালনা করবেন তিনি চাইলেই যে কোনো মেম্বারকে মিউট কিংবা ব্লক করে রাখতে পারবেন। কাউকে কনফারেন্সে ইনভাইট করতে ভুলে গেলে কনফারেন্সে থেকেই আরেকজনকে পিং করে সংযোগ দেওয়া যাবে। কনফারেন্স বাতিল করে ইনভাইট করতে হবে না। কনফারেন্সিং স্ক্রিন ভিউ নিজের মতো করে সাজানোর সুবিধা আছে স্কাইপি বিজনেসে।

হোয়াইটবোর্ড টুলস এর মাধ্যমে আপনি চাইলে কোনো কিছু ইলাস্ট্রেট করতে পারেন। অর্থাৎ মিটিং-এ উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের সাথে কনটেন্ট শেয়ার করতে পারেন তাঁরা যেন দেখে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে। এমনকি ফিডব্যাক নিতে পুলও ক্রিয়েট করতে পারেন। প্রশ্ন ও উত্তরের ফিচারও রয়েছে স্কাইপি বিজনেসে।
এই অ্যাপসের আরো একটি সময়োপযোগী ও প্রো ফিচার হলো আপনি কনফারেন্স মিস করলেও স্কাইপি আপনার জন্য ভিডিও, অডিও, হোয়াইটবোর্ড-সহ সকল কিছু রেকর্ড রাখবে। যা আপনি পরেও দেখে নিতে পারবেন। ভিডিও দেখার সময় আপনি রেজুলুশনও ঠিক করে দিতে পারবেন। অনেক ফিচারযুক্ত স্কাইপি বিজনেসের সক্ষমতা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার উপযোগী কেননা সকল শ্রেনী পেশার মানুষ এখন ঘরে বন্দি । এই কঠিন মুহূর্তে নিজেদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখতে স্কাইপি বিজনেস হতে পারে আদর্শ একটি যোগাযোগ মাধ্যম।

৬। সিসকো ওয়েবএক্স
এটি সিসকো সিস্টেম এর ডেভেলপ করা একটি অ্যাপ। উল্লিখিত অন্যান্য ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ এর মতো এটিও একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ও সুবিধা সম্বলিত অ্যাপ। যা অনেক দূরত্বে একাধিক লোকেশনে অবস্থান করেও খুবই গতিসম্পন্ন যোগাযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করে ।

বিজনেস মিটিং, কনফারেন্স, ইভেন্ট ইত্যাদির ফিচার যুক্ত আছে এই অ্যাপে। এটি ওয়েবেও ভিডিও কনফারেন্স করার সুবিধা দেয়। আছে ওয়েবিনারস-এর সুবিধা। সহজে ফাইল শেয়ারিং, কল শেয়ারিং, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট শেয়ারিং সুবিধা রয়েছে। এতে রয়েছে চ্যাট ও ব্রেইনস্টর্মিং টুলস। লকডাউনে থাকা উচ্চপদস্ত চাকুরীজীবীদের তাদের সহকর্মীদের সাথে বা ব্যবসায়ীদের তাদের বিভিন্ন শাখা ও পার্টনারদের সাথে যোগাযোগের ভালো মাধ্যম হতে পারে এই সিসকো ওয়েবএক্স।

প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। ঘরে বসে স্মার্টফোনে এমনকি স্মার্টওয়াচ হতেই সেরে ফেলা যায় অফিসের কাজ। অ্যাপসগুলোর যেটা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, সেটা ট্রাই করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here