বাড়ছে মাছ চাষ, কমছে কৃষিজমি

0
33


রাজশাহী সংবাদদাতা: রাজশাহীতে কয়েক বছরে মাছ চাষ কয়েক গুণ বেড়েছে। কৃষিজমি কমেছে ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি। কৃষিজমির একটি বড় অংশ চলে গেছে বাণিজ্যিক পুকুর খননে। মাছ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষিজমিতে পুকুর খনন করছেন মালিকরা।


মাছের উৎপাদন বাড়ায় সাফল্য হিসেবে দেখছে মৎস্য দফতর। তবে কৃষি দফতর বলছে, বাণিজ্যিক এসব পুকুর খনন হয়েছে আবাদি জমিতেই। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননে জলাবদ্ধতায় প্রতি বছরই ব্যাপক ফসলহানি হচ্ছে। চাপও বাড়ছে পরিবেশের ওপর। রাজশাহী মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, ২০১৭ সালে জেলায় পুকুরের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ২৯৪ হেক্টর। এর মধ্যে বাণিজ্যিক মাছের খামার ছিল ৩ হাজার ৪৬২ হেক্টর জমিতে। ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক খামার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩০৯ হেক্টরে। ২০২১ সালে ১৩ হাজার ১৫০ একর জমিতে বাণিজ্যিক মাছের খামার হয়েছে ৪৩ হাজার ১৯৬টি। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, জেলায় মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩১ হেক্টর। আবাদযোগ্য জমি আছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৮ হেক্টর। আট বছরে নতুন ৫ হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। ফলে কয়েক বছরে পুকুরসহ অন্যান্য কারণে শুধু জেলায় ফসলি জমি কমেছে ১৫ হাজার হেক্টর।


কয়েক বছর ধরেই গোদাগাড়ী, পবা, তানোর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, মোহনপুর, বাঘা ও চারঘাট এলাকায় ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম মহসিন বলেন, ‘কোন এলাকায় কতগুলো পুকুরের প্রয়োজন আছে এবং পরিবেশের ওপর সেগুলোর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেসব বিবেচনা না করেই যথেচ্ছভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এসব অপরিকল্পিত পুকুরে কৃষকদের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে পড়ছে।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) রাজশাহী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী তন্ময় সান্যাল বলেন, ভূমি ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনগুলোতে ভূমির ধরন রূপান্তর করা নিষিদ্ধ। তাছাড়াও ২০১৩ সালের বাংলাদেশ পানি আইনে প্রাকৃতিক জলাশয়ের প্রবাহকে বাধা দেওয়া কঠোরভাবে নিষেধ করা আছে। কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের খসড়া, যেখানে পরিষ্কারভাবে কৃষিজমি রূপান্তরে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ আছে, সেটি এখনো পূর্ণতা পায়নি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কে জে এম আবদুল আওয়াল বলেন, ‘জেলায় কয়েক বছরে পুকুরের কারণে অনেক ধানি জমি কমেছে। তবে সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও পুকুরগুলো কীভাবে খনন করা হচ্ছে, সেটি বলতে পারব না।’ রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলোক কুমার সাহা বলেন, ‘কয়েক বছরে রাজশাহীতে প্রায় দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন বেড়েছে। ১০ বছরের মধ্যে পুকুরও বেড়েছে কয়েক গুণ। মাছ চাষ করে অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। মাছ চাষের জন্য চাষিদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে জেলায় মাছ এখন উদ্বৃত্ত থাকছে। যা দেশের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের বাইরে রপ্তানি করে বিপুল অর্থ আয় হচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here