বিধিনিষেধ কার্যকর শুরু

0
32

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এরই মধ্যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই বিধিনিষেধের আওতায় উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে বের হলেই প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম না মানলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। গত সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে আগামী শনিবার থেকে। তবে এর জন্য গণপরিবহনে ভাড়া বাড়বে না।


দেশে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ গত কয়েক মাসের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই বিধিনিষেধ এলো। তবে দেশে এখনই লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তা জানান।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিধিনিষেধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর থাকবে। মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই তাৎক্ষণিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে হোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও।


বিধিনিষেধ চলাকালে মানতে হবে ১১ দফা নির্দেশনা-


১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। অন্যথায় সম্মুখীন হতে হবে আইনানুগ শাস্তির।


২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারাদেশে পরিচালনা করতে হবে মোবাইল কোর্ট।

৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকা গ্রহণের সনদ দেখাতে হবে।


৪. ১২ বছরের ওপরে সব ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।


৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরগুলোয় স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সমুদ্রবন্দরগুলোয় ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে থাকবে নিষেধাজ্ঞা। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালক থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।


৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে মোট আসনের অর্ধেকসংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।

৭. বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক টিকা সনদ প্রদর্শন ও র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করতে হবে।


৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরার বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সচেতন করবেন। ডিসি ও ইউএনওরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৯. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে তারা সহায়তা গ্রহণ করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের।


১০. উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।


১১. কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here