বিধিনিষেধ সত্ত্বেও রাজধানী ছাড়ছে মানুষ

0
231
ঈদ উদযাপনে করোনার ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরা ।

অনলাইন ডেস্ক: বিধিনিষেধ সত্ত্বেও রাজধানী ঢাকা ছাড়তে মরিয়া সাধারণ মানুষ। নির্দেশনা মানছে না কেউই। তাদের আটকাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনেক গাড়ি রাজধানীর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবু থেমে নেই ঈদযাত্রা। ফেরি বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার, স্পিডবোট বা নৌকায় পদ্মা পার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজধানীর প্রবেশমুখে পুলিশ চৌকি বসানো হলেও বিকল্প পদ্ধতিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। পথে পথে কড়াকড়ি সত্যেও গত বুধবার বিপুলসংখ্যক লোক ঢাকা ছেড়েছে। কেউ কেউ মাঝপথে আটকাও পড়েছে। এ নিয়ে পথে পথে নানা দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, ইজিবাইক, বেবিট্যাক্সিসহ নানা ধরনের বাহনে করে ঢাকার প্রবেশমুখের বাইরে থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ যেভাবে ঢাকা ছাড়ছে তাতে গ্রাম পর্যায়েও ব্যাপক মাত্রায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। যে করেই হোক মানুষকে আটকাতে হবে। নিজ বাসস্থানে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাজধানীতে প্রবেশ এবং বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। ঈদ উপলক্ষে যদি যাতায়াত বাড়ে তাহলে সর্বনাশের আর কিছু বাকি থাকবে না। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরেও একইভাবে লকডাউন জারি রাখতে হবে। সুস্থ থাকতে চাইলে এ বছর যেখানে অবস্থান করছেন সেখানেই ঈদ করুন।’ অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় ঈদের দু-এক দিন আগে কড়াকড়ি হবে জেনে অনেকে আগেভাগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন না থাকলেও কোনো না কোনো উপায়ে ঠিকই পরিবারের কাছে ফেরার পথ খুঁজছে মানুষ। কেউ কেউ কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করে ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি ভাড়া করছে। কেউ আবার স্থানীয় নানা পরিবহনব্যবস্থার সাহায্যে ফিরছে পরিবারের কাছে। মধ্যরাতে লক্কড়ঝক্কড় বাস রিজার্ভ করেও অনেকেই বাড়ির উদ্দেশে ছুটে যাচ্ছে। যাত্রীরা বলছে, পুরো রাস্তায় সিএনজি, লেগুনাসহ কয়েক ধরনের পরিবহন ব্যবহার করতে হয় তাদের। আর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে অবলম্বন করতে হয় বিভিন্ন পন্থা।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে অনেক গাড়ি আটক করেছে এবং অনেক মানুষ ফেরত পাঠিয়েছে। তবু এ প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের মাওনা থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, প্রতিদিন তারা বহু গাড়ি আটক করছেন এবং ফেরত পাঠাচ্ছেন। তবু মানুষকে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা যাচ্ছে না। ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে ফেরত এলো ফেরি : ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন।

করোনা সংক্রমণ এড়াতে সারা দেশে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবু নানা কৌশলে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী পারাপার অব্যাহত রেখেছে পাটুরিয়া ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের কার্যকর তদারকিতে এবার যাত্রীবোঝাই ফেরি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নোঙর করতে দেয়নি ঘাট কর্তৃপক্ষ। অনেকটা বাধ্য হয়েই ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফেরত এলো ‘ঢাকা’ নামের ছোট একটি ফেরি। বুধবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সরেজমিন পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, যাত্রীর চাপ রুখতে বেশির ভাগ ফেরি বন্ধ রয়েছে। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য দুটি ফেরি সচল রয়েছে। ওই ফেরিগুলো ঘাট এলাকায় এলে তাড়াহুড়া করে যাত্রীরা উঠে যায় বলে জানান তিনি। মানিকগঞ্জের শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা জানান, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ায় যাত্রী নিয়ে ফেরত আসা ফেরির যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই যাত্রীদের বাসযোগে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী চলাচল করছে। এতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিরা করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ছাড়া ফেরি বন্ধের নির্দেশনাও রয়েছে। যে কারণে যাত্রীবোঝাই ওই ফেরিটি ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here