বিশ্বে প্রথম করোনার টিকা তৈরির দাবি রাশিয়ার

0
430

অনলাইন ডেস্ক: সব দেশকে পেছনে ফেলে মহামারি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করল রাশিয়া। গত বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া বিশ্বের প্রথম করোনা ভাইরাস টিকা উদ্ভাবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দুই মাস ধরে মানুষের ওপর পরীক্ষা করার পর সেটির ব্যবহারিক প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট পুতিনের এক মেয়ের শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এটা নিরাপদ কি না, সেটি যাচাই করতে হবে।

এর আগে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নানা ধরনের সন্দেহ প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন মেনে চলার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো ঘোষণা করেছেন, এই ভ্যাকসিন খুবই কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে। পুতিন বলেছেন, এই ভ্যাকসিন প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেছেন, কয়েক হাজার মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল অব্যাহত থাকবে। পুতিন এই ভ্যাকসিনের গণ-উৎপাদন চান। তিনি জানান, তার এক কন্যা এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করেছেন এবং শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার পর তিনি পুরো সুস্থ বোধ করেছেন। পুতিন বলেন, ‘আমি আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে আমরা ঐ টিকার বিপুল উৎপাদন করতে পারব এবং তা খুবই প্রয়োজনীয়।’ টিকা আবিষ্কারকে গোটা দুনিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও ব্যাখ্যা করেন পুতিন।

রাশিয়ার গামালেয়া ইনস্টিটিউট ও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে টিকা। রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক জানায়, গত ১৮ জুন ৩৮ জনের ওপর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছিল। তাদের সবার মধ্যেই করোনাকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা জন্মায় বলেও রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি। এই টিকা গবেষণায় অর্থ দিয়েছে রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)। এর প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, টিকার ফেজ থ্রি ট্রায়াল শুরু হবে বুধবার থেকে। তার দাবি, ঐ টিকা গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। ইতিমধ্যে ২০টি দেশ ঐ টিকার মোট ১০০ কোটি ডোজের চাহিদার কথাও তাদের জানিয়েছে বলে দাবি দিমিত্রিয়েভের। তিনি বলেছেন, রাশিয়া বিভিন্ন বৈদেশিক অংশীদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাঁচটি দেশে প্রতি বছরে ঐ টিকার মোট ৫০ কোটি ডোজ উৎপাদন করতেও প্রস্তুত। সেপ্টেম্বর থেকেই রাশিয়ায় ঐ টিকা তৈরি করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মিখাইল মুরাশকো জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতার জন্য দুই ধাপে টিকাটি নিতে হবে। তার মতে, এর ফলে করোনা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা শরীরে দুই বছর পর্যন্ত থাকবে। স্পুটনিক জানায়, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ঐ টিকা জনসাধারণকে দেওয়া হতে পারে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তারিক জাসারেভিক গতকাল জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘টিকার বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। রাশিয়ার এই টিকা কতটা নিরাপদ সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
এটা যেন বিশ্বজয়ের আনন্দ

রাশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, রাশিয়ার মানুষের মধ্যে যেন অন্য রকম এক বিজয়ের উৎসব। করোনা মহামারি ঘিরে বিশ্বব্যাপী মানুষ যখন তাকিয়ে আছে বিপদ থেকে মুক্তির আশায়, ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারে যখন বহু দেশ কাজ করছে মরিয়া হয়ে, ঠিক তখনই সবার আগে বিশ্বকে নতুন এক আশার আলো দেখিয়ে রাশিয়া আবিষ্কার করে ফেলল করোনার ভ্যাকসিন ‘স্পুৎনিক-ভি’। যেন এটা শুধু রাশিয়ার বিজয়ই নয়, পুরো বিশ্বজয়ের এক আনন্দে ভাসছে রাশিয়াবাসী।

শুধু রাশিয়ান জনগণের নয়, আমরা যারা প্রবাসীরা আছি তাদের মধ্যেও এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বিষয়টি বেশ উৎসাহ জুগিয়েছে। আমরা আশায় আছি কবে নাগাদ এই ভ্যাকসিনের সুযোগ পাব সে জন্য। এ জন্যই আমরা এই ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে আছি অধীর আগ্রহ নিয়ে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, রাশিয়ান সরকার ও বিজ্ঞানীরা আমাদের যে আশার আলো দেখিয়েছেন তা শেষ পর্যন্ত সত্য হবে। অর্থাৎ তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত যে সাফল্য এসেছে, সেটা অক্ষুণ্ন থাকবে বলেই সবাই বিশ্বাস করে। আপাতত সীমিত পরিসরে এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হলেও এটি সারা বিশ্বে মানুষকে করোনামুক্ত করতে কাজে আসবে বলেই সবার মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here